শুক্রবার
২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২১ আগস্ট ২০২৬, ৬ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাষ্ট্রপতির কতটুকু ক্ষমতা, বেতন-ভাতাসহ যেসব সুবিধা পাবেন

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২০ আগস্ট ২০২৬, ০৬:০৮ পিএম
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল
expand
রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল

বাংলাদেশের সংসদীয় শাসনব্যবস্থায় রাষ্ট্রপতি কেবল রাষ্ট্রের অভিভাবক ও সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদমর্যাদার অধিকারীই নন, বরং রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ অঙ্গের মধ্যে সমতা ও সংযোগ বজায় রাখার এক মূল স্তম্ভ।

পদের স্বরূপ ও নির্বাচন প্রক্রিয়া

বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি সরাসরি জনগণের ভোটে নির্বাচিত হন না, জাতীয় সংসদের নির্বাচিত সদস্যদের ভোটে তিনি নির্বাচিত হন। সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির কার্যকাল ৫ বছর এবং পরপর বা বিরতি দিয়ে একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ দুই মেয়াদ এই পদে থাকতে পারেন।

দায়িত্বে থাকাকালীন তিনি অন্য কোনো লাভজনক পদে অধিষ্ঠিত হতে পারেন না। রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও শিষ্টাচারের দিক থেকে তিনি দেশের সবার ওপরে অবস্থান করলেও, সংসদীয় গণতন্ত্রে সরকারের মূল নির্বাহী ক্ষমতা প্রধানমন্ত্রী ও তার মন্ত্রিসভার হাতেই ন্যস্ত থাকে।

একচ্ছত্র স্বাধীন ক্ষমতা

সংবিধানের ৪৮(৩) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী অধিকাংশ কাজে প্রধানমন্ত্রীর পরামর্শ নেওয়ার বাধ্যবাধকতা থাকলেও দুটি ক্ষেত্রে রাষ্ট্রপতি সম্পূর্ণ স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নিতে পারেন:

প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ: সংসদ নির্বাচনে কোনো দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে সেই দলের সংসদীয় নেতাকে এবং ঝুলন্ত সংসদের ক্ষেত্রে নিজের বিবেচনায় উপযুক্ত সংসদ সদস্যকে প্রধানমন্ত্রী নিয়োগ প্রদান।

প্রধান বিচারপতি নিয়োগ: বিচার বিভাগের প্রধান হিসেবে প্রধান বিচারপতিকে সরাসরি ও স্বাধীনভাবে নিয়োগ প্রদান।

আইন প্রণয়ন, সংসদ ও বিচার বিভাগীয় ভূমিকা

সংসদ পরিচালনা ও বিল অনুমোদন: সংসদের অধিবেশন আহ্বান, স্থগিত করা বা ভেঙে দেওয়ার সাংবিধানিক ক্ষমতা তার হাতে। সংসদে উত্থাপিত যেকোনো বিল পাস হওয়ার পর তা আইনে পরিণত হতে রাষ্ট্রপতির সম্মতি অপরিহার্য। প্রয়োজনে তিনি বিল পুনর্বিবেচনার জন্য সংসদে ফেরত পাঠাতে পারেন।

অধ্যাদেশ জারি: সংসদ অধিবেশন না থাকলে বা সংসদ ভেঙে গেলে জরুরি পরিস্থিতিতে তিনি 'অধ্যাদেশ' (সাময়িক আইন) জারি করতে পারেন।

দণ্ড মওকুফ (অনুচ্ছেদ ৪৯): আদালতের প্রদত্ত যেকোনো সাজা মওকুফ, স্থগিত বা কমানোর বিশেষ ক্ষমতা রাষ্ট্রপতির রয়েছে।

সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান ও সাংবিধানিক দায়মুক্তি

রাষ্ট্রপতি বাংলাদেশের সেনা, নৌ ও বিমান- এই তিন বাহিনীর সর্বাধিনায়ক। দায়িত্ব পালনকালে তার অনন্য সাংবিধানিক দায়মুক্তি রয়েছে, মেয়াদকালে তার বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা করা যায় না বা গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা যায় না।

তবে সংবিধান লঙ্ঘন, গুরুতর অসদাচরণ বা শারীরিক-মানসিক অসামর্থ্যের কারণে সংসদের দুই-তৃতীয়াংশ ভোটে তাকে অভিশংসিত (অপসারণ) করা সম্ভব (যেমনটি ২০০২ সালে সাবেক রাষ্ট্রপতি একিউএম বদরুদ্দোজা চৌধুরীর ক্ষেত্রে ঘটেছিল)।

বেতন-ভাতা ও অনুপস্থিতিতে করণীয়

বর্তমানে 'দ্য প্রেসিডেন্টস রেমুনারেশন অ্যান্ড প্রিভিলেজ অ্যাক্ট' অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির মাসিক বেতন ১ লাখ ২০ হাজার টাকা, যা সম্পূর্ণ আয়করমুক্ত।

এছাড়া তিনি অনিরীক্ষিত আপ্যায়ন ভাতা ও অন্যান্য রাষ্ট্রীয় সুবিধা পান। যদি রাষ্ট্রপতি কোনো কারণে দায়িত্ব পালনে অসমর্থ হন বা পদটি শূন্য হয়, তবে নতুন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত জাতীয় সংসদের স্পিকার ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank