

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


প্রতি বছর ১০ আগস্ট বিশ্বজুড়ে পালন করা হয় 'বিশ্ব অলস দিবস' (World Lazy Day)। দ্রুতগতির আধুনিক জীবনযাত্রা, কাজের নিরবচ্ছিন্ন চাপ এবং প্রযুক্তি নির্ভরতার যুগে এই দিনটির গুরুত্ব অনন্য।
প্রতিদিনের মানসিক ক্লান্তি, কাজ ও জীবনের ভারসাম্যহীনতা এবং ক্রমাগত 'বার্নআউট' থেকে মুক্তির লক্ষ্যেই মূলত এই বিশেষ দিনটির সূচনা।
দিনটি আমাদের অনুধাবন করায় যে, কর্মব্যস্ত জীবনের মাঝে অলসতা বা বিশ্রাম কোনো অপরাধ নয়, বরং এটি মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের জন্য অত্যন্ত জরুরি একটি উপাদান।
বিশ্ব অলস দিবসে কোনো জটিল কর্মপরিকল্পনা থাকে না, বরং উদ্দেশ্য হলো দিনটি সম্পূর্ণ নিজের মতো করে কাটানো। এ দিনে কাজের সব ধরনের ব্যস্ততা, ডিজিটাল যন্ত্রের ব্যবহার ও নোটিফিকেশনের কোলাহল দূরে সরিয়ে রেখে পরিপূর্ণ বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
নিজের প্রিয় কোনো সিনেমা দেখা, আরামদায়ক পোশাক পরে হালকা গান শোনা কিংবা দীর্ঘসময় ঘুমিয়ে শরীরকে পুনরুজ্জীবিত করার মাধ্যমে দিনটি শুরু করা যেতে পারে।
আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের মতে, মাঝে মাঝে কোনো কাজ না করে শান্তভাবে সময় কাটানো মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা ও চিন্তাশক্তি বাড়াতে ইতিবাচক ভূমিকা রাখে।
আন্তর্জাতিকভাবে এই দিবস পালনের মূল উদ্দেশ্য মূলত মানসিক স্বাস্থ্য সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং অতি-উৎপাদনশীলতার (toxic productivity) সংস্কৃতি থেকে নিজেকে সাময়িক বিরতি দেওয়া। পেশাগত সাফল্যের পেছনে ছুটতে গিয়ে বিশ্বজুড়ে কোটি কোটি মানুষ মানসিক অবসাদে ভুগছেন।
অলস দিবস আমাদের স্মরণ করিয়ে দেয় যে, বিরতি নেওয়া অলসতা নয়, এটি জীবনের গতি বজায় রাখার একটি কৌশল। কাজের ফাঁকে নিয়মিত ছোট বিরতি নেওয়া কর্মক্ষেত্রের মনোযোগ বৃদ্ধি করে এবং নতুন উদ্যমে কাজ করার শক্তি যোগায়।
সবশেষে বলা যায়, বিশ্ব অলস দিবস শুধু অলস সময় কাটানোর প্রথাগত কোনো দিন নয়, বরং নিজেকে নতুন করে আবিষ্কারের এক সুযোগ। কর্মময় জীবনের সাথে শারীরিক ও মানসিক বিশ্রামের সমন্বয় ঘটানোই এই দিবসের মূল বার্তা।
তাই বছরে অন্তত এই একটি দিনে কাজের মানসিক চাপ ভুলে বিশ্রামকে গুরুত্ব দিয়ে নিজের মনের যত্ন নেওয়া প্রত্যেকের জন্যই ফলপ্রসূ হতে পারে।