

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য প্রস্তাবিত নতুন বেতনকাঠামোর খসড়া চূড়ান্ত করেছে বেতন কমিশন। কমিশনের সুপারিশ অনুযায়ী, আগামী ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে আংশিকভাবে নতুন বেতনকাঠামো কার্যকর করা যেতে পারে। পরে ২০২৬–২৭ অর্থবছরের শুরু, অর্থাৎ ১ জুলাই থেকে এটি পূর্ণাঙ্গভাবে বাস্তবায়নের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
আগামী ২১ জানুয়ারি অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদের কাছে কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদন হস্তান্তর করা হবে। এরপর তা উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে উপস্থাপন করা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।
এরই মধ্যে চলতি ২০২৫–২৬ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হয়েছে। নতুন বেতনকাঠামোর আংশিক বাস্তবায়নের প্রস্তুতি হিসেবেই এই অতিরিক্ত বরাদ্দ রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
বেতন কমিশনের হিসাব অনুযায়ী, পুরোপুরি নতুন কাঠামো চালু করতে হলে সরকারের অতিরিক্ত ব্যয় হতে পারে প্রায় ৭০ থেকে ৮০ হাজার কোটি টাকা। প্রস্তাবিত কাঠামোতে নিম্ন গ্রেডের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন ও ভাতা তুলনামূলক বেশি বাড়ানোর ওপর জোর দেওয়া হয়েছে।
এর আগে গত মঙ্গলবার অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ সাংবাদিকদের জানান, কমিশনের প্রতিবেদন পাওয়ার পরই সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, গত বছরের ২৭ জুলাই সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য নতুন বেতনকাঠামো নির্ধারণে ২১ সদস্যের একটি বেতন কমিশন গঠন করা হয়। কমিশনের নেতৃত্বে রয়েছেন সাবেক অর্থসচিব ও পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশনের (পিকেএসএফ) চেয়ারম্যান জাকির আহমেদ খান। ছয় মাসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার নির্দেশনা ছিল কমিশনের জন্য।
বর্তমানে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ২০১৫ সালের বেতনকাঠামো অনুযায়ী বেতন-ভাতা পাচ্ছেন। সরকারি চাকরিজীবীর সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। বিদ্যমান কাঠামোয় সর্বনিম্ন বেতন ৮ হাজার ২৫০ টাকা হলেও নতুন প্রস্তাবে এটি দ্বিগুণের বেশি বাড়ানোর সুপারিশ রয়েছে। একই সঙ্গে সর্বোচ্চ বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বাড়িয়ে এক লাখ ২০ হাজার টাকারও বেশি করার প্রস্তাব করা হয়েছে। সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের ব্যবধান ১:৮ রাখার সুপারিশও করা হয়েছে।
মন্তব্য করুন

