

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০২৫ জনস্বার্থে দ্রুত স্থগিতের জন্য আবেদন জানিয়েছে বাংলাদেশ ফার্টিলাইজার অ্যাসোসিয়েশনের (বিএফএ) কুমিল্লা জেলা ইউনিট। সদ্য গঠিত বিএনপি সরকারের কৃষিমন্ত্রী আমিনুর রশিদ ইয়াছিন বরাবর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি এ আবেদন করা হয়।
জানা যায়, বিদায়ী অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সংস্কারের নামে বিদ্যমান “সার ডিলার নিয়োগ ও সার বিতরণ সংক্রান্ত সমন্বিত নীতিমালা ২০০৯” বাতিল করে তড়িঘড়ি করে নতুন নীতিমালা ২০২৫ জারি করে। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের কাছ থেকে যথাযথ মতামত বা পরামর্শ গ্রহণ না করেই একতরফাভাবে একটি বিশেষ মহলকে সুবিধা প্রদানের উদ্দেশ্যে নীতিমালা ২০২৫ প্রবর্তনের অভিযোগ উঠেছে। আবেদনকারী সার ডিলার ও আমদানিকারকদের সংগঠন এ নীতিমালাকে বিতর্কিত ও জনস্বার্থবিরোধী বলে উল্লেখ করেছে।
তারা বলেন, গত ৩০ বছরের সুপ্রতিষ্ঠিত সার সরবরাহ পদ্ধতির নীতিমালা ২০০৯ বাতিল করে বিতর্কিত নীতিমালা ২০২৫-এর আলোকে কার্যক্রম চালু করা হলে মাঠপর্যায়ে সারের সুষ্ঠু সরবরাহে ব্যাঘাত ঘটতে পারে এবং বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হতে পারে।
সংগঠনের নেতৃবৃন্দ আশঙ্কা প্রকাশ করে বলেন, এ পরিস্থিতি নির্বাচিত সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে পারে, যা কোনোভাবেই কাম্য নয়।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ১৯৯৫ সালে কৃষক পর্যায়ে সারের বিপণন সুষ্ঠু রাখার লক্ষ্যে তৎকালীন বিএনপি সরকারের বলিষ্ঠ ভূমিকায় সারাদেশে ৪ হাজার ৮০০ জনকে সারের ডিলারশিপ প্রদান করা হয়। সেই ধারাবাহিকতায় গত ৩০ বছর ধরে পরীক্ষিত ডিলাররা দায়িত্বশীলতার সঙ্গে কৃষকের দোরগোড়ায় সারের সুষ্ঠু বিতরণ ও সরবরাহ নিশ্চিত করে আসছেন।
কৃষকের সারপ্রাপ্তি সহজ করার লক্ষ্যে কয়েক বছর আগে ২০০৯ সালের নীতিমালায় আংশিক সংশোধন আনা হয়। এতে প্রতি ইউনিয়নে একজন বিসিআইসি ডিলারের পাশাপাশি প্রত্যেক ওয়ার্ডে একজন করে খুচরা সার বিক্রেতা নিয়োগ দেওয়া হয়। পাশাপাশি প্রয়োজন অনুযায়ী বিএডিসির সার ও বীজ ডিলারও রয়েছেন। ফলে এ পর্যন্ত সারসংকট বা কৃষক পর্যায়ে সারপ্রাপ্তিতে কোনো উল্লেখযোগ্য সমস্যা দেখা দেয়নি।
এমন পরিস্থিতিতে জনস্বার্থবিরোধী নীতিমালা ২০২৫ অনতিবিলম্বে বাতিল করে সংশ্লিষ্ট সকল অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা ও পরামর্শক্রমে নীতিমালাটি পুনর্বিবেচনার দাবি জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে কৃষকবান্ধব, আধুনিক ও যুগোপযোগী নতুন নীতিমালা প্রণয়নের আহ্বান জানানো হয়েছে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট সকলের প্রতি।
মন্তব্য করুন

