

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সেনেগালের ফুটবল বিশ্বকাপ মিশনটি শুধু যে মাঠের ব্যর্থতায় শেষ হয়েছে তা নয়, এর পেছনে লুকিয়ে থাকা একের পর এক অবিশ্বাস্য ও নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি এখন প্রকাশ্যে আসছে।
বেলজিয়ামের কাছে হেরে বিদায়ের পর ফুটবল দলটির অন্দরমহলের এমন কিছু তথ্য ফাঁস হয়েছে, যা ক্রীড়াবিশ্বকে চমকে দিয়েছে।
সেনেগাল ফুটবল দলের সবচেয়ে বড় কেলেঙ্কারিটি ফাঁস করেছেন স্বয়ং দেশটির ফুটবল ফেডারেশনের (এফএসএফ) সভাপতি আবদুলায়ে ফল। তিনি জানিয়েছেন, দীর্ঘ এক দশক ধরে পুরুষ ফুটবল দলের প্রধান চিকিৎসক হিসেবে যিনি দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন, তিনি আসলে একজন স্ত্রীরোগ ও প্রসূতিবিদ্যা বিশেষজ্ঞ (গাইনোকোলজিস্ট)!
ফুটবলারদের চিকিৎসার জন্য যে ধরণের প্রাতিষ্ঠানিক ও একাডেমিক যোগ্যতা প্রয়োজন, তা ডা. ফেদিওরের ছিল না। অথচ এই অবস্থাতেই তিনি ২০২৬ সালের বিশ্বকাপেও দলের প্রতিনিধি হয়ে গিয়েছিলেন।
ফেডারেশন সভাপতি জানান, খেলোয়াড়রা দীর্ঘদিন ধরেই এই চিকিৎসকের চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে সন্দিহান ছিলেন। তারা এই ডাক্তারের কাছে চিকিৎসা নিতে স্বস্তি পেতেন না এবং তার ওপর দলের কারোরই কোনো আস্থা ছিল না।
খেলোয়াড়দের মানসিক ও শারীরিক সুস্থতার বিষয়টি বিবেচনা করে ফেডারেশন এখন একটি কার্যকর সমাধান খোঁজার চেষ্টা করছে। শুধু চিকিৎসক বিতর্কই নয়, বিশ্বকাপ চলাকালীন সেনেগাল শিবিরে একের পর এক অভ্যন্তরীণ সংকট দেখা দিয়েছিল।
খেলোয়াড়দের বকেয়া বেতন, নিম্নমানের আবাসন ও খাবারের মতো মৌলিক লজিস্টিক সমস্যা তো ছিলই, এমনকি খোদ প্রধান কোচ পাপে বুনা থিয়াও কোনো আনুষ্ঠানিক চুক্তি ছাড়াই এতদিন দল পরিচালনা করছিলেন!
দলটির ভেতরের এই চরম বিশৃঙ্খলা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দলের প্রভাব পড়েছিল মাঠের খেলাতেও। বেলজিয়ামের বিপক্ষে শেষ বত্রিশের বাঁচা-মরার লড়াইয়ে ২-০ গোলে এগিয়ে গিয়েও শেষ পর্যন্ত ৩-২ ব্যবধানে হেরে টুর্নামেন্ট থেকে বিদায় নিতে হয় সেনেগালকে। এই ব্যর্থতার দায়ে ইতিমধ্যে কোচ পাপে বুনা থিয়াওকে বরখাস্ত করা হয়েছে।
