

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডার মায়ামি-ডেড কাউন্টির টার্নার গিলফোর্ড নাইট কারেকশনাল সেন্টারে ঘটে যাওয়া একটি আশ্চর্যজনক ঘটনা আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করেছে।
২০২২ সালের জুন মাস থেকে সেখানে দ্বিতীয় মাত্রার হত্যার অভিযোগে বন্দি ছিলেন ২৯ বছর বয়সী ডেইজি লিংক।
অন্যদিকে, একই কারাগারে প্রথম মাত্রার হত্যার অভিযোগে বিচারাধীন ছিলেন ২৩ বছর বয়সী জোয়ান ডেপাজ। কারাগারের আলাদা দুই ভবনে এবং সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন দুটি কক্ষে বন্দি থাকার কারণে তাদের কখনো সরাসরি দেখা করা কিংবা স্পর্শ করার মতো কোনো সুযোগ ছিল না।
সরাসরি কোনো যোগাযোগ না থাকা সত্ত্বেও ২০২৪ সালের ১৯ জুন মায়ামির জ্যাকসন মেমোরিয়াল হাসপাতালে এক কন্যাসন্তানের জন্ম দেন ডেইজি লিংক।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে উঠে আসে, বন্দিরা কারাগারের দুটি সেলের মধ্যে সংযোগকারী বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা (এসি বা ভেন্টিলেশন ডাক্ট) ব্যবহার করে প্লাস্টিকের মোড়ক ও সুতার সাহায্যে জোয়ান ডেপাজের শুক্রাণু লিংক পর্যন্ত পৌঁছান।
পরবর্তীতে সেটির মাধ্যমে স্ব-পদ্ধতিতে ডেইজি লিংক গর্ভধারণ করেন। চিকিৎসা বিশেষজ্ঞ ড. ফার্নান্দো আকারম্যানের মতে, এ ধরনের অপ্রচলিত ও কৃত্রিম উপায়ে গর্ভধারণের সম্ভাবনা মাত্র ৫ শতাংশের নিচে হলেও চিকিৎসা বিজ্ঞানের দৃষ্টিকোণ থেকে তা একদম অসম্ভব নয়। পরবর্তীতে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমেও নবজাতকের পিতৃত্বের বিষয়টি নিশ্চিত হওয়া যায়।
সন্তান জন্মের ৪৮ ঘণ্টা পর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে তাকে জোয়ান ডেপাজের মায়ের কাছে হস্তান্তরিত করা হয়। এ ঘটনার পর কারা নিরাপত্তা ও অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থার গলদ নিয়ে তীব্র সমালোচনার সৃষ্টি হলে মায়ামি-ডেড কারা কর্তৃপক্ষ উচ্চপর্যায়ের তদন্ত শুরু করে।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালে বিচার চলাকালীন জোয়ান ডেপাজ নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিলে আদালত তাকে ২৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
অপরদিকে, প্রকাশিত কিছু ফোনালাপের অডিও রেকর্ড থেকে জানা যায়, কারাগারে বিচারহীন বন্দিদশা ও কঠোর শাস্তি থেকে কিছুটা ছাড় পাওয়ার বা বিচার বিলম্বিত করার বিশেষ কৌশল হিসেবেই ডেইজি লিংক পরিকল্পিতভাবে গর্ভধারণের এই উদ্যোগ নিয়েছিলেন।


