

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদি হত্যা মামলার অধিকতর তদন্ত প্রতিবেদন জমার তারিখ আবারও পিছিয়েছে। তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে না পারায় আদালত নতুন সময় নির্ধারণ করেছেন। এ নিয়ে ১৮ বারের মতো প্রতিবেদন দাখিলের সময় পিছিয়ে। আগামী ২০ আগস্ট প্রতিবেদন দাখিলের নতুন দিন ধার্য করা হয়েছে।
বুধবার (১৫ জুলাই) ঢাকার এডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এ আদেশ দেন। আদালতে প্রতিবেদন জমা দিতে পারেননি সিআইডির ঢাকা মেট্রো (পূর্ব) বিভাগের সহকারী পুলিশ সুপার ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা আবদুর কাদির ভূঁঞা।
আদালতের এই আদেশের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই রুকনুজ্জামান।
এর আগে হাদি হত্যা মামলায় তদন্ত শেষে ১৭ জনকে আসামি করে গত ৬ জানুয়ারি অভিযোগপত্র জমা দেয় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তবে ওই অভিযোগপত্রে সন্তুষ্ট না হয়ে নারাজি আবেদন করেন মামলার বাদী ও ইনকিলাব মঞ্চের সদস্যসচিব আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে আদালত মামলাটির অধিকতর তদন্তের দায়িত্ব সিআইডিকে দেন।
আদালতের নথি অনুযায়ী, ১২ জানুয়ারি অভিযোগপত্র পর্যালোচনার জন্য সময় চেয়েছিলেন বাদীপক্ষ। পরে আদালত ১৫ জানুয়ারি অভিযোগপত্র গ্রহণের দিন নির্ধারণ করেন। ওই দিন ডিবির তদন্ত প্রতিবেদনে আপত্তি জানিয়ে নারাজি আবেদন করা হলে নতুন করে তদন্তের নির্দেশ আসে।
মামলার সূত্র অনুযায়ী, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৮ আসন থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়ার ঘোষণা দিয়েছিলেন শরীফ ওসমান হাদি। এর আগে রাজনৈতিক কর্মসূচির মাধ্যমে আলোচনায় আসা হাদি গত ১২ ডিসেম্বর বিজয়নগর এলাকায় গণসংযোগের সময় হামলার শিকার হন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, চলন্ত রিকশায় থাকা হাদিকে মোটরসাইকেলে আসা দুর্বৃত্তরা গুলি করে পালিয়ে যায়। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখানে অস্ত্রোপচারের পর উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১৮ ডিসেম্বর তার মৃত্যু হয়।
হাদি গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনায় ১৪ ডিসেম্বর হত্যাচেষ্টা মামলা করেন আবদুল্লাহ আল জাবের। পরে মামলায় হত্যার ধারা যুক্ত করা হয়। শুরুতে থানা পুলিশ তদন্ত করলেও পরে দায়িত্ব দেওয়া হয় ডিবি পুলিশকে।
ডিবির দেওয়া অভিযোগপত্রে সাবেক ওয়ার্ড কাউন্সিলর তাইজুল ইসলাম চৌধুরী বাপ্পি, সাবেক ছাত্রলীগ কর্মী ফয়সাল করিম মাসুদসহ ১৭ জনকে আসামি করা হয়। তদন্ত প্রতিবেদনে ডিবি জানায়, আসামিদের রাজনৈতিক পরিচয় ও হাদির বিভিন্ন রাজনৈতিক বক্তব্য পর্যালোচনা করে প্রাথমিকভাবে হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনৈতিক বিরোধের বিষয়টি উঠে এসেছে।
মামলার আসামিদের মধ্যে ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে রাহুল ওরফে দাউদকে প্রধান অভিযুক্ত হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। তার পরিবারের সদস্যসহ আরও কয়েকজনের নাম অভিযোগপত্রে রয়েছে। এছাড়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে দেশত্যাগে সহায়তার অভিযোগও আনা হয়েছে।
বর্তমানে মামলাটির অধিকতর তদন্ত করছে সিআইডি। আগামী ২০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে জমা দেওয়া হয় কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়।