

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ সদস্য হত্যার ঘটনায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদসহ ৪২ জনকে আসামি করে মামলা দায়েরের আবেদন করা হলেও তা গ্রহণ করেননি ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট (সিএমএম) আদালত। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট রৌনক জাহান তাকির আদালত পুলিশ হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে একটি অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়।
এতে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়াকে প্রধান আসামি করে মোট ৪২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। তবে অভিযোগের বিষয়ে সব শুনে পর্যালোচনা করে আদালত মামলাটি আমলে নেননি। মামলার বাদী জালাল হোসেন মৌলভীবাজার জেলার জুড়ী থানার জাংগিরাই গ্রামের আব্দুল খালেকের পুত্র।
যাদের বিরুদ্ধে মামলার আবেদন করা হয় তারা হলেন—
১. আসিফ মাহমুদ ২. আব্দুল কাদের ৩. আবু বাকের মজুমদার ৪. আব্দুল হান্নান মাসুদ ৫. আদনান আবির ৬. জামান মৃধা ৭. মোহাম্মদ সোহেল মিয়া ৮. রিফাত রশিদ ৯. হাসিব আল ইসলাম ১০. আব্দুল্লাহ সালেহীন অয়ন ১১. লুৎফর রহমান ১২. আহনাফ সাঈদ খান ১৩. মোয়াজ্জেম হোসেন ১৪. ওয়াহিদুজ্জামান ১৫. তারেকুল ইসলাম (তারেক রেজা) ১৬. হামজা মাহবুব ১৭. রেজোয়ানা রিফাত ১৮. তরিকুল ইসলাম ১৯. নুসরাত তাবাসসুম ২০. রাফিয়া রেহনুমা হৃদি ২১. মুমতাহীনা মাহজাবিন মোহনা (বঙ্গমাতা শেখ ফজিলাতুন্নেসা হল, ঢাবি) ২২. আনিকা তাহসিনা (রোকেয়া হল, ঢাবি) ২৩. উমামা ফাতেমা (সুফিয়া কামাল হল, ঢাবি) ২৪. তাহমিদ আল মুদাসসির চৌধুরী ২৫. নিশিতা জামান নিহা ২৬. মেহেদী হাসান (সোশিওলজি) ২৭. মো. আবু সাঈদ ২৮. সানজানা আফিফা আদিতি ২৯. তানজিনা তামিম হাফসা ৩০. আলিফ হোসাইন ৩১. কাউসার মিয়া ৩২. সাইফুল ইসলাম ৩৩. আরিফ সোহেল (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) ৩৪. আব্দুর রশিদ জিতু (জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়) ৩৫. স্বর্ণা রিয়া (জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) ৩৬. রাসেল আহমেদ (চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়) ৩৭. আসাদুল্লাহ আল গালিব (শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়) ৩৮. মো. তৌহিদ আহমেদ আশিক (শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়) ৩৯. গোলাম কিবরিয়া চৌধুরী মিশু (রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়) ৪০. নাজমুল হাসান (ঢাকা কলেজ) ৪১. শাহিনুর সুমী (ইডেন মহিলা কলেজ) ৪২. সিনথিয়া জাহিন আয়েশা (বদরুন্নেসা কলেজ)
এদিকে আজ সংসদ অধিবেশনে রাষ্ট্রপতির বক্তব্যকে ঘিরে এনসিপি মুখপাত্র আসিফ মাহমুদকে সরব দেখা যায়। বৃহস্পতিবার সকালে জাতীয় সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজার সামনে অবস্থান নিয়ে তিনি বলেন, ‘এখান থেকেই বাংলাদেশ আজকে দুটি ভাগে বিভক্ত হবে। একটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদের পক্ষে, আরেকটি হচ্ছে ফ্যাসিবাদের বিপক্ষে। আমরা দেখতে চাই, যারা ফ্যাসিবাদের বিপক্ষের শক্তি এই সংসদে আছেন, তারা যেন এই রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার সুযোগ না দেন। রাষ্ট্রপতিকে বক্তব্য দেওয়ার ক্ষেত্রে বাধা সৃষ্টি করেন।’
এরপর সন্ধ্যা ৬টায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি সংক্ষিপ্ত স্ট্যাটাস দেন আসিফ মাহমুদ। তিনি ইংরেজিতে মাত্র ৩টি শব্দ লেখেন—‘Chuppu Must Go’। স্ট্যাটাসটি প্রকাশের পরপরই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনার সৃষ্টি হয় এবং দ্রুত ভাইরাল হয়ে পড়ে।
এর আগে ৪ মার্চ আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ব্যাংক হিসাবের তথ্য তলব করে বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট (বিএফআইইউ)।
গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ৮ আগস্ট অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। ওই সরকারে জুলাই অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া ছাত্রদের প্রতিনিধি হিসেবে তিনজন উপদেষ্টা হয়েছিলেন। তাদের একজন ছিলেন আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়া। প্রথমে তিনি শ্রম মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ছিলেন। পরে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয় এবং যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পালন করেন তিনি।
সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে গত বছর ১০ ডিসেম্বর উপদেষ্টার পদ ছাড়েন আসিফ মাহমুদ। পরে তিনি জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছেন। গত ১০ ফেব্রুয়ারি উপদেষ্টাদের সম্পদ বিবরণী প্রকাশ করে অন্তর্বর্তী সরকার। তাতে দেখা যায়, আসিফ মাহমুদ সজীব ভুঁইয়ার ২০২৫ সালের ৩০ জুনের তথ্য অনুযায়ী মোট সম্পদ ১৫ লাখ ৩৪ হাজার ৭১৭ টাকা এবং তার দায় ২৮ হাজার ৬৬৯ টাকা। ২০২৩-২৪ অর্থবছরে তাঁর টিআইএন ছিল না বলে উল্লেখ করা হয়।
প্রসঙ্গত, জুলাই-অগাস্টের গণঅভ্যুত্থানে যে প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে, স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আন্দোলন ঘিরে এত প্রাণহানি ও রক্তপাতের ঘটনা দেখা যায়নি। কিন্তু এই গণঅভ্যুত্থান ঘিরে ঠিক কত মানুষের মৃত্যু হয়েছে, সেটি নিয়েও নানা প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে। কেননা, তৎকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয় যে গেজেট তৈরি করেছে, তাতে জুলাই অভ্যুত্থানে নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে ৮৪৪ জন।
অন্যদিকে, এই আন্দোলন ঘিরে জাতিসংঘের ফ্যাক্ট ফাইন্ডিং মিশন যে প্রতিবেদন তৈরি করেছে তাতে নিহতের সংখ্যা বলা হচ্ছে প্রায় ১৪০০ জন।
মন্তব্য করুন
