

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


দেশের তরুণ-তরুণীদের ইন্টারনেট ব্যবহারের ধরণে সবচেয়ে বড় অংশ জুড়ে রয়েছে চাকরির তথ্য অনুসন্ধান। বিশেষ করে সরকারি চাকরির খোঁজেই অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সময় ব্যয় করছেন তারা। পাশাপাশি ক্রীড়াবিষয়ক তথ্যের প্রতিও রয়েছে উল্লেখযোগ্য আগ্রহ।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) অডিটোরিয়ামে প্রকাশিত সংস্থাটির সর্বশেষ আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক জরিপে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
জরিপ অনুযায়ী, দেশের তরুণ-তরুণীরা অনলাইনে সবচেয়ে বেশি সার্চ করেন সরকারি চাকরির তথ্য। এটি ৬৪ দশমিক ২ শতাংশ। চাকরির তথ্যের পরেই পছন্দের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ক্রীড়া সংক্রান্ত তথ্য, যা ৪৯ দশমিক ৮ শতাংশ। এ ছাড়া প্রতিদিন ৭২ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ অন্তত একবার ইন্টারনেট ব্যবহার করছেন।
বিবিএসের আইসিটি প্রয়োগ ও ব্যবহারিক জরিপে আরও দেখা যায়, দেশে স্মার্টফোন ব্যবহারে শীর্ষে রয়েছে ফেনী। এরপর আছে যথাক্রমে কুমিল্লা, চট্টগ্রাম, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, গাজীপুর, নারায়ণগঞ্জ, ঢাকা, চাঁদপুর ও শরীয়তপুর।
সবচেয়ে পিছিয়ে আছে গাইবান্ধা, দিনাজপুর, ঠাকুরগাঁও, লালমনিরহাট, রংপুর, নীলফামারী, শেরপুর, ঝালকাঠি, কুড়িগ্রাম ও পঞ্চগড়।
গত তিন মাসে ১১ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ অনলাইনে পণ্য বা সেবা ক্রয় করেছেন। আর গত এক বছরে ১৬ দশমিক ৯ শতাংশ মানুষ অনলাইনে সরকারি সেবা গ্রহণ করেছেন। দেশে অনলাইন দক্ষতার মধ্যে সবচেয়ে এগিয়ে কপি-পেস্ট করার সক্ষমতা। এটি ৮৪ দশমিক ৪ শতাংশ।
ডিজিটাল ঝুঁকির ক্ষেত্রে ৫০ দশমিক ৫ শতাংশ ব্যবহারকারী ভাইরাস বা ম্যালওয়্যার সংক্রমণের মুখে পড়েছেন। পরিবার পর্যায়ে মোবাইল ফোনে প্রবেশাধিকার রয়েছে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশের, ইন্টারনেট ৫৫ দশমিক ১ শতাংশ এবং কম্পিউটার মাত্র ৯ দশমিক ০ শতাংশ।
ব্যক্তি পর্যায়ে মোবাইল ব্যবহার করেন ৮৮ দশমিক ৪ শতাংশ মানুষ, ইন্টারনেট ব্যবহার করেন ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ এবং কম্পিউটার ব্যবহার করেন ১১ দশমিক ৩ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে শহর-গ্রামে রয়েছে বড় ধরনের বৈষম্য। গ্রামে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ, শহরে ৭৫ দশমিক ৭ শতাংশ।
মোবাইল মালিকানায় পুরুষরা এগিয়ে। এর হার ৭০ দশমিক ০ শতাংশ, যেখানে নারীর হার ৫৮ দশমিক ৯ শতাংশ। ইন্টারনেট ব্যবহারে পুরুষ ৫৬ দশমিক ৬ শতাংশ এবং নারী ৫০ দশমিক ২ শতাংশ। বেশি দামের কারণে ৪৩ দশমিক ৬ শতাংশ মানুষ ইন্টারনেট সেবা গ্রহণ করেন না।
এ ছাড়া মুঠোফোনে রেডিও শোনার প্রবণতা বাড়ছে, বিপরীতে কমছে টেলিভিশনের ব্যবহার; জরিপে এমন তথ্যও উঠে এসেছে।
আইসিটির উন্নয়নে বাংলাদেশ এখনও মায়ানমার ও শ্রীলঙ্কার চেয়ে পিছিয়ে রয়েছে। যদিও দেশে ৯৮ দশমিক ৯ শতাংশ পরিবার মুঠোফোন ব্যবহার করছে এবং স্মার্টফোন রয়েছে ৭২ দশমিক ৭ শতাংশ পরিবারের হাতে। একই সঙ্গে ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ পরিবার বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।
মন্তব্য করুন
