

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নবম জাতীয় পে-স্কেল বাস্তবায়নের প্রক্রিয়ায় আবারও গতি এসেছে। নতুন বেতন কাঠামোর প্রস্তাব এখন চূড়ান্ত পর্যালোচনার পর্যায়ে রয়েছে। সবকিছু ঠিক থাকলে আগামী সপ্তাহে অথবা চলতি আগস্টের শেষ দিকে প্রস্তাবটি মন্ত্রিসভার বৈঠকে উপস্থাপন করা হতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব অনুমোদন পেলে পরবর্তী ধাপে প্রজ্ঞাপন জারির প্রক্রিয়া শুরু হবে। তবে নতুন পে-স্কেল ঠিক কবে থেকে কার্যকর হবে, সে বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নে সরকারের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে এর আর্থিক প্রভাব। অর্থ ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, বেতন বাড়ানোর ফলে সরকারি ব্যয় ও মূল্যস্ফীতির ওপর কী ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে, তা বিবেচনায় নেওয়া হচ্ছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) থেকেও পে-স্কেল বাস্তবায়ন কিছুটা পিছিয়ে দেওয়ার পরামর্শ এসেছে বলে সূত্র জানিয়েছে।
তবে পুরো প্রক্রিয়া স্থগিত না করে সরকারের আর্থিক সক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়নের পথ খোঁজা হচ্ছে। প্রয়োজনে ধাপে ধাপে পে-স্কেল কার্যকরের বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে।
২০১৫ সালে অষ্টম জাতীয় পে-স্কেল কার্যকর হওয়ার পর আর নতুন কোনো জাতীয় বেতন কাঠামো ঘোষণা হয়নি। এ সময়ে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন প্রতিবছর নির্ধারিত হারে বাড়লেও মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ফলে নতুন পে-স্কেলের দাবি আরও জোরালো হয়।
২০২৫ সালের জুলাইয়ে নবম পে কমিশন সরকারের কাছে প্রতিবেদন জমা দেয়। সেখানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মূল বেতন ১০০ থেকে ১৪০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়।
প্রস্তাব অনুযায়ী, সর্বনিম্ন মূল বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ২০ হাজার টাকা এবং সর্বোচ্চ মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ লাখ ৬০ হাজার টাকা করার সুপারিশ রয়েছে।
পরে গত ২১ এপ্রিল পে-স্কেলের সুপারিশ পর্যালোচনার জন্য একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়। ওই কমিটির পর্যালোচনা ও সুপারিশের ভিত্তিতেই নতুন বেতন কাঠামোর বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার কথা।
অর্থনীতিবিদদের মতে, প্রস্তাবিত কাঠামো পুরোপুরি বাস্তবায়ন করা হলে সরকারের বার্ষিক ব্যয় উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে। বাড়তি ব্যয়ের চাপ সামলাতে রাজস্ব আয় বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি ব্যয় ব্যবস্থাপনাতেও দক্ষতা বাড়াতে হবে।
নতুন পে-স্কেল নিয়ে তাই সরকারি চাকরিজীবীদের প্রত্যাশা বাড়ছে। এখন তাদের নজর মন্ত্রিসভায় প্রস্তাব উপস্থাপন, অনুমোদনের পর প্রজ্ঞাপন জারি এবং শেষ পর্যন্ত নতুন বেতন কাঠামো কার্যকরের সময়সীমার দিকে।