

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দক্ষিণ ভারতীয় সিনেমার একসময়ের আলোড়ন সৃষ্টিকারী তারকা সিল্ক স্মিতা। গ্ল্যামার ও জনপ্রিয়তার তুঙ্গে থাকা এই অভিনেত্রীর জীবন প্রদীপ মাত্র ৩৫ বছর বয়সেই নিভে যায়। ১৯৯৬ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর চেন্নাইয়ের নিজ অ্যাপার্টমেন্ট থেকে উদ্ধার করা হয় তার মরদেহ।
পুলিশ প্রতিবেদন এটিকে আত্মহত্যা হিসেবে চিহ্নিত করলেও, মৃত্যুর এত বছর পরও তার এই করুণ বিদায় রহস্যে ঘেরা এক অমিমাংসিত অধ্যায় হয়েই রয়ে গেছে।
স্মিতার পর্দার পেছনের বাস্তব জীবন মোটেও আলোঝলমলে ছিল না। অন্ধ্রপ্রদেশের এক দরিদ্র পরিবারে জন্মগ্রহণ করা বিজয়লক্ষ্মী ভাদলাপতির শৈশব কেটেছে চরম অভাবে। চতুর্থ শ্রেণিতেই পড়াশোনার ইতি টানতে হয় এবং মাত্র ১৪ বছর বয়সে পরিবারের চাপে তার বিয়ে দেওয়া হয়।
শ্বশুরবাড়ির নির্মম নির্যাতন সহ্য করতে না পেরে তিনি চেন্নাই পালিয়ে আসেন। সেখানে মেকআপ ম্যান বা টাচ-আপ আর্টিস্ট হিসেবে শুরু হয় তার সংগ্রাম। পরবর্তীতে পরিচালক ভিনু চক্রবর্তীর জহুরি চোখে ধরা পড়েন তিনি, তার কাছেই নাচ, অভিনয় ও শিষ্টাচারের পাঠ নেন বিজয়লক্ষ্মী।
১৯৮০ সালে ‘বন্ডিচাক্কারাম’ সিনেমায় বারবালার ‘সিল্ক’ চরিত্রে অভিনয় করে রাতারাতি তারকা বনে যান এবং নতুন নাম পান ‘সিল্ক স্মিতা’।
আশির দশকে দক্ষিণ ভারতীয় চলচ্চিত্রে সিল্ক স্মিতা এমন এক নাম ছিলেন, যার উপস্থিতিই বক্স অফিসের সাফল্যের গ্যারান্টি দিত। ১৯৮২ সালে রজনীকান্তের ‘মুন্দ্রু মুগম’ সিনেমার পর তিনি গ্ল্যামার ও আবেদনের এক অনন্য প্রতীক হয়ে ওঠেন।
চিত্রনাট্য আটকে থাকা অনেক চলচ্চিত্রও কেবল স্মিতার একটি আইটেম গান যুক্ত করে বিপুল ব্যবসায়িক সাফল্য পেত। তাকে বলা হতো ভারতীয় সিনেমার ‘ম্যারিলিন মনরো’।
১৭ বছরের সংক্ষিপ্ত ক্যারিয়ারে পাঁচটি ভাষায় ৪৫০টিরও বেশি সিনেমায় অভিনয় করে তিনি তৎকালীন চলচ্চিত্র শিল্পকে কার্যত একা হাতে টেনেছেন।
তবে এই আকাশচুম্বী সাফল্যই একসময় তার জীবনের বড় বোঝা হয়ে দাঁড়ায়। টাইপকাস্ট হয়ে যাওয়ার কারণে তার ভেতরের সত্যিকারের অভিনয় প্রতিভা আড়ালেই থেকে যায়। ক্যারিয়ারের শেষ দিকে এসে কাজ কমে যাওয়া, ভুল ব্যবসায়িক সিদ্ধান্ত, তীব্র আর্থিক সংকট, প্রেমে ব্যর্থতা এবং একাকীত্ব তাকে চরম মানসিক বিষণ্নতার দিকে ঠেলে দেয়। অনেকেই মনে করেন, এসব শারীরিক ও মানসিক চাপ সহ্য করতে না পেরেই তিনি আত্মহননের পথ বেছে নিয়েছিলেন।
স্মিতার মৃত্যুর রহস্যকে আরও ঘনীভূত করে তার জীবনের শেষ মুহূর্তগুলো। মৃত্যুর কয়েক ঘণ্টা আগে তিনি তার বন্ধু ও অভিনেতা রবিচন্দ্রনকে বারবার ফোন করেছিলেন। কিন্তু নেটওয়ার্কের সমস্যার কারণে তাদের কথা বলা সম্ভব হয়নি।
সিল্ক স্মিতা শেষ মুহূর্তে কাকে কী বলতে চেয়েছিলেন, নাকি কোনো বিপদে পড়ে সাহায্যের আকুতি জানাতে চেয়েছিলেন- সেই উত্তর আজও মেলেনি। ভারতীয় সিনেমা জগতের এক সময়ের রাজত্ব করা এই অভিনেত্রী আজ ইতিহাসের পাতায় শুধুই এক আনসলভ কেস।


