

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


২০২৩ সালের মার্চেই তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সরকার গঠনের সম্ভাবনা নিয়ে একটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন বলে দাবি করেছেন পুলিশের বিশেষ শাখার (এসবি) সাবেক প্রধান মনিরুল ইসলাম। তার দাবি, সাত-আট পৃষ্ঠার ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য সরকার কাঠামো ও কয়েকজন ব্যক্তির নামও উল্লেখ ছিল।
সম্প্রতি সাংবাদিক মাসুদা ভাট্টির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এসব কথা বলেন মনিরুল ইসলাম।
তিনি বলেন, ২০২৩ সালের মার্চে তৈরি ওই প্রতিবেদনে ২০২৪ সালে একটি জাতীয় সরকার গঠনের সম্ভাবনার কথা উল্লেখ করেছিলেন। সেখানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে সরাসরি সরকারপ্রধান হিসেবে না রেখে তার প্রতিনিধিদের মধ্য থেকে দু-তিনজনের কাউকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনার কথাও বলা হয়েছিল।
মনিরুলের দাবি, পরে প্রতিবেদনে যাদের নাম ছিল, তাদের অনেকেই অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা হয়েছেন। কেউ কেউ বিভিন্ন কমিশনের চেয়ারম্যান, চেয়ারপারসন বা সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পেয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমি প্রথম যে রিপোর্টের কথা বললাম মার্চ মাসে, সেটি আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর হাতে দিয়েছিলাম। সরাসরি হস্তান্তর করার পর উনি ওটা পড়েছিলেন।’
মনিরুলের ভাষ্য অনুযায়ী, শেখ হাসিনা পুরো প্রতিবেদনটি পড়েছিলেন। ড. ইউনূসের প্রসঙ্গে তখন শেখ হাসিনা তাকে বলেছিলেন, ইউনূস নিজেই ক্ষমতায় থাকতে চাইবেন।
সাবেক এই পুলিশ কর্মকর্তা আরও দাবি করেন, ওই সময় তিনি ড. ইউনূসকে ব্যক্তিগতভাবে চিনতেন না এবং তার সঙ্গে কখনো দেখা বা কথা হয়নি। ফলে শেখ হাসিনার মন্তব্যে তখন তার কিছুটা খটকা লেগেছিল।
মনিরুল বলেন, পরবর্তী সময়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের পর তিনি ২০২৩ সালের ওই প্রতিবেদনটি আবার উদ্ধার করে দেখেন। তার দাবি, প্রতিবেদনের প্রায় ৯০ শতাংশ তথ্য পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের সঙ্গে মিলে গেছে।
ভিসা নিষেধাজ্ঞার আগেও প্রতিবেদন
সাক্ষাৎকারে মনিরুল আরও দাবি করেন, ২০২৩ সালের মে মাসের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার এক-দুই দিন আগে তিনি এ বিষয়ে আরেকটি প্রতিবেদন দিয়েছিলেন। তার দাবি, ওই প্রতিবেদনে সম্ভাব্য আন্তর্জাতিক সম্পৃক্ততার বিষয়েও তথ্য ছিল।
তিনি বলেন, পরে ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবরে পুরোনো প্রতিবেদনটি উদ্ধার করে দেখেন, সেটির সঙ্গেও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহের প্রায় ৯০ শতাংশ মিল রয়েছে।
২৮ অক্টোবরের সমাবেশ প্রসঙ্গ
২০২৩ সালের ২৮ অক্টোবর বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশকে কেন্দ্র করেও একটি পরিকল্পনা ছিল বলে দাবি করেন মনিরুল। তার ভাষ্য, ওই সমাবেশকে লক্ষ্য করে যে পরিকল্পনা করা হয়েছিল, তা নিয়ন্ত্রণে চলে আসায় সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
তবে ২০২৪ সালের নির্বাচন হয়ে যাওয়ার পর সরকার ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর মধ্যে একধরনের আত্মতুষ্টি তৈরি হয়েছিল বলে মন্তব্য করেন তিনি।
‘ডিপ স্টেট’ নিয়ে মনিরুলের দাবি
সাক্ষাৎকারে মনিরুল ইসলাম ২০১৮ সালের নিরাপদ সড়ক আন্দোলন ও কোটা আন্দোলনের প্রসঙ্গ তুলে ‘ডিপ স্টেট’-এর প্রভাবের দাবি করেন। তার ভাষ্য, প্রচলিত রাজনৈতিক আন্দোলনের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তন সম্ভব নয়—এমন ধারণা থেকে ছাত্র ও তরুণদের আন্দোলনকে কাজে লাগানোর পরিকল্পনা করা হয়েছিল।
৫ আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গেও তিনি দাবি করেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ভেতরে একটি প্রভাবশালী গোষ্ঠী সরকারের পরিকল্পনার বিপরীতে কাজ করেছিল।


