

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই সনদে দেওয়া অঙ্গীকার অনুযায়ী নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের দাবি জানিয়েছেন দেশের বিভিন্ন অঙ্গনের ৪১ জন বিশিষ্ট নাগরিক। তাদের দাবি, গণভোটে জনগণের দেওয়া রায় এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষার প্রতি সম্মান জানিয়ে সরকারকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই এ উদ্যোগ নিতে হবে।
শুক্রবার (২৪ জুলাই) গণমাধ্যমে পাঠানো এক যৌথ বিবৃতিতে তারা এই দাবি জানান। তারা বলেন, রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে গণভোটে জনগণ যে সুস্পষ্ট মতামত দিয়েছেন, তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে সরকার যে অনিশ্চয়তা ও অনীহার পরিচয় দিচ্ছে, তা উদ্বেগজনক।
বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ধারাবাহিকতায় অনুষ্ঠিত গণভোটে বৈধ ভোটের ৬৮ দশমিক ৫৯ শতাংশ ভোটার রাষ্ট্র সংস্কারের পক্ষে মত দিয়েছেন। এই গণরায় জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার (পিপলস উইল) সুস্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ এবং রাষ্ট্র পরিচালনার ক্ষেত্রে তা প্রতিফলিত হওয়া উচিত।
বিবৃতিদাতারা বলেন, জুলাই সনদে নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে একটি স্বাধীন ও কার্যকর সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের অঙ্গীকার রয়েছে। কিন্তু সরকার তা বাস্তবায়নের পরিবর্তে বিভিন্ন যুক্তি উপস্থাপন করে সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠনের বিষয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে।
তারা আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার পরিষদের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে সরকার ও বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর পরস্পরবিরোধী অবস্থান কাম্য নয়। তবে একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে জনগণের রায়ই সর্বোচ্চ গুরুত্ব পাওয়া উচিত। যৌথ বিবৃতিতে তিন দফা দাবি তুলে ধরা হয়। দাবিগুলো হলো, জুলাই সনদ অনুযায়ী নির্ধারিত ১৮০ দিনের মধ্যে কার্যকর ও প্রতিনিধিত্বশীল সংবিধান সংস্কার পরিষদ গঠন, গণভোটে জুলাই সনদের পক্ষে জনগণের দেওয়া রায় পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়ন এবং রাষ্ট্র ও সংবিধান সংস্কারের প্রক্রিয়াকে দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে রেখে জনগণের রাজনৈতিক সদিচ্ছার ভিত্তিতে ন্যায়ভিত্তিক, গণতান্ত্রিক, মানবিক ও জবাবদিহিমূলক কল্যাণরাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ নেওয়া।
একই সঙ্গে দেশের রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ, পেশাজীবী, ছাত্র-জনতা ও সচেতন নাগরিকদের প্রতি গণভোটের রায়, গণসার্বভৌমত্ব এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের অর্জন রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান তারা।
যৌথ বিবৃতিতে জাস্টিস অ্যান্ড ডেমোক্রেসি পার্টির (জেডিপি) আহ্বায়ক নাঈম আহমাদ, কবি ও দার্শনিক মুসা আল হাফিজ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক মোহাম্মদ মোজাম্মেল হক, সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক ওয়াহিদ ফারুকী, গবেষক ড. জান্নাতুল আরিফ, ব্যারিস্টার মুস্তফা শাকেরুল্লাহ, কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হুমায়ূন শফিকসহ মোট ৪১ জন স্বাক্ষর করেন।