

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর কলতাবাজার এলাকায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) ছাত্রীদের একটি মেসে অভিযান চালিয়ে নাট্যকলা বিভাগের ২০১৫-২০১৬ সেশনের শিক্ষার্থীক বর্ষা খাতুনকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল টিম ও শিক্ষকদের হস্তক্ষেপে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়েই ঘটনাস্থল থেকে চলে যায় র্যাবের সদস্যরা। ঘটনাটি ঘিরে মেসে থাকা শিক্ষার্থীদের মধ্যে আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে কলতাবাজার এলাকার ওই মেসে এ ঘটনা ঘটে। পরে খবর পেয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে গিয়ে ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করেন।
ঘটনাটির বিষয়ে, জকসুর সমাজসেবা সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, “সকালে শিক্ষার্থীদের প্রথমে এই বিষয়ে ফোন পেয়ে আমি ঘটনাস্থলে যাই এবং সূত্রাপুর থানার ওসিকে বিষয়টি জানাই।
পরে পুলিশ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা ঘটনাস্থলে আসেন। র্যাবের পরিচয়ে আসা ব্যক্তিদের নিয়ে প্রথমে সন্দেহ তৈরি হলেও পরে সেখানে র্যাবের সদস্যরা আসেন। শিক্ষক ও প্রক্টরিয়াল টিমের সহযোগিতায় শেষ পর্যন্ত ওই শিক্ষার্থীকে নিরাপদে উদ্ধার করা হয়েছে।”
এ বিষয়ে বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সহকারি প্রক্টর আহমেদ ইহসানুল কবির বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার পর আমরা দ্রুত ঘটনাস্থলে যাই। সেখানে গিয়ে দেখি, একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তোলা হয়েছে।
আমরা বিষয়টি নিয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলি এবং শিক্ষার্থীকে নিয়ে যাওয়ার আগে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে অবহিত করার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বলি। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ বা মামলা থাকলে যথাযথ আইনগত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। শিক্ষার্থীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করাই এ মুহূর্তে আমাদের প্রধান দায়িত্ব।”
তিনি আরও বলেন, “ঘটনাটি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে অভিযোগ থাকলে সেটি আইন অনুযায়ী তদন্ত হবে। একই সঙ্গে পুরো ঘটনার পেছনে কোনো অনিয়ম বা অন্য কোনো উদ্দেশ্য ছিল কি না, সেটিও খতিয়ে দেখা প্রয়োজন।”
বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন প্রশাসক ও ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের অধ্যাপক মো. তারেক বিন আতিক বলেন, সকালে একজন শিক্ষার্থী তাকে ফোন করে মেসে র্যাব পরিচয়ে লোকজন আসার বিষয়টি জানান।
পরে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা ঘটনাস্থলে গেলে প্রথমে ওই ব্যক্তিরা ভুল করে সেখানে এসেছেন বলে জানান। পরে তারা চুরির মামলার আসামি ধরতে এসেছেন বলে জানান এবং এর মধ্যে একজন শিক্ষার্থীকে র্যাবের গাড়িতে তুলে নেওয়া হয়।
অধ্যাপক তারেক বিন আতিক বলেন, “আমরা সেখানে গিয়ে দেখি শিক্ষার্থীকে গাড়িতে উঠানো হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গে আমরা বলি, শিক্ষার্থী এখান থেকে যাবে না। শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে কোনো অপরাধ থাকলে প্রক্টর অফিস ও উপাচার্য মহোদয়কে জানিয়ে পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
তিনি জানান, পরে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের ঘটনাস্থলে ডাকা হয়। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চুরির মামলার কথা বলা হলেও মামলার বিস্তারিত তাদের জানানো হয়নি। তারেক বিন আতিকের দাবি, শিক্ষার্থীর পরিবারের সঙ্গে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে মামলাটি হয়ে থাকতে পারে।
তিনি আরও বলেন, ঘটনাস্থলে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় জানতে চাইলে তারা পরিচয় ও মোবাইল নম্বর দিতে রাজি হননি। বিষয়টি সূত্রাপুর থানার পুলিশকেও জানানো হয়।
এ বিষয়ে সূত্রাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার বলেন, “বিষয়টি জানতে পেরে আমরা ঘটনাস্থলে গিয়েছিলাম। সেখানে যারা এসেছিল, তারা র্যাবের সদস্য ছিল এবং একটি মামলার অভিযোগে ওই শিক্ষার্থীকে নিতে এসেছিল। পরবর্তীতে আমরা জানতে পারি, এটি পারিবারিক বিরোধের কারণে করা একটি মামলা। পরে ওই শিক্ষার্থীকে না নিয়ে তারা চলে যায়।”
মামলাটির বিষয়ে বিস্তারিত জানতে ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট থানায় যোগাযোগ করে বিষয়টি ভালোভাবে খোঁজ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে চাইলে ওসি আনোয়ার বলেন, তিনি ব্যস্ত রয়েছেন এবং পরে কথা বলবেন। এরপর তিনি ফোন কেটে দেন।
জানা গেছে, ওই শিক্ষার্থী জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের নাট্যকলা বিভাগের শিক্ষার্থী। বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য অনুযায়ী, তার বোনের সাবেক স্বামীর সঙ্গে পারিবারিক বিরোধের বিষয়টি ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে পারে। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষের বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।
ঘটনার পর ওই শিক্ষার্থীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে রাখা হয়েছে বলে জানা গেছে। একই সঙ্গে মেসে থাকা অন্য শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানিয়েছে।


