

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


চৌদ্দ বছর আগে ঢাকার বনানী বাসার কাছ থেকে বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীকে তুলে দিয়ে যাওয়ার ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় দ্রুত সময়ে মধ্যে তদন্ত শেষ হবে বলে প্রত্যাশার কথা জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।
এ মামলার বিষয়ে তিনি বলেন, এটি একটি সম্পূর্ণ আলাদা তদন্ত হচ্ছে। আমি দায়িত্ব নেওয়ার পর এ বিষয়ে গুরুত্ব দিয়ে খোঁজ-খবর রাখছি। আশা করছি দ্রুত সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা হবে।
ইলিয়াস আলী ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক। ছাত্রদলের সাবেক এই সাধারণ সম্পাদক সিলেট-২ আসনে দুবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন। ২০১২ সালের ১৭ এপ্রিল ঢাকার বনানীতে বাসার কাছ থেকে ইলিয়াস আলীকে তুলে নেওয়া হয়েছিল, তারপর থেকে তার কোনো খোঁজ আর পাওয়া যায়নি।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনা ক্ষমতাচ্যুত হলে অন্তর্বর্তী সরকার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল পুনর্গঠনের পর আওয়ামী লীগ সরকার আমলে গুমের ঘটনাগুলো তদন্ত শুরু হয়। গত বছরের অক্টোবরে তৎকালীন চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম জানিয়েছিলেন, গুমের পর ইলিয়াস আলীকে হত্যা করা হয়।
তিনি বলেছিলেন, ইলিয়াস আলীকে উঠিয়ে নেওয়া, রাস্তা থেকে তাকে গুম করা এবং তাকে পরবর্তী সময় হত্যা করা হয়েছে বলে তদন্তে জানা গেছে।
এ মামলার তদন্তের অগ্রগতি সম্পর্কে জানতে চাইলে বর্তমান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম বলেন, তদন্তে অনেকের নামধাম আসছে। ইতোমধ্যে এ তদন্তে সাবেক সেনা অফিসার শেখ মামুন খালেদের সম্পৃক্ততা তথ্য-প্রমাণ তদন্ত কর্মকর্তাদের কাছে এসেছে। আরও যারা এই গুম-খুনের সঙ্গে সম্পৃক্ত আশা করছি তাদের নামও প্রতিবেদনে আসবে।
একাধিক সূত্রে জানা যায়, ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিরক্ষাবিষয়ক উপদেষ্টা মেজর জেনারেল (অব.) তারিক আহমেদ সিদ্দিকের নির্দেশে ইলিয়াস আলী গুমের সার্বিক নকশা তৈরি করেন ডিজিএফআইয়ের সাবেক প্রধান শেখ মামুন খালেদ।
পরবর্তীকালে তার দিকনির্শেনাতেই ডিজিএফআই ও র্যাবের বিশেষ টিম ইলিয়াস আলীকে গুম করে। পরবর্তীকালে র্যাব সবকিছু জেনেশুনেও ইলিয়াস আলীকে উদ্ধারে বেশ কয়েকটি অভিযানের নাটক সাজায়। এই নাটকের নকশাও করেন মামুন খালেদ।
গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার ১৬৪ ধারায় জবানবন্দিতে ইলিয়াস আলীকে অপহরণ ও হত্যাকাণ্ডের বিষয়ে এসব তথ্য দেন মামুন খালেদ।
জবানন্দিতে উঠে আসে র্যাবের সাবেক কর্মকর্তা চাকরিচ্যুত মেজর জেনারেল জিয়াউল আহসানের নির্দেশে ঘটনার রাতে শেরাটন হোটেল থেকে ইলিয়াস আলীকে অনুসরণ করা হয়। এরপর তার বাসার পাশ থেকে তুলে নেওয়া হয়।
এ ছাড়া গুম কমিশন তদন্তে জিয়াউল আহসানের রানার হিসেবে গুম ও খুন মিশনের হুকুম তামিল করতেন ওয়ারেন্ট অফিসার জিয়া ও ইমরুল।
পরে বিষয়টি গুম কমিশন থেকে গত বছর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালকে জানানো হয়। এ ব্যাপারে অধিকতর তদন্ত করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা।
ইলিয়াস আলীসহ বিরোধী নেতাদের আওয়ামী লীগ আমলে গুম হওয়ার ঘটনাগুলোয় সরকারি সংস্থার বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠেছিল। দেশি-বিদেশি মানবাধিকার সংগঠনগুলোও সরব হয়েছিল, তবে তখন কোনো সংস্থাই স্বীকার করেনি। তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের নেতারা তখন গুমের অভিযোগগুলোকে ‘নাটক’ বলেও আখ্যায়িত করেছিলেন।
মন্তব্য করুন
