সোমবার
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
সোমবার
১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ৪ ফাল্গুন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

নতুন মন্ত্রীদের জন্য প্রস্তুত ২৭ বাসভবন, থাকছে ৫০টি গাড়ি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৬ ফেব্রুয়ারি ২০২৬, ১০:৫৭ এএম
ছবি সংগৃহীত
expand
ছবি সংগৃহীত

নতুন মন্ত্রিসভার সদস্যদের আবাসনের জন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ২৭টি সরকারি বাসভবন প্রস্তুত করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। মিন্টো রোড, হেয়ার রোড, বেইলি রোড ও গুলশানসহ গুরুত্বপূর্ণ স্থানে অবস্থিত এসব বাড়িতে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, রং করা এবং প্রয়োজনীয় সংস্কারের কাজ চলছে।

পাশাপাশি আসবাবপত্রসহ অন্যান্য অবকাঠামোগত সুবিধাও নিশ্চিত করা হচ্ছে। মন্ত্রীদের নামে আনুষ্ঠানিক বরাদ্দ সম্পন্ন হওয়ার পর তাঁদের চাহিদা অনুযায়ী অতিরিক্ত মেরামত ও সাজসজ্জার ব্যবস্থা করা হবে।

অন্যদিকে, মন্ত্রীদের দাপ্তরিক ব্যবহারের জন্য ৫০টি গাড়ি ও প্রয়োজনীয় সংখ্যক চালক প্রস্তুত রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট পরিবহন পুল সূত্র।

গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী খালেকুজ্জামান চৌধুরী জানিয়েছেন, ইতোমধ্যে ২৭টি বাসভবন অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে এবং সেগুলো বসবাসের উপযোগী করে তোলার কাজ দ্রুত এগিয়ে চলছে।

নতুন করে যেসব বাসা হস্তান্তর করা হবে, সেগুলোরও প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করা হবে। সরকারি আবাসন পরিদপ্তরের মাধ্যমে এসব বাসা বরাদ্দ দেওয়া হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ২১২টি আসনে জয়লাভ করে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। ইতোমধ্যে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। আগামীকাল সকালে সংসদ সদস্যদের এবং বিকেলে মন্ত্রিসভার সদস্যদের শপথ গ্রহণের কথা রয়েছে।

গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে মন্ত্রীদের জন্য প্রায় ৪০টি সরকারি বাসভবন রয়েছে, যেগুলোতে আগে মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী ও উপদেষ্টারা বসবাস করতেন। এর মধ্যে কিছু বাসা আগে থেকেই খালি ছিল এবং উপদেষ্টাদের ছেড়ে দেওয়া বাসাগুলোকেও নতুনভাবে সংস্কার করা হচ্ছে।

সংস্কার কার্যক্রমের মধ্যে স্বাস্থ্যসম্মত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, বাথরুমের ফিটিংস পরিবর্তন এবং রং করার কাজ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। মন্ত্রিসভার আকার অনুযায়ী চূড়ান্তভাবে কতগুলো বাসা প্রয়োজন হবে, তা নির্ধারণ করা হবে।

প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন হিসেবে ‘যমুনা’ প্রস্তুতের ভাবনা

নতুন প্রধানমন্ত্রী কোথায় বসবাস করবেন-এ বিষয়ে এখনো চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের বর্তমান সরকারি বাসভবন ‘যমুনা’কে সম্ভাব্য আবাসন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন নির্বাচন সম্পূর্ণ ব্যক্তিগত সিদ্ধান্তের বিষয়। তিনি চাইলে নিজস্ব বাসভবনেও থাকতে পারেন অথবা নতুন কোনো সরকারি বাসভবন নির্ধারণ করতে পারেন। তাৎক্ষণিক ব্যবহারের জন্য বর্তমানে ‘যমুনা’কেই সবচেয়ে উপযোগী হিসেবে ধরা হচ্ছে।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন হিসেবে গণভবন ব্যবহৃত হয়ে আসছিল। তবে ওই বছরের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পর অন্তর্বর্তী সরকার গণভবনকে জাদুঘরে রূপান্তরের উদ্যোগ নেয়। এরপর থেকেই নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য বিকল্প বাসভবন নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু হয়।

এ লক্ষ্যে গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয় দুই দফায় কমিটি গঠন করে। কমিটি শেরেবাংলা নগরের সংসদ ভবন এলাকায় স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারের বাসভবন এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় সংলগ্ন এলাকায় নতুন প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবন স্থাপনের প্রস্তাব দেয়। তবে উপদেষ্টা পরিষদ সুপারিশগুলো অনুমোদন না করায় বিষয়টি এখন নতুন প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।

ড. মুহাম্মদ ইউনূস বর্তমান বাসভবন ‘যমুনা’ ছেড়ে দিলে সেটি সংস্কার করে নতুন প্রধানমন্ত্রীর জন্য প্রস্তুত করা যেতে পারে বলেও জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র। প্রয়োজন হলে এক থেকে দুই মাসের মধ্যেই বাসভবনটি সম্পূর্ণ প্রস্তুত করা সম্ভব বলে মনে করছেন কর্মকর্তারা।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X