

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


পাবনার ঈশ্বরদীতে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামীর নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষের সময় অস্ত্র হাতে গুলি ছোড়া যুবককে জামায়াতের কর্মী হিসেবে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ. স. ম. আব্দুর নূর রবিবার (৩০ নভেম্বর) সন্ধ্যায় এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ওসি জানান, সংঘর্ষের দিন গুলি ছোড়া যুবকের নাম তুষার মণ্ডল। তিনি জামায়াতের কর্মী।
সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার ছবি ভাইরাল হওয়ায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়েছে। তবে এখনও তাকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে।
তুষার মণ্ডল ঈশ্বরদী পৌরসভার ভেলুপাড়া এলাকার তাহের মণ্ডলের ছেলে।
স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, তিনি পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী অধ্যাপক আবু তালেব মণ্ডলের ভাতিজা মামুন মণ্ডলের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত।
সংঘর্ষের ঘটনায় দায়ের করা পাল্টাপাল্টি দুই মামলায় উভয়পক্ষের পাঁচজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে অভিযান চালিয়ে জামায়াতের দুইজন ও বিএনপির তিনজনকে আটক করা হয়।
রোববার (৩০ নভেম্বর) বিকেলে তাদের আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
ওসি আ. স. ম. আব্দুর নূর বলেন, ‘দুই পক্ষই পরস্পরের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছে। দুই মামলার তদন্ত চলছে। আমরা আইনানুগ প্রক্রিয়ায় আসামিদের গ্রেপ্তার করছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এলাকায় পুলিশি টহল জোরদার করা হয়েছে।’
এর আগে শনিবার দুপুরে সংঘর্ষের ঘটনায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা দায়ের করা হয়।
প্রথম মামলা: সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধার ছেলে ও ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সাধারণ সম্পাদক বাঁধন হাসান আলিম বাদী হয়ে ৩২ জন জামায়াত নেতার নাম উল্লেখ করে ঈশ্বরদী থানায় মামলা দায়ের করেন।
এছাড়া ১৫০ থেকে ২০০ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে। প্রধান আসামি হিসেবে করা হয়েছে পাবনা জেলা জামায়াতের আমির ও পাবনা-৪ আসনের জামায়াত মনোনীত প্রার্থী আবু তালেব মণ্ডলকে।
দ্বিতীয় মামলা: ঈশ্বরদী উপজেলা জামায়াতের সেক্রেটারি সাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে ৩৮ জন বিএনপির নেতা-কর্মীর নাম উল্লেখ করে অপর মামলাটি দায়ের করেন। প্রধান আসামি করা হয়েছে সাহাপুর ইউনিয়ন কৃষকদলের আহ্বায়ক মক্কেল মৃধাকে।
এছাড়া ১০০ থেকে ১৫০ জন অজ্ঞাত ব্যক্তিকেও আসামি করা হয়েছে, যাদের বেশিরভাগ পাবনা-৪ আসনের বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও জেলা বিএনপির আহ্বায়ক হাবিবুর রহমান হাবিবের আত্মীয় এবং অনুসারী।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে ঈশ্বরদী উপজেলার চর গড়গড়ি গ্রামে জামায়াত প্রার্থীর নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত অর্ধশত নেতা-কর্মী আহত হন।
ঘটনার পর থেকে এলাকায় থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। গ্রেপ্তার এড়াতে বিএনপি ও জামায়াতের অনেক নেতা-কর্মী এলাকা থেকে পালিয়ে গেছেন।
মন্তব্য করুন
