

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


বাউলের একতারা আর মরমী সুরের মেলবন্ধনে যিনি বাংলার মাটি ও মানুষের নাড়ির স্পন্দন চিনিয়েছিলেন, তিনি বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম।
জীবন ও সৃষ্টির এক দীর্ঘ পথচলা শেষে ২০০৯ সালের এই দিনে তিনি না ফেরার দেশে চলে গেলেও, তার কালজয়ী গান আজও বাঙালির প্রতিটি হৃদয়ে সুরের মূর্ছনা তোলে। প্রয়াণের এত বছর পরও লোকসংগীতে তার উপস্থিতি সমানভাবে দীপ্ত ও জীবন্ত।
১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার উজানধল গ্রামের এক দরিদ্র পরিবারে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর শৈশব কেটেছে চরম প্রতিকূলতার মধ্যে। তবে অভাব-অনটন বা দুস্তর দারিদ্র্য তার সংগীতের প্রতি গভীর টানকে একটুও ম্লান করতে পারেনি।
ছোটবেলা থেকেই হাতের একতারা আর অন্তরের আকুলতা সম্বল করে তিনি সংগীতকে জীবনের ব্রত হিসেবে বেছে নেন, যা পরবর্তীতে তাকে পৌঁছে দেয় এক অনন্য উচ্চতায়।
সংগীতের এই দীর্ঘ যাত্রায় তিনি দীক্ষা নিয়েছিলেন প্রথিতযশা সাধক কমর উদ্দিন, রশিদ উদ্দিন এবং শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের কাছ থেকে। পাশাপাশি ফকির লালন শাহ, পাঞ্জু শাহ ও দুদ্দু শাহর দর্শন তার ভাবনায় গভীর রেখাপাত করেছিল। গুরুদের শিক্ষা আর নিজের স্বকীয় সৃষ্টিশীলতার আলোয় তিনি বাউল ও আধ্যাত্মিক গানকে দিয়েছেন এক স্বতন্ত্র মাত্রা।
কৃষিকাজের সাথে যুক্ত থেকে মাটি ও মানুষের কাছাকাছি জীবন কাটানো শাহ আবদুল করিমের গানে ফুটে উঠেছে নিখাদ প্রেম, বিরহ এবং সাধারণ মানুষের জীবনের নানা অনুভূতি।
একই সাথে সমাজের অন্যায়, অবিচার ও কুসংস্কারের বিরুদ্ধে তার কণ্ঠ ছিল সর্বদা সোচ্চার। ‘বন্দে মায়া লাগাইছে’, ‘আগে কী সুন্দর দিন কাটাইতাম’ কিংবা ‘গাড়ি চলে না’-র মতো অমর সৃষ্টিগুলো দেশের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে সমাদৃত হয়েছে।
সংগীতে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০১ সালে তিনি ভূষিত হন মর্যাদাপূর্ণ একুশে পদক-এ। এছাড়াও লাভ করেন রাগিব-রাবেয়া সাহিত্য পুরস্কার, মেরিল-প্রথম আলো আজীবন সম্মাননাসহ বহু স্বীকৃতি।
বাউল সম্রাট শাহ আবদুল করিম কেবল একজন শিল্পী নন, তিনি বাংলার লোকসংগীতের আকাশে এক চিরভাস্বর নক্ষত্র, যা প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে নতুন প্রাণের সঞ্চার করে যাবে।

