শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সামাজিক মাধ্যমে টাইফয়েডের টিকাবিরোধী বার্তা প্রচার, জানুন আসল সত্যিটা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩১ পিএম আপডেট : ১৫ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৩২ পিএম
টাইফয়েডের ভ্যাকসিন
expand
টাইফয়েডের ভ্যাকসিন

দেশে প্রথমবারের মতো টাইফয়েডের ভ্যাকসিন দেওয়া শুরু হয়েছে। স্বাস্থ্য বিভাগ, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) ও ইউনিসেফ যৌথভাবে এই কর্মসূচির ব্যাপক প্রচারণা চালাচ্ছে।

স্বাস্থ্য বিভাগের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ভ্যাকসিনটি নিরাপদ এবং কার্যকর। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার অনুমোদিত এবং সৌদি হালাল সেন্টারের হালাল সার্টিফিকেটপ্রাপ্ত।

গত দু’দিনে এ কর্মসূচির আওতায় ৩২ লাখ ৩৭ হাজারের বেশি শিশু ও কিশোর-কিশোরী টিকা পেয়েছেন। তবে টিকাকে ঘিরে কিছু বিভ্রান্তিকর প্রচারণাও লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে কিছু মানুষ টিকাবিরোধী বার্তা প্রচার করছেন, যার কারণে অনেক অভিভাবক শিশুর টিকাদান নিয়ে দ্বিধায় রয়েছেন।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, টাইফয়েডের টিকা নিয়ে উদ্বেগ বা অনাস্থার কোনো বৈজ্ঞানিক কারণ নেই। চিকিৎসক ও কর্মসূচির সঙ্গে যুক্তরা নিশ্চিত করেছেন, টিকা নিরাপদ এবং কার্যকর।

ডা. আয়েশা আক্তার, ২৫০ শয্যার টিবি হাসপাতালের উপ-পরিচালক, জানান, ৯ মাস থেকে ১৬ বছর বয়সি সকল শিশুর জন্য টিকা নিরাপদ। টিকা নেওয়ার পর সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে হালকা ব্যথা ছাড়া অন্য কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা যায় না।

ইপিআই প্রোগ্রামের ম্যানেজার ডা. আবুল ফজল মো. শাহাবুদ্দিন খান বলেন, শুরুর দিকে কিছু অভিভাবক দেখবেন অন্যরা টিকা নিলে কেমন হয়-এধরনের মনোভাব থাকতে পারে। কিছু দিনের মধ্যে সবাই স্বাচ্ছন্দ্যে টিকা নিতে পারবে।

সরকারি এই ১৮ দিনের টিকাদান কর্মসূচির লক্ষ্য ৪ কোটি ৯০ লাখ শিশুকে বিনামূল্যে টিকা দেওয়া।

গবেষণা থেকে পাওয়া তথ্য:

আগে পাকিস্তান ও নেপালেও শিশুদের মধ্যে এই টিকা দেওয়া হয়েছে। নেপালে প্রায় ২০,০০০ শিশুর ওপর গবেষণা চালানো হয়, যা ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ জার্নালে প্রকাশিত হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, টাইফয়েডের প্রকোপ দক্ষিণ এশিয়ায় সবচেয়ে বেশি। সম্প্রতি পাকিস্তানে অ্যান্টিবায়োটিক-রেসিস্ট্যান্ট টাইফয়েড ছড়িয়ে পড়েছিল, তাই ভ্যাকসিন গ্রহণের গুরুত্ব বেড়ে গেছে।

নেপালের ললিতপুরে ৯ মাস থেকে ১৬ বছর বয়সি প্রায় ২০,১৪০ শিশুকে দুটি দলে ভাগ করা হয়। একটি দলকে টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন (TCV) দেওয়া হয়, অন্য দলকে মেনিনজাইটিস ‘এ’ টিকা। প্রায় এক বছর ধরে স্বাস্থ্য নজরদারি চালানো হয়। ফলাফল দেখিয়েছে, টাইফয়েড কনজুগেট ভ্যাকসিন গ্রহণকারী শিশুদের মধ্যে মাত্র ৭ জন আক্রান্ত হন, যেখানে কন্ট্রোল গ্রুপে ৩৪ জন আক্রান্ত হয়েছেন। এটি প্রমাণ করে ভ্যাকসিনের কার্যকারিতা ৭৯ শতাংশ।

গবেষণার বিস্তারিত অনুযায়ী, টিকা প্রথম বছরে ৮১% এবং দ্বিতীয় বছরে ৭৯% কার্যকর। টিকা গ্রহণের পর শুধুমাত্র সামান্য জ্বর বা ইনজেকশনের স্থানে হালকা ব্যথা ছাড়া বড় কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া নেই।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন