

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সোশ্যাল মিডিয়ার যুগে সুস্থ থাকার চেয়ে আতঙ্কিত হওয়ার দেখাই যেন বেশি পাওয়া যায়। বিশেষ করে ‘চিনি’নিয়ে তৈরি হওয়া ত্রাস দেখে মনে হতেই পারে- মিষ্টি মানেই বুঝি ক্যান্সারের আমন্ত্রণ! কিন্তু এই ভীতি কি সত্যিই বিজ্ঞানসম্মত?
১. সোশ্যাল মিডিয়ার গুজব ও আসল বিজ্ঞান
সার্জিক্যাল অনকোলজিস্ট ডা. বিশ্বানি স্পষ্ট জানিয়েছেন, চিনি সরাসরি ক্যান্সার সৃষ্টি করে- বৈজ্ঞানিকভাবে এমন কোনো প্রমাণ নেই।
ইনস্টাগ্রাম বা ফেসবুকের ‘হেলথ ইনফ্লুয়েন্সাররা’ যেভাবে চিনিকে ভিলেন বানাচ্ছেন, চিকিৎসা বিজ্ঞান তা সমর্থন করে না।
উৎসবের দিনে এক টুকরো রসমালাই বা চকোলেট খেলেই ক্যান্সার হয়ে যাবে- এই ধারণার কোনো ভিত্তি নেই।
২. শরীর সচল রাখতে চিনির ভূমিকা
অনেকে PET স্ক্যানের ছবি দেখিয়ে দাবি করেন, চিনি খেলেই ক্যান্সার কোষ তা লুফে নেয়। কিন্তু আসল সত্যিটা হলো, আমাদের শরীরের প্রতিটি জীবন্ত কোষ (বিশেষ করে মস্তিষ্ক, কিডনি ও অন্ত্র) সচল থাকার জন্য চিনি বা গ্লুকোজ থেকে শক্তি পায়।
আপনি যদি শরীরকে পুরোপুরি চিনিমুক্ত বা কার্বোহাইড্রেট-হীন করে ফেলেন, তবে শরীর শক্তি জোগাতে নিজের পেশী ক্ষয় করতে শুরু করবে। এটি স্বাস্থ্যের জন্য উল্টো মারাত্মক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
৩. না খেয়ে থাকা কি ক্যান্সার কোষ মারতে পারে?
ক্যান্সার কোষ সাধারণ কোষের চেয়ে দ্রুত বাড়ে এবং বেশি শক্তি খরচ করে—এটি সত্যি। কিন্তু তার মানে এই নয় যে, আপনি চিনি খাওয়া বন্ধ করলে বা না খেয়ে থাকলে ক্যান্সার কোষ মরে যাবে।
বরং জোর করে উপবাস করলে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immunity) কমে যায়, যা শরীরকে আরও দুর্বল করে ফেলে।
৪. সমস্যা চিনিতে নয়, ‘অতিরিক্ত’ খাওয়ার অভ্যাসে
চিনি নিজে কোনো বিষ নয়, আসল সমস্যা লুকিয়ে আছে ‘অতিরিক্ত’শব্দটির মধ্যে। মাত্রাতিরিক্ত চিনি খেলে ওজন বাড়ে এবং স্থূলতা বা মেটাবলিক সমস্যা তৈরি হয়। এই অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতা পরোক্ষভাবে ক্যান্সারের ঝুঁকি কিছুটা বাড়াতে পারে।
তবে এই ভয়ে যদি কেউ ফলমূল, ভাত বা সাধারণ বাড়ির খাবার খাওয়া বন্ধ করে দেন, তবে শরীরে পুষ্টির চরম ঘাটতি দেখা দেবে।
সুস্থ থাকার মূলমন্ত্র
চিনি মানেই ক্যান্সার নয়। আপনার সামগ্রিক জীবনযাত্রা যদি স্বাস্থ্যকর হয়, তবে পরিমিত মিষ্টি খাওয়াতে কোনো বাধা নেই।
ইন্টারনেট বা সোশ্যাল মিডিয়ার ভীতিতে বিভ্রান্ত না হয়ে- পরিমিত খাদ্যাভ্যাস বজায় রাখুন, নিয়মিত ব্যায়াম করুন এবং বিজ্ঞানের ওপর আস্থা রাখুন। ভারসাম্যপূর্ণ জীবনই সুস্থ থাকার আসল চাবিকাঠি।

