বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
ববি হাজ্জাজ

মুখস্থ নয়, খেলায় খেলায় শেখাতে হবে শিশুদের

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৮ আগস্ট ২০২৬, ০৮:৪৬ পিএম
expand
মুখস্থ নয়, খেলায় খেলায় শেখাতে হবে শিশুদের

প্রাথমিক শিক্ষায় মুখস্থনির্ভরতার পরিবর্তে খেলাধুলা ও আনন্দের মাধ্যমে শিশুদের শেখানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। তিনি বলেন, খেলায় খেলায় শেখার মাধ্যমে শিশুদের মধ্যে ক্রিটিক্যাল থিংকিং, সমস্যা সমাধান ও চিন্তাশক্তির বিকাশ ঘটানো সম্ভব।

মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমি (নেপ) আয়োজিত তথ্যপুস্তক পর্যালোচনা বিষয়ক ‘খেলায় খেলায় শিখি’ শীর্ষক কর্মশালায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, শিশুদের শুধু মুখস্থ করানোর মাধ্যমে কার্যকর ও টেকসই শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়। আনন্দময় পরিবেশে খেলাধুলা ও বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শেখার সুযোগ তৈরি করা হলে শিশুদের শেখার সক্ষমতা, সৃজনশীলতা ও চিন্তাশক্তি আরও বিকশিত হবে। এজন্য স্থানীয় খেলাগুলোকে পাঠ্যক্রম ও পাঠ্যবইয়ের সঙ্গে যুক্ত করার পাশাপাশি বিদ্যালয়ের অবকাঠামোও শিশুবান্ধব ও খেলাভিত্তিক শিক্ষার উপযোগী করে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি জানান, নেপ ও সহযোগী প্রতিষ্ঠানগুলো স্থানীয় পর্যায়ের খেলাধুলা নিয়ে গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহ করেছে। ইতোমধ্যে ৪১২টি খেলা নথিভুক্ত করা হয়েছে, যেগুলো বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণের মাধ্যমে ব্যবহার করা যেতে পারে। পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়ে প্রচলিত ৭০০টির বেশি খেলাকে নিয়মবদ্ধ করে বিদ্যালয়ের পাঠ্যক্রমে কীভাবে যুক্ত করা যায়, সে বিষয়েও কাজ করা হয়েছে।

চীন ও জাপানের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে ববি হাজ্জাজ বলেন, এসব দেশে পাঠ্যক্রমের বিভিন্ন বিষয়ের সঙ্গে খেলনা ও খেলার সমন্বয় করা হয়েছে। কোন শ্রেণিতে কোন বিষয়ের কোন অধ্যায় শেখাতে কোন খেলনা বা খেলা ব্যবহার করা হবে, তা পাঠ্যবই ও পাঠ্যক্রমে নির্ধারণ করা থাকে। এ ক্ষেত্রে পাঠ্যবই প্রকাশক, খেলনা প্রস্তুতকারক ও পাঠ্যক্রম প্রণয়নকারীরা সমন্বিতভাবে কাজ করেন।

বাংলাদেশেও এ ধরনের উদ্যোগ গ্রহণের কথা জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। খুব শিগগিরই সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের নিয়ে বসে প্রাথমিক শিক্ষায় খেলাধুলা ও খেলনাভিত্তিক শিখন কীভাবে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়, সে বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

তিনি বলেন, শুধু পাঠ্যক্রম প্রণয়ন করলেই হবে না; এর যথাযথ বাস্তবায়নও নিশ্চিত করতে হবে। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষ, খেলার জায়গা, শিক্ষার পরিবেশ এবং অবকাঠামো নির্মাণ ও ব্যবস্থাপনার প্রতিটি পর্যায়ে জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। শিশুদের জন্য একটি আনন্দময়, নিরাপদ ও কার্যকর শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করাই প্রাথমিক শিক্ষা সংস্কারের অন্যতম লক্ষ্য।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন। সভাপতিত্ব করেন জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা একাডেমির (নেপ) মহাপরিচালক ফরিদ আহমদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী মো. আমিনুল হক, সেভ দ্য চিলড্রেনের কান্ট্রি ডিরেক্টর সুমন সেনগুপ্ত এবং প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক শাহীনা ফেরদৌসী।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank