

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সুপ্রদীপ চাকমা বলেছেন, খাগড়াছড়িতে সাম্প্রতিক ধর্ষণকাণ্ডের পর যে বিক্ষোভ ও উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে, তার পেছনে তৃতীয় পক্ষের ইন্ধন থাকতে পারে। রোববার দুপুরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন।
গত ২৩ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় জেলা সদরের সিঙ্গিনালা এলাকায় অষ্টম শ্রেণির এক শিক্ষার্থী সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হওয়ার পর খাগড়াছড়িতে ব্যাপক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এই ঘটনার জেরে কয়েক দিন ধরে অবরোধ, মিছিল, সমাবেশ ও সহিংসতার ঘটনায় জেলার পরিস্থিতি থমথমে হয়ে উঠেছে।
শনিবার দুপুরে সদর উপজেলা পরিষদ, মহাজন পাড়া, নারিকেল বাগান, চেঙ্গী স্কোয়ার, শহীদ কাদের সড়কসহ বিভিন্ন স্থানে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ফাঁকা গুলি ও টিয়ারশেল ছুড়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এ সময় স্বনির্ভর ও নারিকেল বাগান এলাকায় কিছু দোকানে হামলা ও ভাঙচুর হয়।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে দুপুর থেকে খাগড়াছড়ি পৌরসভা, সদর উপজেলা ও গুইমারা উপজেলায় অনির্দিষ্টকালের জন্য ১৪৪ ধারা জারি করা হয়েছে। বিজিবির সাত প্লাটুন সদস্য ছাড়াও সেনাবাহিনী ও পুলিশ শহরের বিভিন্ন সড়কে টহল দিচ্ছে।
সহিংসতায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছেন; এর মধ্যে একজনকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় চট্টগ্রামে স্থানান্তর করা হয়েছে। এ ছাড়া রাতে খাগড়াছড়িতে বৌদ্ধ বিহারে নাশকতার প্রস্তুতিকালে তিন যুবককে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
ঘটনার কারণে সাজেক ভ্রমণে যাওয়া প্রায় দুই হাজার পর্যটক আটকা পড়েন। পরে বিশেষ নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে তারা খাগড়াছড়ি শহরে ফিরে এসে রাতেই নিজ নিজ গন্তব্যে রওনা হন। তবে এখনো খাগড়াছড়ির বিভিন্ন হোটেলে বিপুল সংখ্যক পর্যটক দুর্ভোগে রয়েছেন।
জুম্ম ছাত্র-জনতার ব্যানারে দ্বিতীয় দফায় শনিবার সকাল-সন্ধ্যা সড়ক অবরোধ কর্মসূচি পালনের সময় জেলার বিভিন্ন স্থানে গাছের গুড়ি ফেলে এবং টায়ারে আগুন জ্বালিয়ে ব্যারিকেড সৃষ্টি করা হয়। আলুটিলায় একটি অ্যাম্বুলেন্স এবং নারানখাইয়া এলাকায় একটি অটোরিকশা ভাঙচুর করা হয়।
বর্তমানে এলাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে।
মন্তব্য করুন
