

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


কোরবানির পশুর বর্জ্য দ্রুত অপসারণ ও সার্বিক ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম বাস্তবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) ১৬ হাজার কর্মী মাঠপর্যায়ে কাজ করবেন। একই সঙ্গে ৭৫০টিরও বেশি বর্জ্যবাহী গাড়ি ডিএনসিসি এলাকার কোরবানির পশুর বর্জ্য আমিনবাজার ল্যান্ডফিলে ডাম্পিংয়ের কাজে নিয়োজিত থাকবে। এসব বর্জ্য ঈদের দিন দুপুর ১২টা থেকে রাত ১২টার মধ্যে (১২ ঘণ্টার মধ্যে) অপসারণ করা হবে।
মঙ্গলবার (২৬ মে) রাজধানীর গুলশানে নগর ভবনে আসন্ন কোরবানির ঈদে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক মো. শফিকুল ইসলাম খান এসব কথা বলেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম বলেন, প্রধানমন্ত্রী সারা দেশের কোরবানির পশুর হাট, চামড়া ব্যবস্থাপনা, যানজট নিরসন ও বর্জ্য অপসারণ কার্যক্রম নিয়ে আন্তঃমন্ত্রণালয় বৈঠকের মাধ্যমে বিশেষ নির্দেশনা দিয়েছেন। সেই নির্দেশনার আলোকে সিটি করপোরেশনগুলোকে ১২ ঘণ্টার মধ্যে কোরবানির পশুর বর্জ্য অপসারণের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, আমি বিশ্বাস করি, ডিএনসিসির যে প্রস্তুতি দেখলাম, তাতে নির্ধারিত সময়ের অনেক আগেই নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন ও স্বস্তিদায়ক পরিবেশ উপহার দেওয়া সম্ভব হবে।
বর্ষাকালে জলাবদ্ধতা নিরসনে ড্রেনেজ ব্যবস্থা সচল রাখতে নগরবাসীর সহযোগিতাও কামনা করেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, অতিবৃষ্টির সময় সাময়িক জলজট তৈরি হলেও দ্রুত পানি নিষ্কাশনের জন্য কুইক রেসপন্স টিম (কিউআরটি) ও ড্রেনেজ টিম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
সভায় ডিএনসিসি প্রশাসক বলেন, সরকারের ঘোষিত ১২ ঘণ্টার আগেই কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করে নগরবাসীকে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ উপহার দিতে সর্বাত্মক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ সরকারের নির্ধারিত সময়ের আগেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার কোরবানির বর্জ্য অপসারণ করতে সক্ষম হবো।
প্রশাসক আরও জানান, আমিন বাজার ল্যান্ডফিলে দ্রুত বর্জ্য খালাস নিশ্চিত করতে নতুন সংযোগ সড়ক, প্ল্যাটফর্ম ও ট্রেঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে। বর্জ্য পরিবহনের কার্যক্রম তদারকিতে ডিজিটাল ওয়েব্রিজের মাধ্যমে রিয়েল-টাইম ট্রিপ মনিটরিং ব্যবস্থাও চালু রাখা হয়েছে। নগরবাসীর মধ্যে ইতোমধ্যে ১৬ লাখ ৩০ হাজার পলিব্যাগ বিতরণ করা হয়েছে। পাশাপাশি ৩ হাজার ৬০০ বস্তা ব্লিচিং পাউডার, ১ হাজার ৩৪৮ ক্যান ফিনাইল ও ৩ হাজার ৯০০ ক্যান স্যাভলন বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে, যাতে কোরবানির পর দ্রুত জীবাণুমুক্ত ও দুর্গন্ধমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা যায়।
একই সঙ্গে জনসচেতনতা বাড়াতে শহরজুড়ে মাইকিং, ডিজিটাল বিলবোর্ডে প্রচারণা, ৫০ হাজার লিফলেট বিতরণ এবং মোবাইল এসএমএসে প্রচারণা করা হচ্ছে। এ ছাড়া, মসজিদের ইমামদের মাধ্যমে জুমার খুতবায় পরিচ্ছন্নতা বিষয়ে উদ্বুদ্ধকরণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে বলেও জানান তিনি।
সভায় ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ আসাদুজ্জামান, প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর মোহাম্মদ হুমায়ুন কবীর, প্রধান স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ইমরুল কায়েস চৌধুরী, প্রধান প্রকৌশলী ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সৈয়দ রকিবুল হাসানসহ ডিএনসিসির বিভিন্ন বিভাগের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও আঞ্চলিক নির্বাহী কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।