

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রস্তাবিত ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেটকে গণতান্ত্রিক, মানবিক ও অন্তর্ভুক্তিমূলক অর্থনীতির অভিযাত্রা বলে আখ্যায়িত করেছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা মাহদী আমিন। তার মতে, এই বাজেট প্রায় সব শ্রেণি-পেশার মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটায় এবং এর বাস্তবায়নে দেশ একটি স্বনির্ভর ও টেকসই অর্থনীতির পথে এগিয়ে যাবে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেলে সামাজিক মাধ্যম ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে বাজেট নিয়ে প্রতিক্রিয়া জানান করেন তিনি।
বিএনপির নির্বাচনী ইশতেহারের ভিত্তিতে জনবান্ধব, জনকল্যানমূখী ও ভিশনারি বাজেটের জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত জনগণের সরকার বহু বছর পর একটি বাজেট প্রণয়ন করেছে। এই বাজেটে দেশের প্রায় সব শ্রেণি-পেশার, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে মানুষের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেছে; এটাই আমাদের বিশ্বাস।
পোস্টে তিনি লেখেন, বাজেটে অর্থনীতির গণতন্ত্রায়নে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কর্মসংস্থান ও দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, ক্রিয়েটিভ ইকোনমি, বিনিয়ন্ত্রণকরণ, কৃষি ও খাদ্য নিরাপত্তা, সামাজিক নিরাপত্তা, নারী ও শিশু কল্যাণ, যোগাযোগ অবকাঠামো, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি এবং পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তন—এই ১২টি গুরুত্বপূর্ণ খাতে সরকার উল্লেখযোগ্য উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সরাসরি নির্দেশনায় বাজেটে চাল, ডাল, মাছ, মাংস, চিনি, লবণ, তেল, মসলাসহ প্রায় প্রতিটি নিত্যপ্রয়োজনীয় ভোগ্যপণ্যের ওপর কর কমানো হয়েছে, যার মূল লক্ষ্য দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রেখে সাধারণ মানুষের কষ্ট লাঘব করা। অতীতে বাজেট ঘোষণার সঙ্গে-সঙ্গে অনেক নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি পেত। এবারের জনবান্ধব বাজেটে সেই সমস্যা সমাধান হবে বলে সরকার আশাবাদী।
মাহদী আমিন লেখেন, প্রধানমন্ত্রীর রূপকল্পের আলোকে শিক্ষা ব্যবস্থাকে প্রাথমিক, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষার প্রতিটি স্তরে আরও সমতাভিত্তিক ও সার্বজনীন করার চেষ্টা করা হয়েছে। প্রতিটি মানুষের দোরগোড়ায় স্বাস্থ্যসেবাকে পৌঁছে দিতে হার্ট, কিডনি, চোখসহ গুরুত্বপূর্ণ চিকিৎসাসেবাকে যতটা সম্ভব সুলভ করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কৃষকদের জন্য সার, বীজ, সেচ, কীটনাশক ও বীমা সহজলভ্য করা হয়েছে।
পাশাপাশি, টেকসই জ্বালানি ব্যবস্থার বিকাশে সৌর ও নবায়নযোগ্য জ্বালানি খাতে বিশেষ সহায়তা ও প্রণোদনা প্রদান করা হয়েছে, জানান তিনি।
মাহদী আমিন লেখেন, এই বাজেটের মূল লক্ষ্য দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার, সহজ শর্তে ব্যাংকঋণ প্রদান এবং কর্মসংস্থাননির্ভর প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করা। তারুণ্য ও নারীর ক্ষমতায়নকে প্রাধান্য দিয়ে স্টার্টআপ, ফ্রিল্যান্সিং, আউটসোর্সিং, কনটেন্ট ক্রিয়েশন ও অন্যান্য প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবসাকে সহায়তা দেওয়া হয়েছে। বেশ কিছু নতুন থ্রাস্ট সেক্টরকে চিহ্নিত করে বন্ডেড সুবিধা বৃদ্ধি করা হয়েছে এবং ব্যবসা শুরু ও সম্প্রসারণের প্রক্রিয়া আরও সহজ করা হচ্ছে। এই বাজেট শুধু ঢাকা-কেন্দ্রিক উন্নয়নের নয়; বরং ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পের জন্য পলিসি সাপোর্টের পাশাপাশি, তৃণমূলের একেবারে ওয়ার্ড পর্যায় পর্যন্ত মানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রত্যয়কে ধারণ করেছে।
প্রধানমন্ত্রীর এই উপদেষ্টা লেখেন, এবারের বাজেটে কালো টাকা সাদা করার কোনো সুযোগ রাখা হয়নি। বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ ফেরত আনাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকিং সেক্টর ও পুঁজিবাজারে আর্থিক শৃঙ্খলা ও সুশাসনের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রয়োজনীয় সংস্কারের মাধ্যমে নিশ্চিত করা হচ্ছে গ্রাহকদের সুরক্ষা ও ঋণ প্রদানে দুর্নীতিমুক্ত প্রক্রিয়া।
তিনি লেখেন, এই বাজেটের অন্যতম লক্ষ্য পরিচালনা ব্যয় কমিয়ে উন্নয়ন ব্যয় বৃদ্ধি করা, যাতে দেশের জনগণের অর্থ সরাসরি উৎপাদনশীল খাত ও জনসাধারণের উন্নয়নে অধিকতর কাজে লাগে। একই সঙ্গে লেনদেন বৃদ্ধি, ইনফরমাল ইকোনোমিকে ধীরে-ধীরে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর আওতায় আনা এবং করের আওতা সম্প্রসারণের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির একটি টেকসই ভিত্তি গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থনীতির সুফল যাতে সকলের কাছে যায়, সেটাকে মাথায় রেখেই বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
মাহদী আমিন লেখেন, সামনের দিনগুলোতে নানা চ্যালেঞ্জ থাকবে, তবে আমরা সবাই যদি প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে উন্নয়ন ও উৎপাদনের মাধ্যমে দেশ গড়ার কাজে অংশ নিই, তাহলে বাংলাদেশ অবশ্যই অপ্রতিরোধ্য গতিতে এগিয়ে যাবে। গণতন্ত্রের শক্তি ও জনগণের আস্থাকে পুঁজি করে এই বাজেট সমৃদ্ধ ও স্বনির্ভর বাংলাদেশের পথে চলমান অভিযাত্রাকে বেগবান করবে, ইনশাআল্লাহ।
