বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
বুধবার
১৯ আগস্ট ২০২৬, ৪ ভাদ্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আজ বিশ্ব আলু দিবস

লাইফস্টাইল ডেস্ক
প্রকাশ : ১৯ আগস্ট ২০২৬, ০১:০৮ পিএম
আলু
expand
আলু

ভর্তা, ভাজি, ঝোল কিংবা মুচমুচে ফ্রেঞ্চ ফ্রাই- আমাদের দৈনন্দিন খাবারের তালিকায় আলু যেন এক অপরিহার্য নাম। বৈচিত্র্যময় এই সবজিটির অবদান ও গুরুত্বকে স্মরণ করতে প্রতি বছর ১৯ আগস্ট পালিত হয় জাতীয় আলু দিবস।

আর বিশ্বজুড়ে কৃষকের জীবিকা, সঠিক পুষ্টি এবং সার্বিক খাদ্যনিরাপত্তায় আলুর ভূমিকা উদযাপনে ৩০ মে পালিত হয় আন্তর্জাতিক আলু দিবস।

আলুর এই বিশ্বজয়ের ইতিহাস কিন্তু বেশ পুরোনো। প্রায় ৮ হাজার বছর আগে দক্ষিণ আমেরিকার আন্দিজ পর্বতমালায় (বর্তমান পেরু ও বলিভিয়া অঞ্চলে) প্রথম আলু চাষ শুরু হয়। ষোড়শ শতকে স্প্যানিশ অভিযাত্রীদের মাধ্যমে এই ফসল পৌঁছায় ইউরোপে, আর সেখান থেকেই ধীরে ধীরে তা ছড়িয়ে পড়ে পৃথিবীর আনাচে-কানাচে।

বর্তমানে বিশ্বজুড়ে প্রায় ৫ হাজারের বেশি জাতের আলু রয়েছে। লাল, সাদা, হলুদ এমনকি চমৎকার বেগুনি রঙের আলুও খেতে পাওয়া যায়, যার প্রতিটি স্বাদে ও বৈশিষ্ট্যে আলাদা।

পুষ্টিমানের দিক থেকেও এটি অত্যন্ত সমৃদ্ধ। এতে রয়েছে প্রচুর কার্বোহাইড্রেট, পটাশিয়াম, ভিটামিন সি এবং খাদ্যআঁশ। তবে রান্নার পদ্ধতির ওপর এর পুষ্টি গুণাগুণ অনেকাংশে নির্ভর করে। যেমন- সেদ্ধ বা ভাপানো আলু স্বাস্থ্যের জন্য যতটা ভালো, অতিরিক্ত তেলে ভাজা আলু বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাইয়ে ক্যালোরির পরিমাণ ঠিক ততটাই বেশি।

ইতিহাসের পাতায় আলুর সঙ্গে এক ট্র্যাজিক অধ্যায়ও জড়িয়ে আছে। ১৮৪০-এর দশকে লেট ব্লাইট রোগে আয়ারল্যান্ডের আলু ফসল ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়।

ফলে ১৮৪৫ থেকে ১৮৫২ সাল পর্যন্ত দেশটিতে এক ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ দেখা দেয়। এই ঘটনা বিশ্বকে শিখিয়েছিল- শুধুমাত্র একটি মাত্র ফসলের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীল হওয়া কতটা বিপজ্জনক হতে পারে।

বিশ্বের যেকোনো প্রান্তেই যাক না কেন, বাঙালির খাদ্যসংস্কৃতিতে আলু যেভাবে মিশে গেছে তা সত্যিই অনন্য। আলুভর্তা, আলুর চপ, গরম সিঙ্গারা, কিংবা খাসির মাংস ও বিরিয়ানির আলু- আমাদের প্রতি বেলার আহারে এই সাধারণ সবজিটিই এনে দেয় অসাধারণ এক তৃপ্তি।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন
X
City bank
City bank