

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাংলাদেশে মোটরসাইকেলের জ্বালানি হিসেবে সাধারণত পেট্রল ও অকটেন ব্যবহৃত হয়। অনেকেই মনে করেন এ দুটি ভিন্ন ধরনের জ্বালানি, কিন্তু বাস্তবে দুটিই এক—গ্যাসোলিন।
পার্থক্য শুধু তাদের মানে, যা নির্ধারণ করা হয় অকটেন নাম্বার বা আরওএন (Research Octane Number) দ্বারা। এই সংখ্যাটি যত বেশি, জ্বালানির দহন তত মসৃণ ও নিয়ন্ত্রিত হয়।
আমাদের দেশে প্রচলিত পেট্রলের আরওএন প্রায় ৮০, আর অকটেনের আরওএন প্রায় ৯৫। আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী পেট্রলের আরওএন অন্তত ৮৬ হওয়া উচিত। তাই তুলনামূলকভাবে অকটেন বেশি মানসম্মত জ্বালানি। উচ্চ আরওএন-এর জ্বালানি ইঞ্জিনের ঝাঁকুনি কমায় এবং ইঞ্জিনকে মসৃণভাবে চলতে সাহায্য করে।
তবে সব মোটরসাইকেলের জন্য একই ধরনের জ্বালানি প্রয়োজন হয় না। সাধারণত ১৫০ সিসির নিচের বাইক, যেগুলোর কম্প্রেশন রেশিও কম, সেগুলো পেট্রলেই ভালোভাবে চলে; কিন্তু ১৫০ সিসি বা তার বেশি ক্ষমতার বাইক এবং উচ্চ পারফরম্যান্স ইঞ্জিনের জন্য অকটেন ব্যবহার করা উত্তম। কারণ এসব ইঞ্জিনে উচ্চচাপ ও তাপমাত্রায় দহন ঘটে, যেখানে ভালো মানের জ্বালানি প্রয়োজন।
বাংলাদেশে জ্বালানিতে ভেজাল একটি বড় সমস্যা। অনেক সময় পেট্রল বা অকটেনের সঙ্গে কেরোসিন বা অন্য পদার্থ মিশিয়ে বিক্রি করা হয়, যা ইঞ্জিনের জন্য ক্ষতিকর। এর ফলে ইঞ্জিনে ঝাঁকুনি, ধোঁয়া, অতিরিক্ত কম্পন এবং পারফরম্যান্স কমে যাওয়ার মতো সমস্যা দেখা দেয়।
অনেকে পেট্রল ও অকটেন মিশিয়ে ব্যবহার করেন, তবে এর সঠিক অনুপাত বা কার্যকারিতা সম্পর্কে নিশ্চিত তথ্য না থাকায় এটি ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে। তাই অপ্রয়োজনীয়ভাবে মিশ্রণ না করাই ভালো।
সবশেষে বলা যায়, মোটরসাইকেলের জন্য কোন জ্বালানি ভালো হবে তা নির্ভর করে ইঞ্জিনের ধরন ও নির্মাতার নির্দেশনার ওপর। সঠিক জ্বালানি নির্বাচন করলে ইঞ্জিনের আয়ু বাড়ে এবং পারফরম্যান্স ভালো থাকে। তাই সচেতনভাবে জ্বালানি ব্যবহার করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
মন্তব্য করুন
