

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিচ্ছেদের পর প্রাক্তনের সাথে বন্ধুত্ব রাখা সম্ভব কি না- এটি চিরন্তন এক প্রশ্ন। কেউ মনে করেন সম্পর্ক ভাঙার পর আর কোনো যোগাযোগ থাকা উচিত নয়, আবার কেউ বিশ্বাস করেন অতীতকে পেছনে ফেলে সুন্দর একটি বন্ধুত্ব গড়ে তোলা সম্ভব।
একটি সম্পর্কের মূল ভিত্তিই হলো পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও বিশ্বাস। প্রেমের সম্পর্কটি না টিকলেও কিছু বিশেষ পরিস্থিতিতে প্রাক্তনের সাথে একটি সুস্থ ও সম্মানজনক বন্ধুত্ব বজায় রাখা সম্ভব হতে পারে:
সন্তানের ভবিষ্যৎ যেখানে জড়িত:
বিচ্ছেদের পরও যাদের সন্তান লালন-পালনের দায়িত্ব যৌথভাবে নিতে হয়, তাদের মধ্যে সুস্থ সম্পর্ক থাকা জরুরি।
বাবা-মায়ের তিক্ততা যেন সন্তানের মানসিক বিকাশে বাধা না হয়ে দাঁড়ায়, সে জন্য সৌজন্যমূলক বন্ধুত্ব প্রয়োজন।
একই কর্মক্ষেত্র বা বন্ধু মহল:
যদি আপনারা একই অফিসে কাজ করেন কিংবা আপনাদের বন্ধুদের গ্রুপ একই হয়, তবে পেশাদারিত্ব ও সামাজিক স্বস্তি বজায় রাখতে একটি সহজ সম্পর্ক রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
পারস্পরিক সম্মতি ও অভিন্ন ভালোলাগা:
বিচ্ছেদ যদি তিক্ততাহীন এবং দুজনের সম্মতিতে হয়ে থাকে, তবে পুরোনো আবেগ কাটিয়ে ওঠা সহজ হয়।
এছাড়া যদি আপনাদের চিন্তাভাবনা, শখ বা সৃজনশীল বিষয়ে মিল থাকে, তবে সেসব নিয়ে চমৎকার বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনা চলতেই পারে।
বন্ধুত্ব থেকে শুরু হওয়া সম্পর্ক:
অনেক প্রেমের সম্পর্ক শুরুই হয় গভীর বন্ধুত্ব থেকে। সময়ের সাথে সাথে প্রেমের আবেগের ভার কমে গেলে, সেই পুরোনো বন্ধুত্ব আবার ফিরে আসতেই পারে।
কখন দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়:
প্রাক্তনের সাথে বন্ধুত্ব যেখানে ক্ষতিকর। সব পরিস্থিতিতে প্রাক্তনের সাথে বন্ধুত্ব রাখা যায় না, এমনকি রাখা উচিতও নয়। কিছু ক্ষেত্রে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করাই নিজের মানসিক শান্তির জন্য সবচেয়ে ভালো সিদ্ধান্ত।
অন্যায় ও প্রতারণার অতীত: সম্পর্কে যদি মানসিক বা শারীরিক নির্যাতন, অপমান, কিংবা প্রতারণার মতো ঘটনা ঘটে থাকে, তবে সেই মানুষের সাথে বন্ধুত্ব রাখা মানে নতুন করে নিজেকে কষ্টের মুখে ঠেলে দেওয়া।
অমিমাংসিত অনুভূতি বা প্রত্যাশা: বিচ্ছেদের পরও যদি আপনার মনে প্রাক্তনের প্রতি ভালোবাসা বা তাকে ফিরে পাওয়ার আশা থাকে, তবে বন্ধুত্ব আপনাকে জীবনে এগিয়ে যেতে দেবে না।
একইভাবে, প্রাক্তন যদি আপনার সাথে সম্পর্কে ফিরতে চায় আর আপনি না চান, তবে বন্ধুত্বের প্রস্তাব তার জন্য বিভ্রান্তিকর হবে।
নজরদারি করার মানসিকতা: শুধু প্রাক্তন কার সাথে মিশছে বা কেমন আছে- তা নজরে রাখার জন্য যোগাযোগ রাখাটা এক ধরণের মানসিক ফাঁদ। এটি অতীত থেকে বের হতে দেয় না এবং নতুন কোনো সম্পর্কে জড়ানোর পথ বন্ধ করে দেয়।
প্রাক্তনের সঙ্গে বন্ধুত্ব রাখা উচিত কি না, তার কোনো বাঁধাধরা বা একক নিয়ম নেই। এটি সম্পূর্ণ নির্ভর করে আপনার মানসিক শান্তি, আত্মসম্মান এবং বর্তমান জীবনের ওপর এর প্রভাবের ওপর।
যদি এই যোগাযোগ আপনাকে স্বস্তি দেয় এবং কোনো পুরোনো ক্ষতকে নতুন করে তাজা না করে, তবে বন্ধুত্ব সম্ভব।
কিন্তু যদি এই সম্পর্ক কেবলই পুরোনোকষ্ট, প্রত্যাশা বা বিভ্রান্তি তৈরি করে, তবে নিজের ভালোর জন্য একটি সম্মানজনক দূরত্ব বজায় রাখাই হবে সবচেয়ে পরিণত ও বুদ্ধিমানের কাজ।
