শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ
শুক্রবার
২০ মার্চ ২০২৬, ৬ চৈত্র ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

আমার হৃদয় ভেঙে গেছে: বিজয় থালাপতি

এনপিবি ডেস্ক
প্রকাশ : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪২ পিএম আপডেট : ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৫, ১২:৪৩ পিএম
expand
আমার হৃদয় ভেঙে গেছে: বিজয় থালাপতি

ভারতের তামিল সিনেমার তারকা ও রাজনৈতিক দল তামিলাগা ভেত্রি কাজাগাম (টিভিকে)–এর প্রধান থালাপতি বিজয়ের এক নির্বাচনী সমাবেশে পদদলিত হয়ে অন্তত ৩৬ জনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। আহত হয়েছেন অর্ধশতাধিক মানুষ, যাদের মধ্যে নারী ও শিশুও রয়েছে।

ঘটনার পর বিজয় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (পূর্বের টুইটার) গভীর শোক জানিয়ে লিখেছেন—

“আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। এই যন্ত্রণাকে ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। প্রিয় ভাই-বোনদের হারানোর শোকে আমি মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং যারা চিকিৎসাধীন আছেন, তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করছি।”

শনিবার সন্ধ্যায় কারুর-ইরোড মহাসড়কের ভেলুসামাইপুরামে বিজয়ের জনসভা হয়। প্রশাসন প্রায় ৩০ হাজার মানুষের অনুমতি দিয়েছিল, কিন্তু স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী সেখানে ৬০ হাজারেরও বেশি লোক সমাগম ঘটে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রাত পৌনে ৮টার দিকে হাজার হাজার মানুষ একসঙ্গে মঞ্চের দিকে ধাবিত হয়ে বিজয়কে কাছ থেকে দেখার চেষ্টা করেন। মুহূর্তেই বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়; ধাক্কাধাক্কি, হুড়োহুড়ির মধ্যে অনেকেই মাটিতে পড়ে শ্বাসরুদ্ধ হয়ে অচেতন হয়ে পড়েন। পরিস্থিতি সামাল দিতে বিজয়কে বক্তৃতা মাঝপথে বন্ধ করে পুলিশকে সহায়তার আহ্বান জানাতে হয়।

তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী এম. কে. স্টালিন দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে নিহতদের প্রত্যেকের পরিবারকে ১০ লাখ রুপি ও আহতদের ১ লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দেন। তিনি জানান, অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি অরুণা জগদেশনের নেতৃত্বে একটি তদন্ত কমিশন গঠন করা হয়েছে। জরুরি চিকিৎসা সহায়তার জন্য তিরুচিরাপল্লি ও সেলেম জেলা থেকে অন্তত ৪৪ জন চিকিৎসক কারুরে পাঠানো হয়।

স্টালিন সাংবাদিকদের বলেন, “এই দুর্ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩৬ জন মারা গেছেন, আহত হয়েছেন ৫০ জনের বেশি। নিহতদের মধ্যে ৮ শিশু ও ১৬ জন নারী রয়েছেন।”

দীর্ঘদিনের সুপারস্টার হিসেবে বিজয় এখন তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে বড় প্রভাব বিস্তার করছেন। ২০২৪ সালে দল গঠনের পর থেকে তার জনসভাগুলোতে বিপুল ভিড় হচ্ছে, যা ২০২৬ সালের রাজ্য নির্বাচনকে সামনে রেখে আরও বেড়েছে।

তবে এই বিপুল সমাগম বারবার নিরাপত্তাজনিত সমস্যা তৈরি করছে। গত বছরও বিজয়ের এক সমাবেশে অন্তত ৬ জনের মৃত্যু হয়েছিল। প্রশাসনের ভিড় নিয়ন্ত্রণ ও ভেন্যু পরিবর্তনের বিধিনিষেধ সত্ত্বেও যথেষ্ট শৃঙ্খলা রক্ষা করা যাচ্ছে না।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এক্সে শোক জানিয়ে লেখেন, “কারুরের রাজনৈতিক সমাবেশে ঘটে যাওয়া এই দুঃখজনক ঘটনাটি অত্যন্ত বেদনাদায়ক।” তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা ও আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।

google news সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন

মন্তব্য করুন