সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
সোমবার
০১ ডিসেম্বর ২০২৫, ১৬ অগ্রহায়ণ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

বিডিআর হত্যাকাণ্ড: জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ৩০ নভেম্বর ২০২৫, ০৮:০৫ পিএম
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়
expand
প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দেয়া হয়

বিডিআর বিদ্রোহের সময় সংঘটিত হত্যাযজ্ঞ নিয়ে গঠিত জাতীয় স্বাধীন তদন্ত কমিশন আজ প্রধান উপদেষ্টা প্রফেসর মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে তাদের চূড়ান্ত প্রতিবেদন জমা দিয়েছে।

কমিশনের প্রধান মেজর জেনারেল (অব.) আ. ল. ম. ফজলুর রহমান ও অন্যান্য সদস্যরা রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার কাছে প্রতিবেদন হস্তান্তর করেন।

কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা হলেন, মেজর জেনারেল মো. জাহাঙ্গীর কবির তালুকদার (অব.), ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমান বীর প্রতীক (অব.), মুন্সী আলাউদ্দিন আল আজাদ, যুগ্ম সচিব (অব.), ড. এম. আকবর আলী, ডিআইজি (অব.), ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক মো. শরীফুল ইসলাম, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষা ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের সহকারী অধ্যাপক মো. শাহনেওয়াজ খান চন্দন।

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘বিডিআর হত্যাকাণ্ডের ঘটনার সময় জাতি দীর্ঘদিন অন্ধকারে ছিল। কমিশন যে সত্য উদ্‌ঘাটনের কাজ করেছে, তা জাতি স্মরণে রাখবে। এই প্রতিবেদনে শিক্ষণীয় বিষয়গুলো ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য মূল্যবান সম্পদ হিসেবে থাকবে।’

কমিশন প্রধান ফজলুর রহমান বলেন, ‘তদন্ত সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ ও ত্রুটিমুক্ত করার জন্য সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখা হয়েছে। শুরুতে বহু আলামত ধ্বংস হয়ে গেছে এবং অনেক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বিদেশে চলে গেছেন। আমরা সাক্ষীদের বিস্তারিতভাবে শুনেছি, যাদের বক্তব্য প্রয়োজন ততক্ষণ পর্যন্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া অন্যান্য প্রমাণাদিও সংগ্রহ করা হয়েছে।’

তিনি আরও জানান, তদন্তে বিডিআর হত্যাকাণ্ডে বহিঃশক্তির সরাসরি সম্পৃক্ততা এবং তৎকালীন ক্ষমতাসীন দল আওয়ামী লীগের জড়িত থাকার শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া গেছে।

কমিশনের ফাইন্ডিংস অনুযায়ী, হত্যাকাণ্ড পরিকল্পিত ছিল এবং এর পেছনে প্রধান সমন্বয়কের ভূমিকা পালন করেছিলেন তৎকালীন সংসদ সদস্য শেখ ফজলে নূর তাপস।

তদন্তে উঠে এসেছে, হত্যাকাণ্ডে জড়িতদের রক্ষা করতে স্থানীয় আওয়ামী লীগ সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছিল। তারা ২০-২৫ জনের একটি মিছিল নিয়ে পিলখানায় ঢুকেছিল, আর বের হবার সময় সেই মিছিলে দুই শতাধিক মানুষ ছিল।

কমিশনের তথ্যানুযায়ী, পুরো ঘটনাটি সংঘটিত হওয়ার ক্ষেত্রে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ‘গ্রিন সিগন্যাল’ ছিল। হত্যাকাণ্ডের দায় নিরূপণের ক্ষেত্রে প্রধান দায়িত্ব তৎকালীন সরকার প্রধান থেকে সেনাপ্রধান পর্যন্ত বিস্তৃত। পুলিশ, র‌্যাব এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলোরও কার্যকারিতা খারাপভাবে প্রমাণিত হয়েছে।

কমিশন প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছেন, ঘটনার সময় কিছু প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া এবং কয়েকজন সাংবাদিকের ভূমিকা অপেশাদার ছিল। এছাড়া, রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করা বিডিআর সদস্যদের নাম, পরিচয় ও তথ্য যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা হয়নি।

কমিশন ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধ এবং ভিকটিমদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য বেশকিছু সুপারিশ করেছে।

বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান, প্রধান উপদেষ্টার প্রতিরক্ষা ও জাতীয় সংহতি উন্নয়ন বিষয়ক বিশেষ সহকারী লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) আব্দুল হাফিজ এবং স্বরাষ্ট্র সচিব নাসিমুল গনি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন