মঙ্গলবার
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
মঙ্গলবার
১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১ বৈশাখ ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কৃষক কার্ড কারা পাবেন, মিলবে যেসব সুবিধা

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৪ এপ্রিল ২০২৬, ১১:২২ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

নির্বাচনী ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিচ্ছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বাংলা নববর্ষ ১৪৩৩ উপলক্ষে দেশের ১০টি জেলায় পরীক্ষামূলকভাবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কার্যক্রম উদ্বোধন করবেন তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ এপ্রিল) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্র জানায়, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আজ সকাল সাড়ে ১০টায় টাঙ্গাইলের শহীদ মারুফ স্টেডিয়ামে দেশব্যাপী প্রি-পাইলটিং হিসেবে ‘কৃষক কার্ড’ বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন এবং কৃষক সমাবেশে বক্তব্য রাখবেন।

এর আগে সোমবার দুপুরে বাংলাদেশ সচিবালয়ে কৃষি ও কৃষিজাত শিল্পায়নে বিনিয়োগকারীদের সঙ্গে মতবিনিময় শেষে সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন বলেন, ‘প্রথম পর্যায়ে দেশের ১০টি জেলার ১১টি উপজেলায় এ কার্যক্রম চালু করা হচ্ছে, যার মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে প্রায় ৩০ লাখ কৃষককে এ বিশেষ কার্ডের আওতায় আনা হবে।

টাঙ্গাইলে উদ্বোধনী দিনে ১৫০০ জন কৃষকের হাতে ব্যক্তিগতভাবে এ কার্ড তুলে দেওয়ার মাধ্যমে এ যুগান্তকারী কর্মসূচির শুভ সূচনা করবেন প্রধানমন্ত্রী।’

প্রাক-পাইলটিং (পরীক্ষামূলক) পর্যায়ে ১০ জেলার ১১টি উপজেলার ১১টি ব্লকে এ কার্যক্রম উদ্বোধন করা হচ্ছে। যেসব এলাকায় কর্মসূচি চালু হচ্ছে, সেগুলোর মধ্যে রয়েছে পঞ্চগড় সদর উপজেলার কমলাপুর ব্লক, বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার উথলি ব্লক, ঝিনাইদহের শৈলকূপা উপজেলার কৃপালপুর ব্লক, পিরোজপুরের নেছারাবাদ উপজেলার রাজাবাড়ি ব্লক, কক্সবাজারের টেকনাফ উপজেলার রাজারছড়া ব্লক, কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলার অরণাপুর ব্লক, টাঙ্গাইল সদর উপজেলার সুরুজ ব্লক, রাজবাড়ির গোয়ালন্দ উপজেলার তেনাপঁচা ব্লক, মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার ফুলতলা ব্লক, পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলার পাঁচপির ব্লক এবং জামালপুরের ইসলামপুর উপজেলার গাইবান্ধা ব্লক।

সরকার তিন ধাপে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করবে প্রাক-পাইলটিং, পাইলটিং এবং দেশব্যাপী সম্প্রসারণ। পাঁচটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে কৃষকদের মধ্যে কার্ড বিতরণ করা হবে।

কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ জানিয়েছেন, প্রাক-পাইলটিং পর্যায়ে ফসল উৎপাদনকারী কৃষকের পাশাপাশি মৎস্যচাষি, আহরণকারী, প্রাণিসম্পদ খামারি, দুগ্ধ খামারি এবং প্রয়োজনে লবণচাষিকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এতে ভূমিহীন, প্রান্তিক, ক্ষুদ্র, মাঝারি ও বড় সব ধরনের কৃষকই সুবিধার আওতায় আসবেন।

এই পর্যায়ে ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৮ কোটি ৩৪ লাখ টাকা। প্রাক-পাইলটিং শেষে আগামী আগস্ট পর্যন্ত আরও ১৫টি উপজেলায় পাইলট কার্যক্রম চালু করা হবে। এরপর চার বছরের মধ্যে সারা দেশে কার্ড বিতরণ ও একটি সমন্বিত তথ্যভাণ্ডার গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে।

‘কৃষক কার্ড’ মূলত একটি ব্যাংকিং ডেবিট কার্ড। সোনালী ব্যাংকের স্থানীয় শাখাগুলোর মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট কৃষকদের নামে হিসাব খুলে এই কার্ড দেওয়া হচ্ছে। ১১ এপ্রিল পর্যন্ত ২২ হাজার ৬৫ জন কৃষকের তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে। এর মধ্যে ভূমিহীন ২ হাজার ২৪৬ জন, প্রান্তিক ৯ হাজার ৪৫৮ জন, ক্ষুদ্র ৮ হাজার ৯৬৭ জন, মাঝারি ১ হাজার ৩০৩ জন এবং বড় কৃষক ৯১ জন।

ভূমিহীন, প্রান্তিক ও ক্ষুদ্র কৃষকদের জন্য কার্ডের মাধ্যমে বছরে আড়াই হাজার টাকা করে নগদ সহায়তাও দেওয়া হবে। এ সুবিধা পাচ্ছেন মোট ২০ হাজার ৬৭১ জন কৃষক।

এই কার্ডের মাধ্যমে কৃষকেরা ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন। এর মধ্যে রয়েছে ন্যায্যমূল্যে কৃষি উপকরণ ও সেচ সুবিধা, সহজ শর্তে কৃষিঋণ, স্বল্পমূল্যে কৃষিযন্ত্রপাতি, সরকারি ভর্তুকি ও প্রণোদনা, মোবাইল ফোনে আবহাওয়ার পূর্বাভাস ও বাজার তথ্য, কৃষি প্রশিক্ষণ, রোগ-বালাই দমনের পরামর্শ, কৃষি বিমা এবং ন্যায্যমূল্যে কৃষিপণ্য বিক্রয়ের সুযোগ।

সব মিলিয়ে কৃষি খাতে আধুনিকায়ন ও কৃষকদের সরাসরি সহায়তা দিতে ‘কৃষক কার্ড’ কর্মসূচিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ হিসেবে দেখছে সরকার।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন