

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


আগামীকাল (২৯ জুন) দেশব্যাপী শিক্ষা ক্ষেত্রে দুটি বড় ধরনের মেগা উদ্যোগ বাস্তবায়িত হতে যাচ্ছে। এর মধ্যে একটি হলো মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের অধীনে লার্নিং এক্সিলারেশন ইন সেকেন্ডারি এডুকেশন (লেইস) প্রজেক্টের আওতায় দেশব্যাপী একযোগে বৃহৎ বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি। অন্যটি হলো এডুকেশনাল এক্সিলেন্স সাপোর্ট স্কিমের আওতায় জাতীয় পর্যায়ের "স্টার্টআপ, সাইন্স প্রজেক্ট এন্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম"। পৃথক দুটি অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি অংশ নেবেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
২৯ হাজার ৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে একযোগে বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি: বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারে আগামী ৫ বছরে ২৫ কোটি গাছের চারা লাগানোর লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার অংশ হিসেবে প্রতিটি শিশুকে প্রতিবছর বৃক্ষরোপণে সম্পৃক্ত করতে 'ওয়ান চাইল্ড, ওয়ান ট্রি' কর্মসূচি ঘোষণা করা হয়েছে। এরই ধারাবাহিকতায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় আগামী ৫ বছরে দেশের স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসা প্রাঙ্গণে ৫ কোটি গাছ লাগানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে।
জলবায়ু পরিবর্তনে শিক্ষার্থীদের সচেতনতা বৃদ্ধি ও দুর্যোগঝুঁকি মোকাবেলায় প্রস্তুত করার লক্ষ্যে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তর কর্তৃক বাস্তবায়নাধীন 'লেইস' প্রজেক্টের আওতায় দেশের ২৯,৬২১টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রতিবছর এই বৃক্ষরোপণ কর্মসূচি পালন করা হচ্ছে। এর মধ্যে রয়েছে ১৮ হাজার ৯০৭টি বিদ্যালয়, ১,৪৪৬টি স্কুল এন্ড কলেজ এবং ৯,২৬৮টি মাদ্রাসা। এই কর্মসূচির জন্য প্রতিবছর প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ৫ হাজার টাকা করে জলবায়ু সচেতনতা অনুদান প্রদান করা হচ্ছে। এবছর প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ১টি ফলদ, ১টি বনজ ও ১টি ঔষধি বৃক্ষ রোপণ করা হবে।
আগামীকাল ২৯ জুন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এই কর্মসূচির উদ্বোধন করার সদয় সম্মতি জ্ঞাপন করেছেন। অনুষ্ঠানটি প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বড় পর্দায় সরাসরি প্রদর্শন করা হবে এবং ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে উপস্থিত শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকগণ সরাসরি প্রধানমন্ত্রীর সাথে অনুষ্ঠানে যুক্ত হয়ে অনুভূতি প্রকাশের সুযোগ পাবেন। কর্মসূচির অংশ হিসেবে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে জলবায়ু বিষয়ক ব্যানার-ফেস্টুন ও র্যালির আয়োজন করা হয়েছে।
এদিকে, মুখস্থনির্ভরতা থেকে বের হয়ে শিক্ষার্থীদের সৃজনশীলতা, বিশ্লেষণধর্মী চিন্তা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে দেশব্যাপী আয়োজিত "স্টার্টআপ, সাইন্স প্রজেক্ট এন্ড ইনোভেশন আইডিয়া শোকেসিং প্রোগ্রাম"-এর জাতীয় পর্যায়ের চূড়ান্ত পর্ব আগামীকাল 'বাংলাদেশ চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে' অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে।
সারাদেশের ষষ্ঠ থেকে দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের সমন্বয়ে গঠিত ৩ জন শিক্ষার্থী ও ২ জন শিক্ষকের দল নিয়ে এই প্রোগ্রামটি বাস্তবায়িত হচ্ছে। এর আগে গত ১২ জুন দেশের ৫২১টি উপজেলা ও মহানগরীর শিক্ষা থানায় সফলভাবে প্রাথমিক শোকেজিং সম্পন্ন হয়, যেখানে ৮০২৯টি দলে ২৭ হাজার ২০৪ জন শিক্ষার্থী এবং ১৬ হাজার ৫৮ জন শিক্ষক অংশ নেন। পরবর্তীতে ১৪ জুন জেলা পর্যায়ের অনুষ্ঠানে ঢাকা বি এ এফ শাহীন কলেজ মিলনায়তনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে খুদে উদ্ভাবকদের অনুপ্রেরণা দেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ও জিয়াউর রহমান ফাউন্ডেশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট ডা. জুবাইদা রহমান।
জেলা ও মহানগর পর্যায় থেকে বাছাইকৃত সেরা ১০০টি দল আগামীকাল জাতীয় পর্যায়ের মূল অনুষ্ঠানে তাদের সৃজনশীল প্রজেক্ট প্রদর্শন করবে । প্রদর্শনকৃত দলগুলোর মধ্য থেকে সেরা ১০টি দলকে ট্রফি প্রদান করা হবে। এছাড়া শিক্ষকদের মধ্য থেকে মনোনীতদের "সু-শিক্ষায় মেধাবী শিক্ষক পুরস্কার" হিসেবে ৩০ হাজার টাকা ও সনদ এবং শিক্ষার্থীদের "উদ্ভাবনী মেধাবী শিক্ষার্থী পুরস্কার" হিসেবে ২০ হাজার টাকা ও সনদপত্র প্রদান করা হবে।
জাতীয় পর্যায়ের এই অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর উপস্থিতি পুরো কর্মসূচির গুরুত্বকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবে এবং একে দেশের "ভবিষ্যৎ অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত বিপ্লবের" একটি ঐতিহাসিক মাইলফলকে পরিণত করবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
