

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচনে বিএনপি সমর্থিত ছাত্রদলের প্রার্থীদের জন্য শুভকামনা জানিয়ে ফেসবুকে পোস্ট করায় ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর থানার ওসি মোজাফ্ফর হোসেনকে ঘিরে বিতর্ক তৈরি হয়েছে।
তার দেয়া পোস্টকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলছে ব্যাপক সমালোচনা।
জানা যায়, মঙ্গলবার (৯ সেপ্টেম্বর) রাত ২টার দিকে নিজের ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে তিনি একটি ডিজিটাল কার্ড পোস্ট করেন। কার্ডে লেখা ছিল— ২১, ১৭, ০৮।
এগুলো ডাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল সমর্থিত তিন গুরুত্বপূর্ণ পদের প্রার্থীদের ব্যালট নম্বর। ক্যাপশনে তিনি লিখেন— “মেধাবীদের জন্য শুভকামনা।”
প্রার্থীরা হলেন— ভিপি পদে ২১ নম্বরে আবিদুল ইসলাম আবিদ, জিএস পদে ১৭ নম্বরে তানভীর বারী হামিম এবং এজিএস পদে ৮ নম্বরে তানভির আল হাদী মায়েদ।
পোস্টটি প্রকাশ্যে আসার পর সাধারণ মানুষ থেকে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ পর্যন্ত ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানাতে শুরু করেন। তাদের মতে, দায়িত্বশীল পদে থেকে এভাবে রাজনৈতিক পক্ষপাত প্রদর্শন অনভিপ্রেত এবং তা প্রশাসনের নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তোলে।
অনেকেই সামাজিকমাধ্যমে মন্তব্য করেন, একজন সরকারি কর্মকর্তার কাজ হলো নিরপেক্ষ থাকা। অথচ ওসি সরাসরি এক পক্ষের প্রতি সমর্থন জানিয়ে প্রশাসনিক আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন।
ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির মোহাম্মদ মোবারক হোসাইন বলেন, “একজন ওসি যদি প্রকাশ্যে কোনো দলের পক্ষে অবস্থান নেন, তা উদ্বেগজনক। এতে পুলিশের প্রতি সাধারণ মানুষের আস্থা ক্ষুণ্ণ হবে।”
এনসিপি’র কেন্দ্রীয় নেতারাও আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, থানার একজন কর্মকর্তা জাতীয় নির্বাচনের আগমুহূর্তে যদি এমন ভূমিকা রাখেন, তা ভবিষ্যতে আরও অনিয়মের ইঙ্গিত বহন করে।
তবে ওসি মোজাফ্ফর হোসেন দাবি করেন, তার ফেসবুক অ্যাকাউন্ট হ্যাক হয়েছিল এবং তিনি নিজে পোস্টটি দেননি। এ নিয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন বলেও জানান।
তবে পোস্টটি দীর্ঘ সময় ধরে দৃশ্যমান ছিল এবং পরে মুছে ফেলা হয়। ততক্ষণে স্ক্রিনশট ছড়িয়ে পড়ায় বিষয়টি ভাইরাল হয়ে যায়।
ঘটনার পর এখনো সংশ্লিষ্ট প্রশাসন কিংবা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
মন্তব্য করুন
