রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
রবিবার
১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২৯ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সাধারণ মাথাব্যাথা নাকি হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসারের সংকেত?

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:১৭ পিএম
ছবি সংগৃহীত
expand

বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাথা ও ঘাড় বা হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার। ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ক্যানসার রিসার্চ অ্যান্ড হসপিটালের তথ্য অনুযায়ী, পুরুষের শীর্ষ ১০টি ক্যানসারের মধ্যে অন্তত চারটি এবং নারীদের ক্ষেত্রে তিনটিই এই ক্যাটাগরির অন্তর্ভুক্ত, যা সব ধরনের ক্যানসারের মধ্যে সবচেয়ে বেশি।

প্রাপ্তবয়স্কদের পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক শিশুও এতে আক্রান্ত হচ্ছে; যেখানে শিশুদের ক্ষেত্রে ৮ থেকে ১০ শতাংশ হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার জিনগত কারণে হয়ে থাকে। তবে প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে জীবনযাত্রার নানা অভ্যাসের কারণে এটি অনেকাংশেই প্রতিরোধযোগ্য।

চিকিৎসকদের মতে, প্রাথমিক অবস্থায় রোগটি শনাক্ত করা গেলে এবং সময়মতো চিকিৎসা নিলে শতভাগ নিরাময় সম্ভব, অথচ দেরিতে ধরা পড়লে এর পরিণতি মারাত্মক হতে পারে।

হেড অ্যান্ড নেক ক্যানসার বলতে কী বোঝায়

মানুষের মাথা থেকে ঘাড় পর্যন্ত অন্তত ৩০টি সংবেদনশীল অঙ্গ ও অংশ এই ক্যানসারের আওতাভুক্ত। এর মধ্যে নাক, নাকের গহ্বর, সাইনাস, ঠোঁট, জিহ্বা, মাড়ি, গালের ভেতরের অংশ, মুখের তালু, গলা, কণ্ঠনালী, শ্বাসনালী, খাদ্যনালী, টনসিল, লালাগ্রন্থি এবং হেড-নেকের ত্বক অন্তর্ভুক্ত।

ঝুঁকিপূর্ণ কারণ ও আক্রান্তের হার

প্রধানত তামাক ও মদের অতিরিক্ত ব্যবহার এবং ধূমপান ও মদ্যপান একসাথে করার প্রবণতা এই ক্যানসারের মূল ঝুঁকি তৈরি করে। এর পাশাপাশি পান, জর্দা, সাদা পাতা, চুন, গুল ও খৈনির মতো তামাকজাত দ্রব্য সেবন, মুখ ও দাঁতের অযত্ন, দুর্বল রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা এবং বংশে ক্যানসারের ইতিহাস ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়।

এছাড়া নির্মাণ, টেক্সটাইল, সিরামিক ও খাদ্য প্রক্রিয়াকরণ কারখানায় কাঠের ধুলো, ফর্মালডিহাইড, অ্যাসবেস্টস ও নিকেলের মতো রাসায়নিকের সংস্পর্শে কাজ করা, অতিরিক্ত রোদ বা অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শ এবং হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস (HPV) বা এপস্টাইন-বার ভাইরাসের সংক্রমণও এর জন্য দায়ী হতে পারে।

শিশু থেকে যেকোনো বয়সের মানুষ এতে আক্রান্ত হতে পারলেও ৫০ বছরের বেশি বয়সীদের ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি এবং নারীদের তুলনায় পুরুষদের আক্রান্ত হওয়ার হার প্রায় তিন গুণ বেশি।

প্রধান লক্ষণসমূহ

মাথা ও ঘাড়ের বিভিন্ন অংশে এ ক্যানসার হওয়ায় লক্ষণও ভিন্ন হয়ে থাকে। তবে যেকোনো একটি বা একাধিক লক্ষণ যদি ১৫ দিনের বেশি স্থায়ী হয়, তবে দ্রুত নাক, কান ও গলা বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। লক্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে-

  • গলায় দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা, খাবার গিলতে বা চিবিয়ে খেতে কষ্ট হওয়া
  • শ্বাসকষ্ট, নাক বন্ধ থাকা, শ্বাস নেওয়ার সময় শব্দ হওয়া এবং গন্ধের অনুভূতি কমে যাওয়া
  • অবিরাম কাশি এবং মুখ ও জিহ্বায় সহজে না সারে এমন সাদা বা লাল ক্ষত
  • দীর্ঘমেয়াদী সর্দি বা নাক থেকে রক্তক্ষরণ ও গলার স্বর পরিবর্তন
  • মুখ, চোয়াল, ঘাড়, কান বা নাকের চারপাশ ফুলে যাওয়া এবং মুখ খুলতে বা কথা বলতে সমস্যা হওয়া
  • কানে ব্যথা, এক কানে শুনতে সমস্যা হওয়া বা দাঁতে ব্যথা
  • থেমে থেমে জ্বর ও দীর্ঘদিন মাথাব্যথা

প্রতিরোধ ও সচেতনতা

কিছু জীবনমুখী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধ্যমে হেড অ্যান্ড নেক ক্যান্সারের ঝুঁকি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এর মধ্যে রয়েছে সব ধরনের তামাক, মদ ও মাদক গ্রহণ সম্পূর্ণ বর্জন করা, নিয়মিত দাঁত ব্রাশ করে মুখ পরিষ্কার রাখা এবং ডেন্টিস্টের কাছে নিয়মিত চেকআপ করানো।

অনেক সময় দাঁতের পরীক্ষা করাতে গিয়েই মাথা ও ঘাড়ের ক্যানসারের প্রাথমিক লক্ষণ ধরা পড়ে। পাশাপাশি চিকিৎসকের পরামর্শে এইচপিভি টিকা গ্রহণ এবং সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষায় ছাতা, টুপি ও সানস্ক্রিন ব্যবহার করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

চিকিৎসা ও পরবর্তী পরিচর্যা

রোগীর শারীরিক ইতিহাস ও লক্ষণ প্রকাশের সময়কাল জানার পর চিকিৎসকরা বিভিন্ন শারীরিক পরীক্ষা যেমন সিটি স্ক্যান, এমআরআই, পিইটি, ন্যাজো এন্ডোস্কোপি এবং রক্ত ও প্রস্রাব পরীক্ষার মাধ্যমে রোগ নির্ণয় করেন। পরীক্ষার রিপোর্টের ভিত্তিতে বায়োপসি, অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি, রেডিওথেরাপি বা ইমিউনোথেরাপি দেওয়া হয়ে থাকে।

ক্যানসার নিরাময় হওয়ার পরও এটি পুনরায় ফিরে আসার ঝুঁকি থাকে, তাই চিকিৎসকরা সুস্থ হওয়ার পরও নিয়মিত ফলোআপ ও চেকআপ চালিয়ে যাওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank