

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ঢাকার বাতাসে দূষণের মাত্রা কিছুটা কমলেও এখনো তা স্বাস্থ্যঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় রয়েছে। সুইজারল্যান্ডভিত্তিক বায়ুমান পর্যবেক্ষক প্রতিষ্ঠান আইকিউএয়ারের শুক্রবার (সকাল ৮টা ৩০ মিনিট) প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী, ঢাকার একিউআই সূচক দাঁড়িয়েছে ১৪৪। এ মানকে সংবেদনশীল জনগোষ্ঠীর জন্য অস্বাস্থ্যকর ধরা হয়।
তবে বৈশ্বিক বায়ুদূষণের তালিকায় ঢাকা এখনো দ্বিতীয় স্থানে। এর আগের দিন বৃহস্পতিবার ঢাকার স্কোর ছিল ১৭২, যা ‘অস্বাস্থ্যকর’ মাত্রার মধ্যে পড়ে।
আজকের তালিকায় শীর্ষে রয়েছে পাকিস্তানের লাহোর, যার বায়ুমান সূচক ১৪৫। শীর্ষ পাঁচে আরও রয়েছে ভারতের দিল্লি (১৩২), উজবেকিস্তানের তাশকেন্ট (১৩০) এবং উগান্ডার কাম্পালা (১২৭)।
আইকিউএয়ার জানায়, ঢাকার বাতাসে অতিক্ষুদ্র ধূলিকণা বা পার্টিকুলেট ম্যাটারই দূষণের প্রধান উৎস। এ ধরনের দূষণ ফুসফুস ও হৃদরোগসহ দীর্ঘমেয়াদে ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়ায়।
একিউআই সূচকের মানদণ্ড
৫০ এর নিচে → বিশুদ্ধ বাতাস
৫১–১০০ → সহনীয়
১০১–১৫০ → সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর
১৫১–২০০ → সবার জন্য অস্বাস্থ্যকর
২০১–৩০০ → খুব অস্বাস্থ্যকর
৩০০ এর বেশি → বিপজ্জনক/দুর্যোগপূর্ণ
স্বাস্থ্যঝুঁকি ও গবেষণা
বায়ুদূষণকে ‘অদৃশ্য বৈশ্বিক বিপদ’ আখ্যা দিয়ে গবেষকেরা বলছেন, শুধু জীবাশ্ম জ্বালানিজনিত দূষণই প্রতিবছর প্রায় ৫২ লাখ মানুষের মৃত্যু ঘটায়। এ তথ্য উঠে এসেছে ২০২৩ সালের নভেম্বরে প্রকাশিত ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালের এক সমীক্ষায়। অন্যদিকে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার হিসাবে, ঘরোয়া ও পরিবেশগত বায়ুদূষণের মিলিত প্রভাবে বিশ্বজুড়ে প্রতিবছর প্রায় ৬৭ লাখ মানুষ মারা যান।
সরকারের পরামর্শ
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ঢাকার বাতাস দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত দূষিত থাকায় বাইরে বের হলে সবাইকে মাস্ক পরতে হবে। বিশেষ করে শিশু, বৃদ্ধ এবং শ্বাসকষ্টসহ সংবেদনশীল মানুষদের অতি প্রয়োজন ছাড়া বাইরে না যাওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
করণীয় হিসেবে নির্দেশনা
ইটভাটা ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান থেকে ধোঁয়া নির্গমন নিয়ন্ত্রণ
কঠিন বর্জ্য পোড়ানো বন্ধ রাখা
নির্মাণসামগ্রী পরিবহনের সময় ঢেকে রাখা
নির্মাণস্থলে ছাউনি ও ঘের দেওয়ার ব্যবস্থা করা
প্রতিদিন অন্তত দু’বার পানি ছিটানো
পুরোনো ও অতিরিক্ত ধোঁয়া উৎপাদনকারী যানবাহন সড়কে না নামানো
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, এসব ব্যবস্থা কার্যকরভাবে বাস্তবায়িত না হলে ঢাকার বায়ুদূষণ কমানো কঠিন হয়ে পড়বে।
মন্তব্য করুন

