

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


মহাবিশ্বের ইতিহাস জানার জন্য বিজ্ঞানীরা অনেক সময় ফিরে তাকান সবচেয়ে প্রাচীন তারাগুলোর দিকে। কারণ, এসব তারাই লুকিয়ে রেখেছে গ্যালাক্সির জন্ম ও বিবর্তনের গল্প। সম্প্রতি নাসার হাবল স্পেস টেলিস্কোপ তেমনই একটি প্রাচীন তারাগুচ্ছের নতুন ছবি ধারণ করেছে, যা গবেষকদের সামনে তুলে ধরেছে নতুন কিছু তথ্য।
এই তারাগুচ্ছের নাম এনজিসি ৬৭২৩ (NGC 6723)। পৃথিবী থেকে প্রায় ২৭ হাজার আলোকবর্ষ দূরে অবস্থিত এই তারাগুচ্ছকে অনেকেই ‘শ্যান্ডেলিয়ার ক্লাস্টার’ বা ঝাড়বাতি গুচ্ছ নামে চেনেন। কারণ দূর থেকে এটি দেখতে ঝলমলে ঝাড়বাতির মতো মনে হয়। তবে ছবির প্রতিটি আলোর বিন্দুই আসলে একটি করে তারা।
মাধ্যাকর্ষণের শক্তিতে লাখ লাখ তারা দীর্ঘ সময় ধরে একই গুচ্ছে আবদ্ধ রয়েছে। ‘মিল্কিওয়ে’ গ্যালাক্সিতে এ ধরনের ১৫০টিরও বেশি তারাগুচ্ছের সন্ধান মিলেছে। এসব গুচ্ছে থাকা তারাগুলোর বেশির ভাগই গ্যালাক্সির প্রাচীনতম সদস্য। বিজ্ঞানীদের ধারণা, এদের বয়স ১০ বিলিয়ন বছরেরও বেশি এবং গ্যালাক্সির শুরুর দিকেই এসব তারার জন্ম হয়েছিল।
দীর্ঘদিন ধরে ধারণা ছিল, একটি তারাগুচ্ছের সব তারাই একই সময়ে সৃষ্টি হয়েছে। কিন্তু হাবল স্পেস টেলিস্কোপের সাম্প্রতিক পর্যবেক্ষণ সেই ধারণাকে আরও গভীরভাবে মূল্যায়নের সুযোগ করে দিয়েছে। ৬৫টি তারাগুচ্ছ নিয়ে পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, সময়ের সঙ্গে বেশি ভরের তারাগুলো ধীরে ধীরে গুচ্ছের কেন্দ্রে চলে আসে। অন্যদিকে অপেক্ষাকৃত কম ভরের তারাগুলো বাইরের দিকে ছড়িয়ে পড়ে। এই পর্যবেক্ষণ তারাগুচ্ছের গঠন ও বিবর্তন সম্পর্কে বিজ্ঞানীদের নতুন ধারণা দিচ্ছে।
গবেষকদের মতে, এ ধরনের প্রাচীন তারাগুচ্ছ শুধু অসংখ্য তারার সমাবেশ নয়; বরং এগুলো মহাবিশ্বের অতীতের একেকটি জীবন্ত আর্কাইভ। প্রতিটি নতুন পর্যবেক্ষণ গ্যালাক্সির জন্ম, বিবর্তন এবং মহাবিশ্বের প্রাথমিক সময় সম্পর্কে আরও স্পষ্ট ধারণা পেতে সহায়তা করছে।
