রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২২ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কে সাংস্কৃতিক ঐক্যই সম্প্রীতির বড় শক্তি: সংস্কৃতিমন্ত্রী

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৩:৫৩ পিএম
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী ও ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী। ছবি: সংগৃহীত
expand

বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সম্পর্ক নয়, এটি আত্মার সম্পর্ক বলে মন্তব্য করেছেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী। তিনি বলেছেন, দুই দেশের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের গভীর সেতুবন্ধনই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।

রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাতে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রায় এক ঘণ্টার বৈঠকে দুই দেশের ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিক বন্ধন, নজরুল বর্ষ উদযাপন, শিল্পী ও গবেষক বিনিময়, ধ্রুপদি সংগীত, লোকসংস্কৃতি, তরুণ প্রতিভা বিকাশ এবং সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে যৌথ উদ্যোগ নিয়ে আলোচনা হয়।

বৈঠকে সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম ও সচিব ইয়াসমিন বেগম উপস্থিত ছিলেন।

নিতাই রায় চৌধুরী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক কেবল প্রতিবেশী রাষ্ট্রের নয়, এটি আত্মার সম্পর্ক। দুই দেশের মানুষের ভাষা, সাহিত্য, সংগীত, লোকঐতিহ্য ও মানবিক মূল্যবোধের মধ্যে যে গভীর সেতুবন্ধন রয়েছে, সেটিই দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের সবচেয়ে শক্তিশালী ভিত্তি।’

তিনি আরও বলেন, ‘জাতির প্রকৃত পরিচয় তার সংস্কৃতি। সংস্কৃতি মানুষকে বিভক্ত নয়, বরং ঐক্যবদ্ধ করে।’

দুই দেশের মানুষের ওপর শিল্প ও সংস্কৃতির প্রভাব তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, মোহাম্মদ রফি, হেমন্ত মুখোপাধ্যায়, অলকা ইয়াগনিক ও পণ্ডিত রবিশঙ্করের শিল্পকর্ম বাংলাদেশ ও ভারতের কোটি মানুষের হৃদয়ে সমানভাবে অনুরণিত হয়েছে। তাঁদের সৃষ্টিশীল অবদান প্রমাণ করে, শিল্প ও সংস্কৃতি সীমান্তের গণ্ডি অতিক্রম করে মানুষের হৃদয়ের ভাষায় কথা বলে।

চলমান নজরুল বর্ষ উপলক্ষে বাংলাদেশে আয়োজিত জাতীয় ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন অনুষ্ঠানে ভারতের খ্যাতিমান নজরুল গবেষক, শিল্পী ও সংস্কৃতিবিদদের অংশগ্রহণের জন্য আনুষ্ঠানিক আমন্ত্রণ জানান নিতাই রায় চৌধুরী। একই সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, কাজী নজরুল ইসলাম, লালন শাহ ও বাংলা লোকসংগীতকে দুই দেশের অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি।

ধর্মীয় উগ্রবাদ, অসহিষ্ণুতা ও সাম্প্রদায়িক বিভাজনের বিরুদ্ধে সাংস্কৃতিক জাগরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী বলেন, সাহিত্য, সংগীত, নাটক ও লোকসংস্কৃতির মাধ্যমে মানবিক মূল্যবোধ ও সম্প্রীতির চর্চা জোরদার করা প্রয়োজন। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও ভারতের সম্মিলিত উদ্যোগ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।

সাক্ষাতে দুই দেশের মধ্যে একটি ধ্রুপদি সংগীত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার প্রস্তাব দেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম। প্রাথমিকভাবে ভারত থেকে দুজন ধ্রুপদি শিল্পীকে আমন্ত্রণ জানিয়ে বাংলাদেশে কর্মশালা আয়োজনের প্রস্তাবও দেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সহযোগিতা চুক্তি নবায়নের মাধ্যমে নতুন কর্মপরিকল্পনা গ্রহণের আহ্বান জানান।

ভারতীয় হাইকমিশনার দীনেশ ত্রিবেদী বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক আত্মার সম্পর্ক। খাদ্যাভ্যাস, ভাষা, ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতির বহু ক্ষেত্রে আমাদের গভীর অভিন্নতা রয়েছে।’

বাংলাদেশকে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি, সংগীত ও সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের দেশ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। কাজী নজরুল ইসলামের জন্মস্থান পশ্চিমবঙ্গের চুরুলিয়ায় আরও বড় পরিসরে আন্তর্জাতিক মানের অনুষ্ঠান আয়োজনে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন হাইকমিশনার। একই সঙ্গে ওই আয়োজনে ব্যক্তিগতভাবে উপস্থিত থাকার ইচ্ছা প্রকাশ করেন তিনি।

পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিয়মিত যৌথ অনুষ্ঠান আয়োজনের ওপরও গুরুত্ব দেন দীনেশ ত্রিবেদী। তিনি বলেন, দুই দেশের তরুণ প্রতিভাবানদের জন্য যৌথ প্রশিক্ষণ, রেসিডেন্সি প্রোগ্রাম ও সাংস্কৃতিক বিনিময় কার্যক্রম চালু করা গেলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক বোঝাপড়া আরও সুদৃঢ় হবে।

এ ছাড়া বঙ্গোপসাগরকে কেন্দ্র করে সামুদ্রিক সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য সংরক্ষণে বাংলাদেশ ও ভারতের যৌথ গবেষণা ও সাংস্কৃতিক উদ্যোগ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে বলেও মত দেন তিনি।

সাক্ষাতে সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, ভারতীয় হাইকমিশনের ডেপুটি হাইকমিশনার এবং ইন্দিরা গান্ধী কালচারাল সেন্টারের পরিচালক উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকের শেষে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সম্প্রীতি ও অভিন্ন সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ-ভারত সাংস্কৃতিক সম্পর্ককে আরও উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন উভয় পক্ষ।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank