

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশিষ্ট শিশুসাহিত্যিক ও চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান আমীরুল ইসলাম আমীরুল ইসলাম মারা গেছেন (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। মৃত্যুকালে তার বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাত ১টা ৭ মিনিটে তিনি মারা যান। এর আগে আমীরুল ইসলামের লাইফ সাপোর্ট খুলে নেওয়া হয়।
কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় গুরুতর অসুস্থ হয়ে গত রোববার হাসপাতালে ভর্তি হন আমীরুল ইসলাম। শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে ওই দিন রাত ৩টার দিকে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এরপর বুধবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানিয়েছিল, তার শারীরিক অবস্থার কোনো উন্নতি হয়নি।
দীর্ঘদিন ধরে কিডনির জটিলতায় ভুগছিলেন আমীরুল ইসলাম। কিডনি ঠিকমতো কাজ না করায় তাকে নিয়মিত ডায়ালাইসিস নিতে হতো। শেষ পর্যন্ত গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন তিনি।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। দীর্ঘ সাহিত্যজীবনে শিশুদের জন্য গল্প, ছড়া, কবিতা ও নানা ধরনের সৃজনশীল লেখা লিখেছেন তিনি। তার প্রকাশিত গ্রন্থের সংখ্যা দুই শতাধিক। প্রকাশিত বইগুলোর অধিকাংশই শিশুসাহিত্যনির্ভর।
শিশুসাহিত্যে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন আমীরুল ইসলাম। এ ছাড়া দেশ-বিদেশের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পুরস্কার ও সম্মাননাও পেয়েছেন তিনি।
শিশুদের কল্পনাজগৎ, আনন্দ-বেদনা ও চারপাশের জীবনকে সাহিত্যে সহজ ও প্রাণবন্তভাবে তুলে ধরার মাধ্যমে তিনি বাংলা শিশুসাহিত্যে নিজের স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেন।
সাহিত্যচর্চার পাশাপাশি দীর্ঘদিন ধরে চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগে গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন আমীরুল ইসলাম। অনুষ্ঠান নির্মাণ, পরিকল্পনা ও ব্যবস্থাপনায় তার দীর্ঘ অভিজ্ঞতা ছিল। চ্যানেল আইয়ের বিভিন্ন অনুষ্ঠান ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রমে তার গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা ছিল।
তার মৃত্যুতে চ্যানেল আইয়ের সহকর্মীদের মধ্যে নেমে এসেছে গভীর শোক। শোক জানিয়েছেন সাহিত্যিক, সংস্কৃতিকর্মীসহ তার দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা।
একজন সৃজনশীল শিশুসাহিত্যিক হিসেবে শিশু-কিশোরদের জন্য বিপুল সাহিত্যকর্ম রেখে গেছেন আমীরুল ইসলাম। একই সঙ্গে গণমাধ্যম ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও তার দীর্ঘ কর্মজীবনের স্মৃতি হয়ে থাকবে।



