

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বিশ্বফুটবলেই ইয়ামালের উত্থান যেন এক বাস্তব রূপকথা। খুব অল্প বয়সেই বার্সেলোনা ও স্পেন জাতীয় দলের অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছেন তিনি।
তবে মাঠের সবুজ ঘাসে ঝড় তোলার আগে এই তরুণ ফুটবলারকে প্রায়ই দেখা যায় হাঁটু গেড়ে বসে, দুই হাত তুলে নীরবে প্রার্থনা করতে।
বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মনে প্রশ্ন জাগা এই অভ্যাসের মূল অনুপ্রেরণা লুকিয়ে আছে তার দাদি- ফাতিমা নাসরাউইয়ের জীবনসংগ্রামে।
ফাতিমার জীবনের গল্পটা মোটেও সহজ ছিল না। নব্বইয়ের দশকে সন্তানদের একটি সুন্দর ও নিরাপদ ভবিষ্যৎ দেওয়ার স্বপ্ন নিয়ে কোনো বৈধ কাগজপত্র ছাড়াই বুকভরা সাহস সম্বল করে মরক্কো থেকে একাকী স্পেনে পাড়ি জমান তিনি।
স্পেনে আসার পর আরাম-আয়েশ তো দূরের কথা, বেঁচে থাকার জন্যই তাকে কঠিন লড়াই করতে হয়েছে। বৃদ্ধাশ্রমে সেবা দেওয়া থেকে শুরু করে ঘরবাড়ি পরিষ্কারের কাজ- সবই করেছেন তিনি। সন্তানদের স্পেনে এনে সুপ্রতিষ্ঠিত করার জন্য কখনো কখনো দিনে তিনটি শিফটেও কাজ করতে পিছপা হননি ফাতিমা।
তার এই অক্লান্ত পরিশ্রমের ফল হিসেবেই পরবর্তীতে ইয়ামালের বাবা মুনির নাসরাউই (যার বয়স তখন মাত্র তিন বছর) স্পেনে আসার সুযোগ পান।
ইয়ামাল আজও আবেগের সাথে স্মরণ করেন- দাদির সেই সাহসিকতা না থাকলে তাদের পরিবারের আজকের অবস্থান হয়তো তৈরিই হতো না।
ইয়ামালের বয়স যখন মাত্র তিন বছর, তখন তার বাবা-মায়ের বিচ্ছেদ ঘটে। প্রতিকূল সেই পরিস্থিতিতেও নাতির মাথার ওপর বটবৃক্ষের মতো ছায়া হয়ে ছিলেন দাদি ফাতিমা।
বার্সেলোনা উপকণ্ঠের শ্রমজীবী এলাকা 'রোকাফোন্দা'-তে নাতিকে ভালোবাসার পাশাপাশি সঠিক নিয়মনীতি শিখিয়ে বড় করে তোলেন তিনি।