

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যায় জড়িতদের বিচারের দাবিতে ফের উত্তাল রাজধানী। জাতিসংঘের অধীনে আলোচিত এই হত্যাকাণ্ডের নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চের অবস্থান কর্মসূচি ঘিরে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় পুলিশকে লাঠিপেটা, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এতে সংগঠনটির সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবেরসহ অর্ধশতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন।
এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতবাদের ঝড় উঠেছে ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে। ইনকিলাব মঞ্চের কর্মীদের ওপর হামলার ঘটনায় জড়িতদের বিচারের দাবিও জানিয়েছে অনেক সংগঠন।
শুক্রবার (৬ জানুয়ারি) বিকেলে ও পরে সন্ধ্যার পর রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের মোড় ও শাহবাগ এলাকায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার বিকেল থেকে জাতিসংঘের অধীনে ওসমান হাদি হত্যার নিরপেক্ষ তদন্তের দাবিতে প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে ও ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলের সামনে দুই ভাগে ভাগ হয়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছিলেন ইনকিলাব মঞ্চের নেতা–কর্মীরা।
এ ঘটনায় নিজের ভেরিফাইড ফেসবুক পেইজে পোস্ট করেন এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক এই উপদেষ্টা ওই পোস্টে লিখেছেন- 'এই হামলা ন্যাক্কারজনক! শহীদ হাদি হত্যার বিচার চাওয়া কি অপরাধ?'
এদিন, সন্ধ্যায় গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে এ ঘটনায় নিন্দা ও প্রতিবাদ জানিয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। একই সঙ্গে দোষীদের শাস্তির আওতায় আনার আহ্বান জানানো হয় বিবৃতিতে।
এর আগে, শুক্রবার বিকেলে ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নূরুল ইসলাম এবং সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ এক যৌথ বিবৃতিতে এ ঘটনার তীব্র প্রতিবাদ জানান। ছাত্রশিবির জানায়, প্রশাসনের এই গড়িমসি এবং খুনিদের মদদ দেওয়ার চেষ্টা কোনোভাবেই বরদাশত করা হবে না।
এদিকে, সন্ধ্যায় তাৎক্ষণিক বিক্ষোভ মিছিল করে এ ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক পার্টি এনসিপি। হাদির বিচার না হওয়ার পর্যন্ত রাজপথ না ছাড়ার ঘোষণা দেয় সংগঠনটি। এসময় এনসিপির মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, সরকার কারো এজেন্ডা বাস্তবায়নে কাজ করছে। আহতদের দ্রুত তাদের চিকিৎসা দেয়ার দাবি জানান তিনি।
ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বলেছে- শহীদ ওসমান হাদির নির্মম হত্যাকাণ্ডের প্রায় দুই মাস অতিক্রান্ত হলেও আজ পর্যন্ত বিচার প্রক্রিয়ার দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি নেই-যা জাতির জন্য চরম লজ্জাজনক ও উদ্বেগজনক। বিচারহীনতার এই সংস্কৃতি অব্যাহত থাকলে রাষ্ট্রের ন্যায়বিচার ব্যবস্থা এবং আইনের শাসন মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হবে।
শুক্রবার বিকেলে ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বাংলাদেশ-এর কেন্দ্রীয় সভাপতি মুনতাছির আহমাদ ও সেক্রেটারি জেনারেল সুলতান মাহমুদ গণমাধ্যমে প্রেরিত এক যৌথ বিবৃতিতে এসব কথা জানান। বলা হয়- চব্বিশ পরবর্তী বাংলাদেশে যদি শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচার নিশ্চিত না হয়, তাহলে দেশ আবারও ফ্যাসিবাদী আমলের মতো বিচারহীনতার অন্ধকারে নিমজ্জিত হবে।
মন্তব্য করুন
