

সম্পাদকঃ মোঃ আল হাদী
৪১৬ তোপখানা রোড, শিশু কল্যাণ পরিষদ, ঢাকা, বাংলাদেশ
টেলিফোনঃ +৮৮(০২) ৫৮৩১২৯৫৮, ৫৮৩১২৮২২ফেক্সঃ ৫৮৩১২৯৮১[email protected]


সম্প্রতি ‘আওয়ারাপান ২’ সিনেমার অনবদ্য সাফল্যের মধ্য দিয়ে বলিউড অভিনেতা ইমরান হাশমি আবারও আলোচনা ও লাইমলাইটে ফিরে এসেছেন।
ক্যারিয়ারের এই আনন্দঘন মুহূর্তেও জীবনের সবচেয়ে অন্ধকার এবং কঠিন একটি অধ্যায় তাকে আবারও আবেগপ্রবণ করে তুলেছে- যা ছিল তার একমাত্র সন্তান আয়ান হাশমির ক্যানসারের সঙ্গে দীর্ঘ লড়াইয়ের করুণ স্মৃতি।
যেভাবে থমকে গিয়েছিল জীবন
ঘটনাটি ২০১৪ সালের ১৩ জানুয়ারির। অন্যান্য স্বাভাবিক দিনের মতোই পরিবারের সবাইকে নিয়ে বিকেলে পিৎজা উপভোগ করছিলেন ইমরান। কিন্তু আচমকাই ছন্দপতন ঘটে, যখন তিনি তার মাত্র তিন বছর বয়সী ছেলে আয়ানের প্রস্রাবে রক্ত দেখতে পান।
দেরী না করে তাকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়। হাসপাতালে পৌঁছানোর মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যে চিকিৎসকরা জানান, আয়ানের কিডনিতে প্রথম পর্যায়ের ক্যানসার ধরা পড়েছে। একটি সুখী পরিবারের জীবন যেন নিমেষেই বদলে যায় বিষাদে।
অস্ত্রোপচার, কেমোথেরাপি ও দীর্ঘ সংগ্রাম
খবর পাওয়ার পরদিনই আয়ানকে অস্ত্রোপচারের মুখোমুখি হতে হয়। এরপর শুরু হয় কেমোথেরাপি ও দীর্ঘমেয়াদী চিকিৎসার এক মানসিক ও শারীরিক ধকল।
পরের কয়েক বছর ইমরান ও তার পুরো পরিবারকে কাটাত হয়েছে চরম মানসিক উদ্বেগ এবং অনিশ্চয়তার মধ্য দিয়ে।
ক্যানসারকে হারিয়ে জয়ী ‘সুপারহিরো’
অবশেষে টানা পাঁচ বছরের নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসা ও অদম্য লড়াই শেষে ২০১৯ সালে চিকিৎসকরা আয়ানকে পুরোপুরি ‘ক্যানসারমুক্ত’ ঘোষণা করেন।
সন্তানের এই লড়াই এবং ঘুরে দাঁড়ানোর গল্পটি পরে ইমরান হাশমি বইয়ের পাতায় বাঁধাই করে রাখেন।
তার লেখা ‘দ্য কিস অব লাইফ: হাউ আ সুপারহিরো অ্যান্ড মাই সান ডিফিটেড ক্যানসার’ বইটিতে সন্তানকে সুস্থ করে তোলার প্রতিটি পর্যায় ও লড়াইয়ের গল্প ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
ছেলের অদম্য মানসিক জোরের এই পথচলা আজও ইমরান হাশমিকে গভীরভাবে ভাবায় এবং জীবনকে এক নতুন দৃষ্টিভঙ্গি থেকে দেখতে শেখায়।


