রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১১ জানুয়ারি ২০২৬, ২৭ পৌষ ১৪৩২ বঙ্গাব্দ

রাতে মাথায় তেল দিয়ে ঘুমানো উপকার নাকি উল্টো ক্ষতি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১০ জানুয়ারি ২০২৬, ০৯:৪২ এএম
expand
রাতে মাথায় তেল দিয়ে ঘুমানো উপকার নাকি উল্টো ক্ষতি

চুল পড়া কমানো, চুল মজবুত করা কিংবা নতুন চুল গজানোর আশায় আমরা অনেকেই নিয়মিত তেল ব্যবহার করি। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে মাথায় ভালোভাবে তেল মালিশ করে শুয়ে পড়া—এই অভ্যাসটি বহু পরিবারে দীর্ঘদিনের চর্চা।

শৈশব থেকে বড়দের মুখে শোনা যায়, রাতে তেল মাখলে চুল নাকি ভালো থাকে। তবে বর্তমান সময়ের জীবনযাপন, দূষণ এবং ত্বক ও চুলের নানা সমস্যার প্রেক্ষাপটে প্রশ্ন উঠছে—সারা রাত মাথায় তেল রেখে দেওয়া কি আদৌ উপকারী, নাকি এতে উপকারের চেয়ে ক্ষতির সম্ভাবনাই বেশি?

আয়ুর্বেদ ও আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞানের বিশ্লেষণে দেখা যায়, রাতে তেল ব্যবহারের ক্ষেত্রে কিছু সতর্কতা জানা জরুরি। না জানলে চুলের যত্নের বদলে সমস্যা বাড়তেও পারে।

আয়ুর্বেদ কী বলে?

আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে মাথাকে শরীরের গুরুত্বপূর্ণ অংশ বা ‘উত্তমাঙ্গ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়। সেখানে মাথায় তেল প্রয়োগের উদ্দেশ্য হলো স্নায়ু শান্ত রাখা ও চুলের গোড়ায় পুষ্টি জোগানো। তবে আয়ুর্বেদ মতে, তেলের প্রকৃতি শীতল। রাতে দীর্ঘ সময় মাথায় তেল রেখে দিলে কফ দোষ বৃদ্ধি পেতে পারে। ফলে যাদের সাইনাস, ঠান্ডাজনিত সমস্যা বা অতিরিক্ত কফের প্রবণতা রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে অস্বস্তি দেখা দিতে পারে।

তবে হালকা গরম করে নেওয়া তিলের তেল বা ভৃঙ্গরাজ তেল দিয়ে অল্প সময় মাথায় মালিশ করলে মানসিক প্রশান্তি ও ভালো ঘুমে সহায়ক হতে পারে।

আধুনিক চিকিৎসাবিজ্ঞান কী বলছে?

চর্মরোগ বিশেষজ্ঞদের মতে, রাতভর তেল মেখে রাখা সব ধরনের স্ক্যাল্পের জন্য নিরাপদ নয়।

ব্রণের ঝুঁকি: ঘুমের সময় তেল কপাল, গাল বা মুখের ত্বকে লেগে থাকলে রোমকূপ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। এতে মুখ, কপাল বা পিঠে ব্রণ হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে।

খুশকি ও সংক্রমণের সম্ভাবনা: তেলযুক্ত চুলে বালিশের ধুলো সহজেই আটকে যায়। এর ফলে স্ক্যাল্পে ছত্রাক বা ম্যালাসেজিয়া নামের জীবাণু সক্রিয় হয়ে খুশকির সমস্যা তৈরি করতে পারে।

তেল ব্যবহারের সঠিক সময় ও পদ্ধতি

চুলের যত্নে সারা রাত তেল রেখে দেওয়ার প্রয়োজন নেই। সঠিক নিয়ম মেনে তেল ব্যবহার করলেই ভালো ফল পাওয়া যায়।

সময়: শ্যাম্পুর আগে ৩০ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১–২ ঘণ্টা তেল মাখাই যথেষ্ট। এই সময়েই চুল ও স্ক্যাল্প প্রয়োজনীয় পুষ্টি গ্রহণ করে।

তেল গরম করা: তেল সরাসরি আগুনে না গরম করে পাত্রটি কুসুম গরম পানির মধ্যে কিছুক্ষণ রাখলে তেল হালকা উষ্ণ হয়, যা রক্ত সঞ্চালনে সহায়তা করে।

মালিশের ধরন: তেল দেওয়ার সময় নখ ব্যবহার না করে আঙুলের ডগা দিয়ে আলতোভাবে স্ক্যাল্পে মালিশ করা উচিত। চুলের গোড়াতেই তেলের মূল কাজ।

যাদের চুল অতিরিক্ত শুষ্ক, তারা সপ্তাহে একদিন রাতে তেল ব্যবহার করে সকালে মাইল্ড বা ভেষজ শ্যাম্পু দিয়ে ধুয়ে নিতে পারেন। তবে যাদের স্ক্যাল্প তৈলাক্ত বা খুশকির সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য রাতে তেল মাখা এড়িয়ে চলাই ভালো।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সুস্থ ও সুন্দর চুলের জন্য শুধু তেল নয়—সুষম খাবার, পর্যাপ্ত ঘুম এবং মানসিক চাপ নিয়ন্ত্রণও সমানভাবে জরুরি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন

X