

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


জলাতঙ্ক একটি মারাত্মক ভাইরাসজনিত রোগ। আক্রান্ত প্রাণীর কামড়, আঁচড় কিংবা লালার সংস্পর্শের মাধ্যমে মানুষের শরীরে এ ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। রোগের উপসর্গ প্রকাশ পাওয়ার পর জলাতঙ্ক প্রায় সব ক্ষেত্রেই প্রাণঘাতী। তবে প্রাণীর সংস্পর্শের পর দ্রুত ক্ষত পরিষ্কার করা এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা ও র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) নেওয়ার মাধ্যমে রোগটি প্রতিরোধ করা সম্ভব।
তাই কুকুর, বিড়াল বা অন্য কোনো সন্দেহজনক প্রাণীর কামড় কিংবা আঁচড়কে কোনোভাবেই অবহেলা করা উচিত নয়।
জলাতঙ্কের ভাইরাস আক্রান্ত স্তন্যপায়ী প্রাণীর লালার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। এর মধ্যে রয়েছে-
তবে কোনো প্রাণী কামড়েছে মানেই যে সেটি জলাতঙ্কে আক্রান্ত এমন নয়। ঝুঁকি নির্ধারণের জন্য প্রাণীর আচরণ, স্বাস্থ্যগত অবস্থা এবং কামড়ের ধরন বিবেচনা করা হয়।
কামড় বা আঁচড় লাগার পর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো ক্ষতটি দ্রুত পরিষ্কার করা। আক্রান্ত স্থান সাবান ও প্রচুর পরিষ্কার পানির প্রবাহে প্রায় ১৫ মিনিট ধুয়ে ফেলুন। এরপর প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জীবাণুনাশক ব্যবহার করা যেতে পারে। ক্ষতের ওপর মাটি, কয়লা, মরিচ, তেল বা অন্য কোনো ঘরোয়া উপাদান লাগানো উচিত নয়। ক্ষত গভীর হলে নিজে চিকিৎসা না করে দ্রুত হাসপাতালে বা চিকিৎসকের কাছে যেতে হবে।
প্রাণীর সংস্পর্শের ধরন অনুযায়ী জলাতঙ্কের ঝুঁকি ভিন্ন হতে পারে।
অক্ষত চামড়ায় প্রাণী শুধু স্পর্শ করলে বা লেহন করলে সাধারণত জলাতঙ্ক প্রতিরোধের টিকা প্রয়োজন হয় না। তবে সন্দেহ থাকলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া ভালো।
রক্তপাত না হলেও আঁচড় বা চামড়া উঠে গেলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা প্রয়োজন হতে পারে। ক্ষত দ্রুত পরিষ্কার করাও জরুরি।
চামড়া ভেদ করে কামড়, গভীর আঁচড়, ক্ষতস্থানে প্রাণীর লালা লাগা কিংবা মুখমণ্ডল ও মাথার কাছাকাছি গুরুতর আঘাত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিতে হবে। এ ধরনের ক্ষেত্রে টিকার পাশাপাশি র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন (RIG) প্রয়োজন হতে পারে।
জলাতঙ্কের টিকার সূচি ব্যক্তির আগের টিকা নেওয়ার ইতিহাস, সংস্পর্শের ধরন এবং ব্যবহৃত টিকার পদ্ধতির ওপর নির্ভর করে। তাই নির্দিষ্ট ডোজ বা দিন নিজে থেকে ঠিক না করে চিকিৎসক বা র্যাবিস প্রতিরোধকেন্দ্রের নির্দেশনা অনুসরণ করা জরুরি।
আগে জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া থাকলে এবং নতুন করে প্রাণীর কামড় বা আঁচড় লাগলে অনেক ক্ষেত্রে পূর্ণ কোর্সের পরিবর্তে নির্দিষ্ট বুস্টার ডোজ দেওয়া হয়। অন্যদিকে আগে টিকা না নেওয়া ব্যক্তির ক্ষেত্রে একাধিক ডোজের প্রয়োজন হতে পারে।
গুরুতর বা উচ্চঝুঁকির সংস্পর্শের ক্ষেত্রে, বিশেষ করে চামড়া ভেদ করে কামড় বা ক্ষতস্থানে লালা লাগলে, চিকিৎসক জলাতঙ্কের টিকার পাশাপাশি র্যাবিস ইমিউনোগ্লোবুলিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিতে পারেন।
RIG সাধারণত ক্ষতের আশপাশে দেওয়া হয় এবং এটি দ্রুত ভাইরাসের বিরুদ্ধে সুরক্ষা দিতে সহায়তা করে। টিকার সঙ্গে এটি একই সিরিঞ্জে বা একই স্থানে দেওয়া হয় না।
কামড় বা আঁচড়ের পর যত দ্রুত সম্ভব চিকিৎসকের কাছে যাওয়া উচিত। ক্ষত পরিষ্কার করে দ্রুত পোস্ট-এক্সপোজার প্রোফাইল্যাক্সিস (PEP) শুরু করা সবচেয়ে নিরাপদ ব্যবস্থা।
কামড়ের পর কয়েক ঘণ্টা পেরিয়ে গেছে বলে টিকা নেওয়া বাদ দেওয়া উচিত নয়। দেরি হয়ে গেলেও দ্রুত চিকিৎসা নেওয়া জরুরি।
জলাতঙ্কের সংস্পর্শের পর প্রয়োজন হলে শিশু, গর্ভবতী নারী ও স্তন্যদানকারী মায়ের ক্ষেত্রেও চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী জলাতঙ্কের টিকা দেওয়া যায়। শুধু গর্ভাবস্থা বা বয়সের কারণে প্রয়োজনীয় জলাতঙ্কের টিকা বন্ধ রাখা উচিত নয়।
জলাতঙ্কের ক্ষেত্রে উপসর্গ দেখা দেওয়ার অপেক্ষা করা বিপজ্জনক। প্রাণীর কামড় বা আঁচড়ের পর ক্ষত পরিষ্কার করে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া এবং প্রয়োজন অনুযায়ী টিকা ও RIG গ্রহণ করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
কোন প্রাণী কামড়েছে, কোথায় কামড়েছে, ক্ষত কতটা গভীর এবং আগে জলাতঙ্কের টিকা নেওয়া হয়েছিল কি না—এসব তথ্য চিকিৎসককে জানাতে হবে। নির্ধারিত সময়ের টিকা কোনো কারণে বাদ পড়লে নিজে থেকে কোর্স বন্ধ না করে চিকিৎসকের সঙ্গে যোগাযোগ করা উচিত।



