

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশে ব্যাপকভাবে ব্যবহৃত কয়েকটি জনপ্রিয় চায়ের টি-ব্যাগে বিপজ্জনক মাত্রায় ভারী ধাতুর উপস্থিতি পাওয়া গেছে। পরিবেশ ও সামাজিক উন্নয়ন সংস্থা (ইএসডিও)-এর সাম্প্রতিক গবেষণা প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে, যা জনস্বাস্থ্য নিয়ে গুরুতর উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিষাক্ত পদার্থে তৈরি: চা ব্যাগ এবং শুকনো আলগা চায়ে ভারী ধাতুর ঝুঁকি শীর্ষক গবেষণাটি বুধবার ঢাকায় ইএসডিওর কার্যালয়ে প্রকাশ করা হয়।
স্থানীয় বাজার থেকে সংগ্রহ করা ১৩টি নমুনা (১২টি টি-ব্যাগ ও একটি খোলা চা পাতা) পরীক্ষা করে দেখা যায়, এসবের বেশিরভাগেই নিরাপদ মাত্রার চেয়ে বহু গুণ বেশি বিষাক্ত ধাতু রয়েছে।
পরীক্ষার ফলাফলে উঠে এসেছে— ক্রোমিয়াম: ১,৬৯০ পিপিএম (নিরাপদ সীমা ৫ পিপিএম)। সিসা (Lead): ৫১ পিপিএম (সীমা ৫ পিপিএম)। পারদ (Mercury): ১০৮ পিপিএম (সীমা ০.৩ পিপিএম)। আর্সেনিক: ১৪ পিপিএম (সীমা ২ পিপিএম)
এছাড়া, টি-ব্যাগের প্যাকেজিংয়েও অ্যান্টিমনির মাত্রা ১৫৪ পিপিএম পর্যন্ত ধরা পড়েছে। গবেষকরা ইউরেনিয়াম ও থোরিয়ামের উপস্থিতিও শনাক্ত করেছেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, নিয়মিত এ ধরনের দূষিত চা সেবন দীর্ঘমেয়াদে নানা স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি করতে পারে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, বাংলাদেশে দৈনিক ২-৩ কাপ চা পান করেন প্রায় ৫৫ শতাংশ মানুষ, আর ২৭ শতাংশ চার কাপ বা তার বেশি পান করেন। তবে মাত্র ১ শতাংশ ভোক্তা জানেন যে টি-ব্যাগে ক্ষতিকর ধাতু থাকতে পারে।
যদিও গবেষণায় ইতিবাচকভাবে উল্লেখ করা হয়েছে যে চা পাতায় আয়রন, ম্যাঙ্গানিজ, তামা, জিঙ্ক ও কোবাল্টের মতো প্রয়োজনীয় পুষ্টি উপাদানও পাওয়া যায়।
এ প্রসঙ্গে ইএসডিও চেয়ারম্যান মারগুব মোর্শেদ বলেন, এটি ভোক্তা অধিকারের সরাসরি লঙ্ঘন এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য মারাত্মক হুমকি। আমরা উৎপাদক, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও সংশ্লিষ্ট সবার কাছে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছি।”
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এ সংকট মোকাবিলায় কার্যকর তদারকি ও ভোক্তাদের সচেতনতা বৃদ্ধি এখন সময়ের দাবি।
মন্তব্য করুন
