

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


এতদিন শরীরের যে অঙ্গটিকে আমরা সম্পূর্ণ অপ্রয়োজনীয় ও অকেজো বলে জানতাম, সেখানেই এবার থাবা বসাচ্ছে এক বিরল ক্যানসার। ক্ষুদ্রান্ত্র ও বৃহদন্ত্রের সংযোগস্থলে থাকা ‘অ্যাপেনডিক্স’ নামের এই ছোট থলিটিতেই জন্ম নিচ্ছে ‘অ্যাপেন্ডিসিয়াল কার্সিনোমা’ বা ‘নিউরোএন্ডোক্রিন ক্যানসার’।
আগে দশ লাখে হয়তো একজনের এই রোগ হতো, কিন্তু বর্তমানে ৫০ বছর বয়স পেরোনোর আগেই, বিশেষ করে কমবয়সিদের মধ্যে এর প্রকোপ আশঙ্কাজনকভাবে বাড়ছে।
স্ট্যানফোর্ড ও ভ্যান্ডারবিল্ট ইউনিভার্সিটির গবেষকদের মতে, এই ক্যানসারটি সাধারণ কোলন বা পাকস্থলীর ক্যানসারের চেয়ে অনেকটাই আলাদা। অ্যাপেনডিক্সে তৈরি হওয়া এই টিউমার খুব দ্রুত কোলন, অন্ত্র কিংবা পাকস্থলীতে ছড়িয়ে পড়ে।
লক্ষণ ও চেনার উপায়:
সবচেয়ে ভয়ের ব্যাপার হলো, এর লক্ষণ দেখে রোগটি চট করে বোঝার উপায় থাকে না। আজকাল অ্যাপেনডিক্সের ব্যথা হলে অস্ত্রোপচার না করে অনেকেই ওষুধ খান, ফলে ভেতরের টিউমারটি আড়ালেই থেকে যায়। এর সাধারণ কিছু লক্ষণ হলো:
তলপেট ও কোমরের নিচের অংশে তীব্র ব্যথা এবং পেট ফুলে যাওয়া।
নারীদের ক্ষেত্রে এটি জরায়ুর সিস্ট বা এন্ডোমেট্রিয়োসিসের মতো বিভ্রম তৈরি করে। ঋতুস্রাবের সময় অসহ্য যন্ত্রণা এবং অনিয়মিত পিরিয়ড হওয়া।
এই ক্যানসারের সঠিক কারণ এখনও অজানা। তবে গবেষকদের অনুমান, অতিরিক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার (জাঙ্ক ফুড), রাসায়নিক প্রিজারভেটিভ এবং মাত্রাতিরিক্ত মদ্যপানের কারণে পরিপাকতন্ত্রে জিনগত পরিবর্তন ঘটছে। এমনকি আক্রান্তদের টিউমারে মাইক্রোপ্লাস্টিকও পাওয়া গেছে।
আশঙ্কাজনক বিষয় হলো, এই ক্ষতিকর জিনগত পরিবর্তন পরবর্তী প্রজন্মেও ছড়িয়ে পড়তে পারে। তাই জীবনযাত্রায় রাশ না টানলে বিপদ রুখ করা অসম্ভব।
