

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আমরা জানি জাতীয় উন্নয়নের সঙ্গে দেশের মালিক সর্বস্তরের জনগণ ও রাজনীতিকরা সরাসরি প্রধানত সম্পৃক্ত। সাংবাদিকরা কতখানি সেই উন্নয়ন কর্মকান্ডে জড়িত তা সচরাচর আলোচনায় না আসলেও উন্নয়ন কর্মযজ্ঞে তারাই সবচেয়ে অগ্রবর্তী এতে কোন সন্দেহ নেই।
বস্তুতপক্ষে জাতীয় উন্নয়নে সমাজের অপরাপর অংশের মানুষের পাশাপাশি সাংবাদিকদেরও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল, আছে এবং থাকবে। জাতির বিবেক হিসেবে তাদের দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হয়।
সমাজের কোন শ্রেণী-পেশার মানুষ বিশেষ করে রাজনৈতিক নেতৃত্বের কোন বিচ্যুতি ও স্খলন কোনভাবে দেখা দিলে তাদের সঠিক পথ দেখিয়ে দেয়ার জন্য কলমসৈনিকদের তাদের নিজ নিজ অবস্থান থেকে এগিয়ে আসতে হয়।
জাতিকে সর্বোতভাবে পথ নির্দেশনা দেয়ার দায়িত্ব সর্বদাই রাজনৈতিক নেতারাই পালন করে থাকেন। তবুও অন্ধকারচ্ছন্ন পরিস্থিতিতে কোনটি সঠিক পথ তা দেখিয়ে দিতে হয়।
অনেকটা সহযোগী শক্তি হিসেবে। এই জন্য হয়তো সংবাদপত্রকে রাষ্ট্রের চতুর্থ রাষ্ট্র বলা হয়ে থাকে । প্রশাসন, আইন ও বিচার বিভাগের পর এর স্থান।
বাংলাদেশের বিবর্তনের ধারাবাহিকতায় বিশেষ করে আমাদের প্রিয় মাতৃভূমি স্বাধীনতা লাভের ৪৫ বছর পর দেশগঠনের অর্থাৎ জাতীয় উন্নয়নে সংবাদিকদের পেশাগত অবস্থান থেকে যথেষ্ট কাজ করার অবকাশ রয়েছে। চাটুকারিতা আর সস্তা প্রশংসার পথ না ধরেও এ কাজ করা যায়।
সাদাকে সাদা আর কালোকে কালো বলাতে কেউ রুষ্ট হলেও ব্যাপক জনগণ তাতে খুশি হবেন এবং তারা আপনার পাশে দাঁড়াবেন তাতে কোন সন্দেহ নেই ।
এ কারণে সরকার কিংবা রাজনীতিবিদদের তোষণ না করে তাদের অনুসৃত ভুল পলিসি কিংবা কোন অন্যায় ও অনিয়মের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা সাংবাদিকদের নৈতিক দায়িত্ব।
এক্ষেত্রে চুপ থাকা কিংবা নীরবে হজম করা এক ধরণের অনৈতিকতা। নৈতিক বল, দেশপ্রেম যেমন রাজনীতিবিদদের প্রয়োজনীয় গুণাবলী তেমনি তা সাংবাদিকদের ক্ষেত্রেও অত্যন্ত প্রয়োজনীয় বিষয়।
বৃটিশ ভারতে ইংরেজদের বিরুদ্ধে এ পথ ধরেই তুমুল আন্দোলন ও সংগ্রাম গড়ে উঠেছিল এবং সেই সংগামের সিঁড়ি বেয়েই আমরা সংগ্রামে জয়ী হয়ে ছিলাম। একাত্তুরের মহান মুক্তিযুদ্ধেও সেই ধারাবাহিকতা আমাদের লাল-সবুজের পতাকা ছিনিয়ে আনতে সাহায্য করেছিল সক্রিয়ভাবে।
পাকিস্তানী দু:শাসনের শৃঙ্খল ছিঁড়তে সাংবাদিকদের কম অবদান রাখতে হয় নি। সে সময় জাতিকে সঠিক পথ দেখিয়েছিলেন বলে তাদেরকে বিজয়ের পূর্বলগ্নে ১৯৭১ সালের ১৪ ডিসেম্বর খুঁজে খুঁজে বন্দুকের বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে নৃশংসভবে খুনকরা হয়।
আমরা সকলে জানি সাংবাদিকরা কখনই অন্যায়ের কাছে মাথা নত করে নি এবং করে না। স্বাধীন বাংলাদেশে নব্বুইয়ের গণ অভুত্থানেও সাংবাদিক সমাজ ঐক্যবদ্ধভাবে ঝাঁপিয়ে পড়ায় জাতীয় রাজনৈতিক আন্দোলন দুর্বার গতি লাভ করে এবং লক্ষ্য অর্জনে সমর্থ হয়।
এক কথায় ৫২এর ভাষা আন্দোলন, চুয়ান্নর জাতীয় নির্বাচন, ৬ দফা আন্দোলন আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা প্রত্যাহারের লক্ষে গড়ে উঠা আন্দোলন, ঊনসত্তুরের গণঅভূত্থান, সত্তুরের জাতীয় নির্বাচন, একাত্তুরের মহান মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তীতে জুলাই গণআন্দোলনে সাংবাদিক সমাজ গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখেন।
পরিশেষে আজ আমরা অনেকটা অবক্ষয়ের ঘনকুয়াশায় নিমজ্জিত। সেখান থেকে আমাদের অবিলম্বে ঘুরে দাঁড়াতে হবে। বিশ্বময় বৈষয়িক উন্নতি, সমৃদ্ধি ও অগ্রগতির যে জোয়ার বইছে সেই জোয়ারে আমাদের যথাযথভাবে অবগাহন করতে হলে কয়েকটি জাতীয় ইস্যুতে জাতীয় ঐকমত্য সৃষ্টি করতে হবে।
এগুলো হচ্ছে : জঙ্গিবাদ ও সন্ত্রাসবাদ, দুর্নীতি, পররাষ্ট্রনীতি, গণতন্ত্র, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন, জাতীয় পোশাক ইত্যাদি।
সংগ্রামের সময় যাতে নিজেদের মধ্যে কোন বিতর্ক কিংবা ঝগড়া-বিবাদের অবতারণা না ঘটে সেজন্য এই ইস্যুগুলোতে আগেভাইে নিস্পত্তি হওয়া প্রয়োজন।
এই নিমিত্ত বরেণ্য বুদ্দিজীবীদের মধ্যস্থতায় জাতীয় সংলাপের আয়োজন করা যেতে পারে। আজকের তরুন সমাজ চায় জাতীয় জীবনে দুর্ভেদ্য জাতীয় ঐক্য।
সেই ঐক্য থেকে মুখ ফেরানোর কোন ছল-চাতুরি ও ষড়যন্ত্র কোন কাজে লাগবে না । কাজেই কান্ডারি হুঁশিয়ার।
লেখক: সিনিয়র সাংবাদিক ও কলামিস্ট
মন্তব্য করুন
