শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

প্রথমবারের মতো কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশ-সৌদি আরব চুক্তি স্বাক্ষর

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ০৬ অক্টোবর ২০২৫, ০৬:৫০ পিএম
expand
প্রথমবারের মতো কর্মী নিয়োগে বাংলাদেশ-সৌদি আরব চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের মধ্যে সাধারণ কর্মী নিয়োগ সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ দ্বিপাক্ষিক চুক্তি সোমবার (৬ অক্টোবর) রিয়াদে স্বাক্ষরিত হয়েছে। দুই দেশের মধ্যে শ্রমবাজার সম্প্রসারণ ও অভিবাসন ব্যবস্থার ইতিহাসে এটি এক নতুন মাইলফলক হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

বাংলাদেশ সরকারের পক্ষে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল এবং সৌদি সরকারের পক্ষে মানবসম্পদ ও সামাজিক উন্নয়ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছরের ইতিহাসে এটাই প্রথমবারের মতো সাধারণ কর্মী নিয়োগ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক চুক্তি। এর আগে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে কর্মী পাঠানো হতো অনানুষ্ঠানিকভাবে। ১৯৭৬ সালে প্রথমবারের মতো বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে শ্রমিক পাঠানো হয়, এরপর থেকে প্রায় ৩০ লাখের বেশি বাংলাদেশি সেখানে কর্মরত রয়েছেন। বর্তমানে সৌদি আরব বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স উৎস।

এর আগে ২০১৫ সালে গৃহকর্মী নিয়োগ এবং ২০২২ সালে দক্ষতা যাচাই ও স্বীকৃতি সংক্রান্ত দুটি বিশেষ চুক্তি হয়েছিল। তবে সাধারণ কর্মী নিয়োগে এটিই প্রথম আনুষ্ঠানিক চুক্তি, যা প্রবাসী কর্মীদের অধিকার ও সুরক্ষা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

নতুন এই চুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশ থেকে সৌদি আরবে দক্ষ, অদক্ষ ও আধা-দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর সুযোগ আরও বাড়বে। দুই দেশ যৌথভাবে প্রশিক্ষণ, দক্ষতা যাচাই, নিরাপদ অভিবাসন এবং নিয়োগ প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে কাজ করবে। পাশাপাশি নিয়োগকর্তা ও কর্মীর মধ্যে চুক্তিভিত্তিক সম্পর্ক, আকামা নবায়ন এবং এক্সিট ভিসা প্রদানের প্রক্রিয়া আরও সুসংহত হবে।

চুক্তি স্বাক্ষরের আগে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ড. আসিফ নজরুল সৌদি কর্তৃপক্ষকে আহ্বান জানান, যেন কর্মীদের অধিকার সুরক্ষিত থাকে, আকামা নবায়ন যথাযথভাবে সম্পন্ন হয় এবং দেশে ফিরতে ইচ্ছুক শ্রমিকরা দ্রুত এক্সিট ভিসা পান। তিনি আরও বলেন, “বাংলাদেশ থেকে আমরা প্রশিক্ষিত ও সার্টিফায়েড কর্মী পাঠাতে চাই, যাতে সৌদি আরব আরও দক্ষ শ্রমশক্তি পায়।”

জবাবে সৌদি মানবসম্পদমন্ত্রী ইঞ্জিনিয়ার আহমেদ বিন সোলাইমান আল-রাজী বলেন, “বাংলাদেশ আমাদের গুরুত্বপূর্ণ শ্রমবাজার অংশীদার। এই চুক্তি শুধু নিয়োগ নয়, মানবসম্পদ উন্নয়নের ক্ষেত্রেও নতুন অধ্যায় সূচনা করবে।”

বৈঠকে আরও আলোচনা হয়—বাংলাদেশে সৌদি বিনিয়োগে প্রশিক্ষণকেন্দ্র স্থাপন, নারী কর্মীদের সুরক্ষা, ডিজিটাল যাচাইকরণ ব্যবস্থা প্রবর্তন, এবং দালালচক্র নিয়ন্ত্রণে যৌথ মনিটরিং সিস্টেম চালুর বিষয়ে।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সৌদি আরবে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দেলওয়ার হোসেন, মিশন উপপ্রধান এস. এম. নাজমুল হাসান, শ্রম কাউন্সেলর মুহাম্মাদ রেজায়ে রাব্বী এবং সৌদি মানবসম্পদ মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা।

প্রবাসীকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, এই চুক্তি কার্যকর হলে আগামী দুই বছরের মধ্যে সৌদি আরবে বাংলাদেশি কর্মীর সংখ্যা কমপক্ষে ২০ শতাংশ বাড়বে। বর্তমানে প্রায় ২৭ লাখ বাংলাদেশি সেখানে কাজ করছেন, যারা বছরে প্রায় ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার দেশে পাঠান।

চুক্তির ফলে বাংলাদেশি কর্মীরা দক্ষতা অনুযায়ী উন্নত বেতন, ভালো কর্মপরিবেশ, চিকিৎসা ও আবাসনের সুবিধা পাবেন। একই সঙ্গে একটি যৌথ অনলাইন ডেটা প্ল্যাটফর্ম তৈরি হবে, যেখানে নিয়োগ ও কর্মচুক্তির তথ্য সংরক্ষিত থাকবে।

বাংলাদেশ সরকার আশা করছে, এই ঐতিহাসিক চুক্তি দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করবে এবং বৈদেশিক কর্মসংস্থানে নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন