

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এমপিওভুক্ত শিক্ষক ও কর্মচারীরা বাড়িভাড়া ভাতা ২০ শতাংশ বৃদ্ধিসহ তিন দফা দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাচ্ছেন।
টানা নবম দিনে তারা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছে এবং বহু প্রতিষ্ঠানে কর্মবিরতি জারি আছে।
শিক্ষক নেতারা বলছেন — দাবিগুলো দ্রুত পূরণ না হলে ২৩ অক্টোবর যমুনা অভিমুখে সমাবেশের প্রস্তুতি নেই। আন্দোলনে গতকাল বিএনপি তাদের সমর্থন ঘোষণা করেছে।
এ আন্দোলনের মধ্যেই স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরাও জাতীয়করণ না হলে অনির্দিষ্টকালের অনশনে যাওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন।
একই সঙ্গে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক সংগঠনও পে-কমিশনের সঙ্গে কথা বলার পরে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে — ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নের ব্যাপারে কমিশনের প্রতিক্রিয়া তাদের হতাশ করেছে এবং কঠোর পদক্ষেপের ইঙ্গিত দিয়েছে তারা।
শিক্ষকদের মূল তিনটি দাবি হলো: (১) মূল বেতনের ২০ শতাংশ হিসেবে বাড়িভাড়া ভাতা, (২) চিকিৎসা-ভাতা ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১,৫০০ টাকা করা এবং (৩) উৎসব-ভাতা মূল বেতনের ৫০ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৭৫ শতাংশ করা। সরকার গত রোববার বাড়িভাড়া ৫ শতাংশ বৃদ্ধির প্রজ্ঞাপন জারি করেছে; এটিকে শিক্ষকরা আংশিক সাফল্য বলে গণ্য করলেও আন্দোলন স্থগিত করেননি।
অধ্যক্ষ দেলাওয়ার হোসেন আজীজি নেতৃত্বের ‘এমপিওভুক্ত শিক্ষা জাতীয়করণ প্রত্যাশী জোট’ শিক্ষাদপ্তরের উপদেষ্টা সি.আর. আবরারের সমালোচনা করে দুই দিনের আলোকিত সময় বেঁধে দিয়েছেন।
দাবি না মানলে তারা ২৩ অক্টোবর ঢাকা থেকে যমুনার দিকে যাত্রা করার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন এবং মঙ্গলবার মুখে কালো কাপড় বেঁধে মিছিলের ঘোষণা দিয়েছেন। এছাড়া শহীদ মিনারে যারা যেতে পারবেন না, তাদের জেলা-উপজেলা স্তরে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে ১২টা অবস্থান রাখার নির্দেশনা দিয়েছেন তিনি।
বিএনপি পুরো আন্দোলনের সঙ্গে ঐক্য প্রকাশ করেছে — দলের যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী বলেন, সরকার ঘোষিত ৫ শতাংশ বাড়িভাড়া পর্যাপ্ত নয়; তারা শিক্ষক আন্দোলনের পাশে আছে এবং ক্ষমতায় গেলে পূর্ণ জাতীয়করণের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হবে।
তিনি শিক্ষক না-আন্দোলন করলে সেটি এড়াতে জাতীয়করণের কথা তুলে ধরেন।
জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে স্বতন্ত্র ইবতেদায়ি মাদ্রাসার শিক্ষকরা দ্বিতীয় দিন অবস্থান করছেন।
বক্তারা জানান— বহু বছর সরকারী সুবিধা না পেয়ে তারা অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছেন; প্রায় ৬৫ হাজার মাদ্রাসায় কয়েক লাখ শিক্ষক-কর্মচারী বেতন-ভাতাসহ সরকারি সহায়তা পাচ্ছেন না।
জাতীয়করণ না হলে তারা অনশনসহ কঠোর আন্দোলনে যাওয়ার কথাও জানিয়েছে।
এদিকে প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতির প্রতিনিধিরা পে-কমিশনের সঙ্গে বৈঠকে বেতন, টাইমস্কেল, বেসিক বেতন নির্ধারণ ও অন্যান্য ভাতার বিষয়ে সুপারিশ আশা করেছেন।
কিন্তু কমিশন সরাসরি গ্রেড নির্ধারণের ক্ষমতা না থাকার কারণে ১১তম গ্রেড বাস্তবায়নে অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে — যদি পে-কমিশন বিদ্যমান ২০টি গ্রেড কমিয়ে ১২টি করার সুপারিশ করে তবে সহকারী শিক্ষকেরা ১১তম গ্রেড পেতে পারেন; নইলে তার সুযোগ সীমিত থাকবে।
শিক্ষক নেতারা বলছেন, দাবি বাস্তবায়নে এখনই পদক্ষেপ না হলে তাদের আন্দোলন আরও কঠোর রূপ নেবে এবং আরো বিস্তৃত কর্মসূচি নেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন
