

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


রাজধানীর কড়াইল বস্তিতে আগামী ১০ মার্চ ফ্যামিলি কার্ড বিতরণের কর্মসূচি উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। এর আগে প্রধানমন্ত্রীর ১০ মার্চ বগুড়ায় ফ্যামিলি কার্ড বিতরণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়ার কথা ছিল।
কিন্তু বগুড়া-৬ (সদর) আসনের আসন্ন উপনির্বাচনের কারণে তার বগুড়া সফর স্থগিত করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩ মার্চ) বিকেলে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠক শেষে এমন তথ্য জানান সমাজকল্যাণমন্ত্রী ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ইতোমধ্যে ‘ফ্যামিলি কার্ড পাইলটিং বাস্তবায়ন গাইডলাইন-২০২৬’ নীতিমালা চূড়ান্ত করেছে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। ‘ব্যক্তি নয়, পরিবারই উন্নয়নের মূল একক’, দর্শনে নীতিমালাটি খুব শিগগির প্রজ্ঞাপন আকারে জারি করা হবে। নিম্ন-মধ্যম ও উচ্চ আয়ের মধ্যে ছয় শ্রেণির মানুষকে সুবিধার বাইরে রেখে সরকারের ‘ফ্যামিলি কার্ড নীতিমালা’ চূড়ান্ত করেছে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, যারা এ কার্ড পাবেন না তারা হলেন পরিবারের কেউ সরকারের পেনশনভোগী থাকলে; বাড়িতে এসি ব্যবহারকারী বা গাড়িসহ বিলাসবহুল সম্পদের মালিক; পরিবারের কোনো সদস্য সরকারি চাকরিজীবী থাকলে এবং বাণিজ্যিক লাইসেন্সের মালিক বা বড় ব্যবসা থাকারা।
সূত্র মতে, নীতিমালায় কার্ড পাওয়ার ক্ষেত্রে সাত ব্যক্তি-শ্রেণির মানুষকে অগ্রাধিকার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। সেখানে বলা আছে ভূমিহীন ও গৃহহীন, প্রতিবন্ধী সদস্যের পরিবার এ কার্ড পাবে।
এছাড়া অনগ্রসর জনগোষ্ঠী হিজড়া, বেদে ও ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর পরিবার এবং শূন্য দশমিক পাঁচ একর বা এর কম জমির মালিক এ কার্ড পাবে। কার্ডের সুবিধাভোগী নারী নির্বাচনে সর্বোচ্চ স্বচ্ছতা নিশ্চিতের ওপর জোর দেওয়া হচ্ছে।
নির্বাচনের প্রক্রিয়া হিসাবে সরকারের খানা জরিপ এবং সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় থেকে সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচির ডেটাবেইস ব্যবহার করা হবে। সেখান থেকে প্রকৃত এবং উপযুক্ত সুবিধাভোগীকে শনাক্ত এবং এনআইডি কার্ডের মাধ্যমে উপযুক্ত ব্যক্তিকে তালিকাভুক্ত করা হবে।
জানা গেছে, সরকারি কোষাগার থেকে এ অর্থ সরাসরি সুবিধাভোগী নারীর মোবাইল ওয়ালেট বা ব্যাংক অ্যাকাউন্টে জমা হবে। এর পাশাপাশি বিদ্যমান টিসিবি কার্ডকে ফ্যামিলি কার্ডের ‘ডাইনামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি’ হিসাবে স্থানান্তরিত করা হবে। একই স্মার্ট কার্ড ব্যবহার করে ওটিপি ভেরিফিকেশনের মাধ্যমে সাশ্রয়ী মূল্যে খাদ্য সহায়তা এবং ভবিষ্যতে শিক্ষা উপবৃত্তি ও কৃষি ভর্তুকির মতো সুবিধাগুলোও পাওয়া যাবে।
২০২৮ সালের মধ্যে দেশের সামাজিক নিরাপত্তা বাজেটকে জিডিপির ৩ শতাংশে উন্নীত করার একটি নির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা এ গাইডলাইনে নির্ধারণ করা হয়েছে।
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে, পাইলট প্রকল্পের আওতায় ফ্যামিলি কার্ডের জন্য দেশের ১৩টি ভিন্নধর্মী এলাকা নির্বাচন করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ঢাকার বনানী কড়াইল বস্তি (শহরে বস্তি), চট্টগ্রামের পটিয়া (শিল্প এলাকা), বান্দরবানের লামা (পার্বত্য এলাকা), সুনামগঞ্জের দিরাই (হাওর এলাকা) এবং ঠাকুরগাঁও সদর (সীমান্তবর্তী এলাকা)। এলাকা নির্বাচনের ক্ষেত্রে দারিদ্র্যের ঘনত্ব ভৌগোলিক চ্যালেঞ্জ এবং অনগ্রসরতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে। এ পাইলটিং প্রকল্পের জন্য মোট দুই কোটি ১১ লাখ টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে, যার ৭৭ শতাংশ অর্থ সরাসরি দরিদ্র পরিবারগুলোর হাতে পৌঁছাবে।
নীতিমালায় বলা হয়েছে, দেশে ৯৫টিরও বেশি সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি চলছে। কিন্তু এর মধ্যে সমন্বয়হীনতার, একই ব্যক্তির একাধিক সুবিধা গ্রহণ এবং প্রায় ২২-২৫ শতাংশ প্রকৃত দরিদ্ররা বাদ পড়ছেন।
এসব সমস্যা দূর করে একটি বৈষম্যহীন ও মানবিক কল্যাণ রাষ্ট্র গড়ে তোলাই এ প্রকল্পের লক্ষ্য। এ কর্মসূচির দীর্ঘমেয়াদি রূপকল্প হলো ২০৩০ সালের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ডকে প্রতিটি নাগরিকের জন্য একটি ‘সর্বজনীন সোশ্যাল আইডি কার্ড’-এ রূপান্তর করা।
সূত্র মতে, নীতিমালায় কার্ডের সুনির্দিষ্ট লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ১৪টি উপজেলায় প্রত্যেকটিতে একটি ইউনিয়নের একটি ওয়ার্ডের হতদরিদ্র, দরিদ্র ও নিম্নবিত্ত নারীরা এ কার্ড পাবেন।
এ কার্ডের আওতায় প্রত্যেক পরিবারকে আড়াই হাজার করে টাকা দেওয়া হবে। প্রাথমিকভাবে দেশের সাড়ে ছয় হাজার হতদরিদ্র পরিবারকে কার্ড দেওয়া হবে এবং পর্যায়ক্রমে দুই কোটি দরিদ্র পরিবারকে এ সুবিধার আওতায় আনা হবে। এ ছাড়া এ কর্মসূচি চালু হলে সব নগদ ভাতা ও টিসিবির সহায়তা এক কার্ডের অধীনে চলে আসবে।
মন্তব্য করুন
