

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ফেনীর সোনাগাজীর মাদরাসা শিক্ষার্থী নুসরাত জাহান রাফি হত্যা মামলায় বিচারিক আদালতে ১৬ আসামির মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া বিচারক মামুনুর রশীদের বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে আইন মন্ত্রণালয়ের প্রতি আদেশ দিয়েছেন হাইকোর্ট।
সোমবার (২৪ আগস্ট) দেওয়া রায়ে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ১৬ আসামির মধ্যে ১০ জন খালাস পেয়েছেন। বাকি ছয়জনের মধ্যে দুইজনের মৃত্যুদণ্ড বহাল এবং চারজনকে যাবজ্জীবন দেওয়া হয়েছে।
আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মুনসুরুল হক চৌধুরী, এস এম শাহজাহান, মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম, এস এম মাসুদ হোসাইন দোলন, শিশির মনির ও আইনজীবী খন্দকার মোহাম্মদ মাশফিকুল হুদা প্রমুখ।
রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল ইজাজ কবির ও ইমাম হোসেন তারেক। রায়ের পর অ্যাটর্নি জেনারেল মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল বলেন, এই রায়ের পরে আদালত নিম্ন আদালত কর্তৃক প্রদত্ত যে রায়, সে বিষয়ে একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যবেক্ষণ দিয়েছেন।
এই মামলার নিম্ন আদালতের বিচারক যিনি ছিলেন, বিচারক মামুনুর রশীদ, তার সম্পর্কে আদালত বলেছেন যে, একটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ১৬ জনের মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া অনেকটা ‘মাইন্ডলেস সেন্টেন্স’ অর্থাৎ আদালত তার বিচারিক দায়িত্ব পালনের ক্ষেত্রে তার পুরোপুরি মনের কিংবা বিচারিক যে জুডিসিয়াল মাইন্ড থাকা দরকার, তিনি সেটা করতে ব্যর্থ হয়েছেন এবং তিনি এই জাজমেন্টটা রায় দেওয়ার ক্ষেত্রে কার কীভাবে দণ্ড দেওয়া উচিত, কার কী কতটুকু মামলার ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ততা, সেটাও আমলে নিতে ব্যর্থ হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আদালতের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, এই বিচারক মামুনুর রশীদকে অবিলম্বে পেনাল এবং সেন্টেন্সিং, অর্থাৎ ফৌজদারি মামলার বিচার এবং সেক্ষেত্রে তার দণ্ড দেওয়ার ক্ষেত্র থেকে তাকে সরিয়ে আনার জন্য আইন, বিচার এবং সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতি নির্দেশনা প্রকাশ করেছেন বলে জানান অ্যাটর্নি জেনারেল।
আইনজীবী শিশির মনির বলেন, হাইকোর্ট বিভাগ বলেছেন, বিচারিক আদালত এইভাবে নির্বিচারে ফাঁসি দিতে গিয়ে যেভাবে প্রতিটা পরিবারের ওপর একটা ডিভাস্টিটিং ইফেক্ট নেমে এসেছে, এজন্য তার বিচারিক ক্ষমতা কেড়ে নেওয়ার জন্য নির্দেশ দিয়েছেন এবং তাকে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করতে বলেছেন।
২০১৯ সালের ২৭ মার্চ সোনাগাজী ইসলামিয়া ফাজিল মাদরাসার অধ্যক্ষ সিরাজ-উদদৌলার বিরুদ্ধে নুসরাতকে যৌন নির্যাতনের অভিযোগে মামলা করেন তার মা শিরীন আখতার। এই মামলার জের ধরে অধ্যক্ষকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
এরপর তার অনুগত কিছু ব্যক্তি জনমত গঠন করে সিরাজকে জেল থেকে বের করে আনার জন্য। ৩ এপ্রিল তারা সিরাজের সঙ্গে কারাগারে পরামর্শ করে এসে ৪ এপ্রিল মাদরাসার ছাত্রাবাসে নুসরাতকে খুন করার পরিকল্পনা করে। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ৬ এপ্রিল নুসরাত মাদরাসায় আলিম পরীক্ষা দিতে গেলে পরিকল্পিতভাবে সাইক্লোন শেল্টারের ছাদে নিয়ে নুসরাতকে হত্যার চেষ্টা চালায় তারা।
ঘটনাস্থল থেকে নুসরাতকে উদ্ধার করে প্রথমে সোনাগাজী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। এরপর তাকে স্থানান্তর করা হয় ফেনী ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে। অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় সেখান থেকে নুসরাতকে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১০ এপ্রিল মারা যান নুসরাত।
এ ঘটনায় নুসরাতের ভাই মাহমুদুল হাসান নোমান ৮ এপ্রিল মামলা দায়ের করেন। বিচার শেষে একই বছরের ২৪ অক্টোবর রায়ে ১৬ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন ফেনীর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মামুনুর রশিদ।


