

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


নবম জাতীয় বেতন কাঠামোতে সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ছে- এমন আলোচনা সম্প্রতি বিভিন্ন মহলে ছড়িয়ে পড়লেও জাতীয় বেতন কমিশন জানিয়েছে, এ ধরনের তথ্যের কোনো ভিত্তি নেই।
মঙ্গলবার রাতে কমিশনের একটি দায়িত্বশীল সূত্র জানায়, নবম পে-স্কেলে বেতন বৃদ্ধির হার, গ্রেড সংখ্যা কিংবা সর্বোচ্চ ও সর্বনিম্ন বেতনের সীমা-কোনোটিই এখনো চূড়ান্ত হয়নি।
এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে কমিশনের সদস্যদের মধ্যে মতৈক্য না হওয়ায় সরকারকে এখনো আনুষ্ঠানিক সুপারিশ দেওয়া সম্ভব হয়নি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে কমিশনের এক সদস্য বলেন, বেতন বাড়ানোর শতকরা হার ও গ্রেড কাঠামো নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন মত রয়েছে। ফলে ৯০ শতাংশ বেতন বৃদ্ধি কিংবা ১৬ গ্রেড নির্ধারণের যে খবর প্রচার হচ্ছে, তা সঠিক নয়।
এদিকে স্থগিত থাকা পূর্ণাঙ্গ কমিশন সভার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে। আগামী বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) দুপুর ১২টায় সচিবালয়ে জাতীয় বেতন কমিশনের সভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই বৈঠকে গ্রেড সংখ্যা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তের চেষ্টা করা হবে বলে জানিয়েছেন কমিশনের একজন সদস্য।
পে-কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন বেতন কাঠামো নিয়ে কমিশনের সামনে তিনটি সম্ভাব্য বিকল্প রয়েছে। এক পক্ষ বর্তমান ২০ গ্রেড বহাল রেখে বেতন ও ভাতা সমন্বয়ের পক্ষে মত দিয়েছে। আরেকটি অংশ গ্রেড সংখ্যা কমিয়ে ১৬তে নামিয়ে আনার প্রস্তাব করছে।
এ ছাড়া কমিশনের ভেতরে আরও একটি মত রয়েছে, যেখানে গ্রেড সংখ্যা ১৪তে নামিয়ে আনার পক্ষে যুক্তি দেওয়া হয়েছে। তাদের মতে, গ্রেড বেশি থাকলে বেতন বৈষম্য বাড়ে, আর কম গ্রেডে তুলনামূলক ভারসাম্যপূর্ণ কাঠামো গড়ে তোলা সম্ভব।
কমিশন জানিয়েছে, নবম পে-স্কেল নিয়ে বিভিন্ন দপ্তর ও সংগঠন থেকে পাওয়া মতামত ইতোমধ্যে পর্যালোচনা করা হয়েছে। প্রতিবেদন প্রস্তুতের কাজ প্রায় শেষ হলেও সদস্যদের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানো না যাওয়ায় চূড়ান্ত সুপারিশ এখনো দেওয়া যায়নি।
বাস্তবসম্মত ও গ্রহণযোগ্য বেতন কাঠামো প্রণয়নের লক্ষ্যেই সব প্রস্তাব গভীরভাবে বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে পে-কমিশন। প্রয়োজনীয় বিষয়ে সিদ্ধান্ত হলে দ্রুত সরকারের কাছে সুপারিশ জমা দেওয়া হবে।
মন্তব্য করুন

